Wednesday, January 14, 2026

টাকা নিয়ে সেটিং, বিভাজনের রাজনীতি: নাম না করে নওশাদকে নিশানা অভিষেকের

Date:

Share post:

২০২৪-এর বিধানসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে একজোট হয়েছে বিরোধী শিবির। ওই কেন্দ্রে দাড়ানোর ঘোষণা করেছেন বাম সমর্থিত আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। শুক্রবার ফলতার জনসভা থেকে নওশাদের নাম না করেই বার্তা দিলেন অভিষেক। জানালেন, “অনেকেই ডায়মন্ড হারবার থেকে দাঁড়ানোর বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। দাঁড়াক, এটাই গণতন্ত্র।” এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “চাইলে গুজরাটের থেকে কেউ এসেও দাঁড়াতে পারেন।” তবে একইসঙ্গে সিপিএম ও বিজেপির সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি জানালেন, “ডায়মন্ড হারবারকে অশান্ত করতে চাইলে আমার মৃতদেহের উপর থেকে করতে হবে।”

এদিন ফলতার জপনসভা থেকে অভিষেক বলেন, “ডায়মন্ড হারবারে যে দাঁড়াতে চায় দাঁড়াতে পারে। এটাই গণতন্ত্র। উত্তরপ্রদেশ-গুজরাট যেখান থেকে পারেন যে কেউ দাঁড়ান। তবে ২০১৯ সালে ৩ লক্ষ ২১ হাজারের ব্যবধানের মধ্যে ফলতার ব্যবধান ছিল ৪৫ হাজার। এবার সেটা ৭০ হাজার করতে হবে। এই সভায় যে সংখ্যায় মানুষ এসেছেন, আরও ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায়। এরা ভোট দিলে ওরা উড়ে যাবে। ৩.২১ লক্ষের ব্যবধানকে ৪ লক্ষে পৌঁছে দিতে হবে এবার।” একইসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারে বিজেপি ও সিপিএমের সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “বিজেপি চেষ্টা করেছিল এখানে দাঙ্গা লাগানোর। আমি দাঁড়িয়ে থেকে সেই দাঙ্গার আগুন নিভিয়েছিলাম। ডায়মন্ডহারবারকে অশান্ত করতে চাইলে আমার মৃতদেহের উপর থেকে করতে হবে। সিপিএম চেষ্টা করেছিল সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে সংখ্যালঘু প্রার্থী করে কীভাবে হারানো যায়। তবে বিভাজনের অঙ্কে যারা ভোটে দাঁড়িয়েছিল তাঁদের নামও কেউ মনে রাখেনি। আমি যতদিন আছি, এখানে কোনওদিন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেব না।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, “ভোটের আগে ওরা আপনার ভোট কিনতে টাকা দেবে। টাকাটা নিয়ে নেবেন, ওটা আপনার টাকা। কিন্তু ভোটটা পদ্মফুলের বদলে জোড়াফুলে দিয়ে দেবেন।”

উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে ‘ত্রিফলা’ জোট তৈরি হচ্ছে বলে বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে লড়বেন নওশাদ সিদ্দিকি। আর তাঁকে সমর্থন দেবে বিজেপি, বাম, কংগ্রেস। ভোট কাটাকাটির অঙ্কে বিরোধীদের এই চক্রান্ত ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই বিষয়ে নাম না করে প্রতিদ্বন্দ্বীকে রাজনীতির ময়দানে স্বাগত জানিয়ে অভিষেক বলেন, “জনপ্রতিনিধির কাজ ‘জুমলা’ করা নয়, টাকা নিয়ে সেটিং নয়, ধর্মের নামে ভেদাভেদ নয়, তাঁদের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।” বহু আলোচিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে সামনে রেখে ব্যাপক উন্নয়নই যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের ভুল ভিত্তি সে কথা এদিন স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন অভিষেক।

spot_img

Related articles

হাই কোর্টে নিয়ন্ত্রণ শুনানি পর্ব: বুধে ইডি-আইপ্যাক মামলার আগে জারি নির্দেশিকা

একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দুপক্ষের দায়ের করা মামলা কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta...

চন্দ্রকোণায় প্রতিবাদ মিছিল শুভেন্দুর: কাল্পনিক, ভিত্তিহীন অভিযোগ, দাবি তৃণমূলের

আরও একবার বিরোধী দলনেতা নিজের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করার চেষ্টায়। নির্বাচনের আগে কোনও ইস্যু...

আক্রান্ত উত্তর ২৪ পরগনায় দুই নার্স! নিপা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের...

রাজনীতির রঙ ভুলে শেষ শ্রদ্ধা সমীর পুততুণ্ডকে: দেহ দান এসএসকেএমে

বাংলার রাজনীতি যে সবসময় সৌজন্য শেখায় তা আবার এক মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল। মঙ্গলবার প্রয়াত পিডিএস...