অনিল ঘরানার অবসান, গণশক্তির সম্পাদক বদলে সিপিএম-কে গ্রাস সেলিমের

গণশক্তিকে কেন্দ্র করে সিপিএমের অন্দরের লড়াই ফের প্রকাশ্যে

সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তির সম্পাদক পরিবর্তন। যা নিয়ে দলে আড়াআড়ি বিভাজন। পার্টির-ই একাংশের অভিযোগ, প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের চিন্তাধারাকে মুছে দিতে চাইছে আলিমুদ্দিনের বর্তমান ম্যানেজারেরা। তিল তিল করে গণশক্তিকে তৈরি করেছিলেন প্রয়াত রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস। তাঁর হাত ধরে গণশক্তিতে একটি টিম তৈরি হয়েছিল,দল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরেও যে টিম অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও গণশক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, ক্ষমতায় না থাকার ১২ বছর অনেক অভাব অভিযোগের পরও যাঁরা গণশক্তিকে ধরে রেখেছেন, তাঁদেরকেই এবার পত্রপাঠ বিদায় করে দিলেন মহম্মদ সেলিম। যা আসলে গণশক্তিতে অনিল বিশ্বাস ঘরানাকে অপমানের সামিল।

সেলিম কুক্ষিগত করার আগে গণশক্তিকে অনিল ঘরানার
শেষ সম্পাদক ছিলেন দেবাশিস চক্রবর্তী। অনিল বিশ্বাসের পর নারায়ণ দত্ত। তারপর অভীক দত্ত। তারপর দেবাশিস চক্রবর্তী। একটা ধারায় গণশক্তির সম্পাদক পরিবর্তন হয়ে এসেছে। যিনি যখন সম্পাদক, পরবর্তী সময়ে তাঁর ডেপুটি সেই দায়িত্ব পেয়ে এসেছেন, এটাই গণশক্তির রীতি ছিল। সেইমতো দেবাশিস চক্রবর্তীর পরে তাঁর ডেপুটি অতনু সাহার
দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু অতনু ব্রাত্য! তাঁর পরিবর্তে আচমকা শমীক লাহিড়ীকে গণশক্তির সম্পাদক করলেন মহম্মদ সেমিল। অনিল বিশ্বাস ঘরনার নাম-নিশান মুছতেই যে গণশক্তিতে শমীক উড়ে এসে জুড়ে বসলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে সেলিম শিবির গ্রাস করতে চাইছে। ১ ডিসেম্বর থেকে শমীক লাহিড়ী আনুষ্ঠানিক ভাবে গণশক্তির সম্পাদকের দায়িত্ব নেবেন।

প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ী বহুদিনের পার্টি সদস্য। কিন্তু
সাংবাদিকতায় তাঁর কোনও অভিজ্ঞতা নেই। শেষ কয়েক বছর ভোটে দাঁড়িয়ে ঘুরে ঘুরে হেরেছেন। কোন যুক্তিতে সেলিম শিবির গণশক্তিতে শমীককে সম্পাদক করল, সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না সিপিএমের নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, সাংবাদিক দেবাশিস চক্রবর্তী ঘুরে ঘুরে পার্টি ক্লাস করতেন। পার্টি লাইন বজায় রেখে খবর ও অন্যান্য দিক নিয়ে ভাল কাজ করতেন। প্রচার বিমুখ ছিলেন। নেপথ্যে থেকেই পার্টি মুখপত্রকে পরিচালনা করতেন। কিন্তু তাঁকে অন্য দায়িত্ব দিয়ে নিউটাউনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরেই গণশক্তির যাঁরা হোলটাইমার – কর্মী এবং সাংবাদিক, তাঁদের সঙ্গে সেলিম শিবিরের কিছু কিছু বিষয় মতপার্থক্যের খবর বাইরে আসছিল। এবার সেই টিমটাকেই কার্যত অস্বীকার করা হল বলে মনে করছে পার্টির অনেক রাজ‌্য নেতাই। সিপিএমের অন্দরেই গুঞ্জন, পার্টির প্রাক্তন রাজ‌্য সম্পাদক তথা বামফ্রন্টের বর্তমান চেয়ারম‌্যান বর্ষীয়ান বিমান বসু গণশক্তির এই পরিবর্তন চাননি। কিন্তু বিমান বসু এখন অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র! তাঁর হাতে কিছু নেই। দুর্যোধনের হাতেই পার্টি রয়েছে। এই মন্তব‌্য পার্টির এক কমরেডের-ই।

আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, গণশক্তি পত্রিকায় বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত কিছু অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হচ্ছিল। ২ মাসেরও বেশি সময় গণশক্তির কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছিলেন না। যা নিয়ে রাজ্য সম্পাদক সেলিম আলিমুদ্দিনে বিক্ষোভের মুখেও পড়েছিলেন। এবার অনিল ঘরানার সম্পাদক পরিবর্তন করে সেলিম একদিকে যেমন বিক্ষোভের প্রতিশোধ নিলেন, অন্যদিকে মুখপত্রের নিয়ন্ত্রণটাও নিজের হাতে নিলেন।

এদিকে যাঁকে গণশক্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই শমীক লাহিড়ীকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকের পদ ছাড়তে হতে পারে শমীককে। যিনি দায়িত্বে থেকে জেলায় পার্টিটাকে লাটে তুলে দিয়েছিলেন। তবে সেদিকেও নজর সেলিমের। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সুজন চক্রবর্তী নতুন করে আবার যেন প্রভাব খাটাতে না পারেন, তাই শমীকের বিকল্প জেলা সম্পাদকও নিজের শিবির থেকে সেলিম তৈরি রেখেছেন বলে আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর। সবমিলিয়ে গণশক্তিকে কেন্দ্র করে সিপিএমের অন্দরের লড়াই প্রকাশ্যে।

 

Previous articleহিজাবে ‘না’, জেলেই অনশনে বসলেন ইরানের নোবেল জয়ী প্রতিবাদী নার্গিস
Next articleকলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির স্বামী প্রভাব খাটাচ্ছেন মামলায়, সুপ্রিম কোর্টে প্রৌঢ়া