Saturday, May 9, 2026

পশ্চিম মেদিনীপুরের সাংগঠনিক বৈঠকে কড়া নির্দেশ, নেত্রীর টনিকে চাঙ্গা জেলা নেতৃত্ব

Date:

Share post:

লোকসভা নির্বাচনই পাখির চোখ। তাই এখন থেকে দলের সাংগঠনিক দিক চাঙ্গা করতে বৈঠক শুরু করলেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)৷ বুধবার প্রথম বৈঠক পশ্চিম মেদিনীপুর (West Mednipur) জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে৷ নেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, বুথওয়াড়ি কর্মসূচি নিতে হবে৷ মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে৷ রাজ্য সরকারের উন্নয়নকে যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনই একইসঙ্গে মানুষকে বোঝাতে হবে বাংলার জন্য, দেশের জন্য বিজেপি ও তাদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কতটা ভয়ঙ্কর৷ ধর্মকে সামনে রেখে বিজেপির যে বিভাজনের রাজনীতি তাকে বাংলায় আমরা প্রতিহত করেছি৷ লোকসভা নির্বাচনে ফের করতে হবে৷ মমতা ছাড়াও বৈঠকে দিকনির্দেশ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)৷ তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও জেলা নেতৃত্বকে একাধিক কর্মসূচির নির্দেশ দিয়েছেন৷

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, নিজেদের মধ্যে সবকিছু ভুলে একযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে৷ দলে কোনও বিষয়ে কারও ভিন্ন মত থাকতে পারে৷ কিন্তু কোনও অবস্থাতে তা নিয়ে বাইরে মুখ খোলা চলবে না৷ দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে সবাইকে৷

বৈঠক শেষে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়া বলেন, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলার বঞ্চনার বিরুদ্ধে, বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে, বাংলার অর্থনীতিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি ব্লকে, অঞ্চলে, হাটে-বাজারে আন্দোলন কর্মসূচি গড়ে তুলতে হবে৷ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না৷ লড়াই হবে তীব্র থেকে তীব্রতর৷ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে কীভাবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ১০০ দিনের কাজের টাকা ও আবাস যোজনার টাকা বিজেপি সরকার আটকে রেখেছে৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর নবজোয়ার কর্মসূচির অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন৷ নেত্রীও বিজেপির এক একটি জনবিরোধী বিষয়কে তুলে ধরে বুঝিয়ে দেন মিটিংয়ে-মিছিলে কীভাবে এগুলিকে মানুষের সামনে আনতে হবে৷

দলকে এখন থেকেই রাস্তায় নামার পরামর্শ দিয়েছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের বৈঠকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সর্বস্তরের নেতা-নেত্রী ও সাংগঠনিক পদাধিকারীদের নেত্রীর স্পষ্ট  নির্দেশ, নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখেই এককাট্টা হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে  সর্বাত্মক লড়াইয়ে নামতে হবে। অজিত মাইতি, সাংসদ দেব, বিধায়ক জুন মালিয়া, মন্ত্রী  মানস ভুঁইয়া-সহ জেলার সব বিধায়ক ও সংগঠনের নেতৃত্বকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির সুবিধা মানুষ ঠিকঠাক পাচ্ছেন কি না সেদিকে নজর রাখতে বলেছেন। বিশেষ করে আদিবাসী  ও জনজাতি গোষ্ঠী এলাকায় আরও বেশি করে জনসংযোগ করতে বলা হয়েছে।

Related articles

দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক হলেন সুব্রামানি! নাম ঘোষণা পরবর্তী নৌসেনা প্রধানেরও

৩০ মে সেনা সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেয়াদ শেষ হচ্ছে অনিল চৌহানের। এরপরে কে হবেন পরবর্তী সেনা সর্বাধিনায়ক? এনিয়ে জল্পনা...

শ্যামাপ্রসাদের সহকর্মী নবতিপর মাখনলালকে সম্বর্ধনা, ব্রিগেডে বাংলার সিনে-সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টরা 

বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থেকে শুরু করে...

বর্ণাঢ্য ব্রিগেডে গৈরিক আমেজ, মাদল-ছৌ নাচ-বাউল সুরে বাঙালিয়ানায় শান!

রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর সকালে এক অন্যরকম বাংলার ছবি। 'হে নূতন দেখা দিক আর-বার' বলেছিলেন যে বিশ্বকবি, পঁচিশে বৈশাখের সকালে...

বিজেপি মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আজ কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিজেপি। এবার সরকার গড়ার পালা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই,...