Wednesday, February 25, 2026

টাকা নিয়ে সেটিং, বিভাজনের রাজনীতি: নাম না করে নওশাদকে নিশানা অভিষেকের

Date:

Share post:

২০২৪-এর বিধানসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে একজোট হয়েছে বিরোধী শিবির। ওই কেন্দ্রে দাড়ানোর ঘোষণা করেছেন বাম সমর্থিত আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। শুক্রবার ফলতার জনসভা থেকে নওশাদের নাম না করেই বার্তা দিলেন অভিষেক। জানালেন, “অনেকেই ডায়মন্ড হারবার থেকে দাঁড়ানোর বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। দাঁড়াক, এটাই গণতন্ত্র।” এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “চাইলে গুজরাটের থেকে কেউ এসেও দাঁড়াতে পারেন।” তবে একইসঙ্গে সিপিএম ও বিজেপির সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি জানালেন, “ডায়মন্ড হারবারকে অশান্ত করতে চাইলে আমার মৃতদেহের উপর থেকে করতে হবে।”

এদিন ফলতার জপনসভা থেকে অভিষেক বলেন, “ডায়মন্ড হারবারে যে দাঁড়াতে চায় দাঁড়াতে পারে। এটাই গণতন্ত্র। উত্তরপ্রদেশ-গুজরাট যেখান থেকে পারেন যে কেউ দাঁড়ান। তবে ২০১৯ সালে ৩ লক্ষ ২১ হাজারের ব্যবধানের মধ্যে ফলতার ব্যবধান ছিল ৪৫ হাজার। এবার সেটা ৭০ হাজার করতে হবে। এই সভায় যে সংখ্যায় মানুষ এসেছেন, আরও ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায়। এরা ভোট দিলে ওরা উড়ে যাবে। ৩.২১ লক্ষের ব্যবধানকে ৪ লক্ষে পৌঁছে দিতে হবে এবার।” একইসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারে বিজেপি ও সিপিএমের সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “বিজেপি চেষ্টা করেছিল এখানে দাঙ্গা লাগানোর। আমি দাঁড়িয়ে থেকে সেই দাঙ্গার আগুন নিভিয়েছিলাম। ডায়মন্ডহারবারকে অশান্ত করতে চাইলে আমার মৃতদেহের উপর থেকে করতে হবে। সিপিএম চেষ্টা করেছিল সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে সংখ্যালঘু প্রার্থী করে কীভাবে হারানো যায়। তবে বিভাজনের অঙ্কে যারা ভোটে দাঁড়িয়েছিল তাঁদের নামও কেউ মনে রাখেনি। আমি যতদিন আছি, এখানে কোনওদিন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেব না।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, “ভোটের আগে ওরা আপনার ভোট কিনতে টাকা দেবে। টাকাটা নিয়ে নেবেন, ওটা আপনার টাকা। কিন্তু ভোটটা পদ্মফুলের বদলে জোড়াফুলে দিয়ে দেবেন।”

উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে ‘ত্রিফলা’ জোট তৈরি হচ্ছে বলে বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে লড়বেন নওশাদ সিদ্দিকি। আর তাঁকে সমর্থন দেবে বিজেপি, বাম, কংগ্রেস। ভোট কাটাকাটির অঙ্কে বিরোধীদের এই চক্রান্ত ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই বিষয়ে নাম না করে প্রতিদ্বন্দ্বীকে রাজনীতির ময়দানে স্বাগত জানিয়ে অভিষেক বলেন, “জনপ্রতিনিধির কাজ ‘জুমলা’ করা নয়, টাকা নিয়ে সেটিং নয়, ধর্মের নামে ভেদাভেদ নয়, তাঁদের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।” বহু আলোচিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে সামনে রেখে ব্যাপক উন্নয়নই যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের ভুল ভিত্তি সে কথা এদিন স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন অভিষেক।

spot_img

Related articles

AI ব্যবহারে ‘অমিত’ হয়েছে ‘O-Mit’! আক্রমণ শানিয়ে জ্ঞানেশকে গ্রেফতারির দাবি সাকেতের

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছে, যাতে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটার বিপদের মুখে...

ডবল ইঞ্জিনের অসমে টাকা না পেয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ, কড়া পদক্ষেপের দাবি সাংসদ সুস্মিতার   

ডবল ইঞ্জিনের রাজ্য অসমে (Assam) নারী নিরাপত্তা তলানিতে। বিজেপি (BJP) শাসিত  অসমের (Assam) শিলচরে (Shilchar) সাতজন যুবক মিলে...

প্রবল তুষারপাতে বন্ধ রাস্তা, সেনা নামিয়ে উদ্ধার কয়েক হাজার পর্যটক

প্রবল তুষারপাতে বিপর্যস্ত উত্তর- পূর্ব সিকিম (North-East Sikkim)। ভরা মরশুমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বহু...

অভিষেকের নির্দেশে পাকিস্তানে আটক মৎস্যজীবীদের বাড়ি তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়ক

নামখানার তিন জন মৎস্যজীবী আটক রয়েছেন পাকিস্তানে। তিন বছর হয়ে গেল খোঁজ নেই আজও। এদিকে চিন্তায় রয়েছেন তাঁর...