Wednesday, June 17, 2026

তৃণমূলের তালিকা থেকে বাদ ৭৪: কেউ হতাশ, কেউ দিলেন হুমকি, কেউ আবার স্বস্তিতে

Date:

Share post:

ঠিক যেন পরীক্ষার ফলাফল বেরোনো। প্রার্থী হওয়ার আবেদন তো প্রত্যাশী সকলেই করেছিলেন। কিন্তু কে যোগ্য, কার জন্য কোন আসন বরাদ্দ, তার চূড়ান্ত করেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এবং সেক্ষেত্রে এবারে চূড়ান্ত গোপণীয়তা অবলম্বন করা হয়েছে। যার ফলে তালিকা (candidate list) প্রকাশের পরেই দেখা গেল ৭৪ জন বিধায়ককে (TMC MLA) তালিকায় আর রাখা হয়নি। তার মধ্যে যেমন ছিলেন সেলিব্রিটি বিধায়ক, তেমনই ছিলেন দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে পোড় খাওয়া নেতা-নেত্রীও। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের পরে অনেক দলের প্রতি আস্থা যেমন প্রকাশ করেছেন, তেমন আবার দলের বিপরীতে গিয়ে হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি বিদায়ী বিধায়ক।

নির্বাচনের আগেই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত দলকে জানিয়েছিলেন অভিনেতা দীপক চক্রবর্তী ওরফে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjit)। প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে বারাসতের প্রার্থী হয়েছেন সব্যসাচী দত্ত। চিরঞ্জিৎ জানিয়েছেন, তিনি আগেই বলেছিলেন কোনও পদ পাওয়ার থেকে বড় তাঁর কাছে একজন অভিনেতা বা একজন সৎ মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকা। কারণ তাঁর প্রধান কাজ তাঁর সততাকে রক্ষা করা।

দলের তরফ থেকে টিকিট না পাওয়ার আভাস আগেই পেয়েছিলেন আরেক অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick)। তালিকা প্রকাশের পর তিনি জানান, দল তাঁকে যোগ্য মনে করে পাঁচ বছরের জন্য বিধায়ক করেছিল। এরপর তিনি যে টিকিট পাবেন না এমনটাও তাঁকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার জন্য তাঁর দলের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে না। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে যে দায়িত্ব পাবেন, তা পালন করবেন।

রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুক্ত নেতাদের এবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে তৃণমূল। সেখানেই তৃণমূলের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা একাধিক ব্যক্তিত্বকে এবার তালিকার বাইরে থাকতে হয়েছে। সেই বাদের তালিকায় রয়েছেন বলাগড়ের বিদায়ী বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Bapari)। তবে এটা তিনি আন্দাজ করেছিলেন, এমনটাই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার মনোরঞ্জন তাই প্রার্থী তালিকা ঘোষণাতেও চোখ রাখেননি বলেও জানান। সেই সঙ্গে স্পষ্ট জানান, কোনও দুর্নীতির কালি না মেখে তিনি বিধায়ক জীবন শেষ করেছেন।

অরাজনীতিক ব্যক্তিত্বরা প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে নীরব থাকলেও যে রাজনৈতিক নেতারা তালিকার বাইরে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলের কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন চূঁচূড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার (Ashit Majumder)। রাজনীতি থেকেই অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। তবে দলের বিরোধিতার কথা তাঁর মুখে নেই। তাঁরই মতো অভিমানী জপাইগুড়ির রাজগঞ্জের (Rajganj) বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy)। তিনি দলের জেলা সভাপতিও। কিন্তু প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের কথাও ঘোষণা করে দেন।

যদিও এঁদের মতো মুখ বন্ধ করে পরিস্থিতি মেনে নিতে রাজি নন অনেকেই। উত্তর চব্বিশ পরগণার আমডাঙা থেকে প্রার্থী ঘোষণা হতেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমানের (Rafiqur Rahman) অনুগামীরা। রফিকুর দাবি করেন, কোনও কারণ ছাড়াই তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থেকে প্রার্থী করা হয়নি মনিরুল ইসলামকে (Monirul Islam)। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে বিডিও অফিস ভাঙচুরের। প্রশাসন ও তৃণমূল – উভয়েরই মুখ পোড়ে। ফলে তাঁকে প্রার্থী না করাতে যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল। কিন্তু তাঁকে প্রার্থী না করানোয় রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, প্রার্থী তিনি হবেনই। যদিও কীভাবে তা প্রকাশ করেননি। আবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়নি সওকত মোল্লাকে (Saokat Molla)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয় ক্যানিংয়ের জীবনতলায়।

আরও পড়ুন : সংগঠনেই আস্থা: নয় জেলায় জেলা পরিষদ সভাধিপতিরাই তৃণমূলের প্রার্থী

অবশ্য তৃণমূলেরই এর উল্টো ছবিও দেখা গিয়েছে। বীরভূমের সিউড়ি থেকে প্রার্থী করা হয়নি বিদায়ী বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরিকে। তাতে বিন্দুমাত্র ক্ষোভ প্রকাশ না করে বিকাশ (Bikash Roy Chowdhury) জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁকেই তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। দলের প্রার্থী হওয়ার থেকে অন্য অনেক কাজ রয়েছে যা তিনি করতে চান। আবার হাওড়ার শিবপুর থেকে প্রার্থী করা হয়নি প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিকে। তবে এদিন প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

Related articles

অভিজ্ঞতায় আস্থা রেখে জেলাস্তরে সাংগঠনিক রদবদল মমতার

বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের দিকে আঙুল উঠতে শুরু করেছিল,...

আরজি করের রক্ষক কেন্দ্রীয় বাহিনীই ভক্ষক! রোগীর মেয়েকে হোটেলে ধর্ষণ 

এদের হাতেই নাকি সুরক্ষিত আরজি কর (RG Kar Medical College and Hospital)! আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে নারী সুরক্ষার জন্য...

প্রশিক্ষণ শেষের পথে, আগামী মাসেই লালবাজারে আরও ২ ট্র্যাকার ডগ!

খুনি -অপরাধী খুঁজতে লালবাজারের (Lalbazar) ভরসা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরে। আর কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতা পুলিশের হাতে (Kolkata Police) আসতে চলেছেআরও...

দিল্লিতে গ্রেফতার ৭ সন্দেহভাজন পাক জঙ্গি!

দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) স্পেশাল সেলের প্রচেষ্টায় গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ISI-এর সমর্থিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের...