Thursday, February 12, 2026

“ক্ষমা চান মোদি-নাড্ডা”, পুলিশ আধিকারিককে ‘খালিস্তানি’ মন্তব্যে সরব তৃণমূল

Date:

Share post:

সন্দেশখালিতে শিখ আইপিএস আধিকারিককে ‘খালিস্তানি’ বলে আক্রমণ শুভেন্দু বাহিনীর। একজন কর্তব্যরত আধিকারিককে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলের এহেন ধর্মীয় আক্রমণের ঘটনায় মঙ্গলবার নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা দেশে। এই ইস্যুতে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠল শাসকদল তৃণমূল। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হলেন সদ্য নির্বাচিত তৃণমূলের রাজ্যসভার ৪ সাংসদ সুস্মিতা দেব, সাগরিকা ঘোষ, মমতাবালা ঠাকুর ও নাজিমুল হক। পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মার আচরণের বিরুদ্ধেও সরব হন তৃণমূল সাংসদরা।

এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে শিখ আধিকারিককে বিজেপির ‘খালিস্তানি’ মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়ে তৃণমূল সাংসদ নাজিমুল হক বলেন, “যেভাবে একজন শিখ পুলিশ আধিকারিককে বিজেপি নেতা নেত্রীরা খালিস্তানি জঙ্গি বলেছে আমরা তাঁর তীব্র নিন্দা করছি। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করাই এদের(বিজেপি) কাজ। আমাদের দিদি সর্বদা সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেন। বাংলায় এসে দেখুন বাংলায় এই একতা রয়েছে, বিজেপি চায় সেটা ধ্বংস করতে। এখানকার শান্তি নষ্ট করতে।” পাশাপাশি এই ইস্যুতে সরব হন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, “একটি ভিডিওতে দেখলাম বিজেপির বিধায়করা সন্দেশখালি গেছেন। সেখানে একজন শিখ ধর্মাবলম্বী পুলিশ আধিকারিককে ‘খালিস্তানি’ জঙ্গি বলে আক্রমণ করেছেন। এতে প্রমাণ হয়ে গেছে যে বিজেপি একটি ধর্মীয় দল, বিভাজনের দল। ওদের আসল চরিত্র একবার নয় বারবার প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। বাংলা এমন একটি রাজ্য যেখানে বিভিন্ন রাজ্য থেকে মানুষ এসে বাস করেন। আমরা একতায় বিশ্বাসী। এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি নাড্ডাজিকে বলতে চাই, “ওনাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ যেভাবে একজন বিশেষ ধর্মের মানুষকে এভাবে খালিস্তানি জঙ্গি বলে অপমান করা হল তার জন্য।”

এছাড়াও সদ্য সন্দেশখালি ঘুরে গিয়ে বাংলায় রাষ্ট্রপতি সাসনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হতে দেখা যায় তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষকে। একটি স্বশাসিত সংস্থার প্রধানের পদে থেকে রেখা শর্মার রাজনৈতিক মুখপাত্রের মতো আচরণের বিরোধিতা করে সাগরিকা বলেন, “যেখানে মাসের পর মাস হিংসা চলছে। মহিলাদের নগ্ন করে রাস্তায় ঘরানো হচ্ছে সেই মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন হবে না! অথচ যেখানে পুলিশ তদন্ত করছে। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ডিআইজি র‍্যাঙ্কের মহিলা পুলিশ আধিকারিকরা অভিযোগ নিচ্ছেন ও মানুষকে ভরসা দিচ্ছেন, সমস্ত রকমের অভিযোগ নেওয়ার জন্য ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন করতে চান উনি। এমন রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের জন্য রেখা শর্মার লজ্জা হওয়া উচিৎ।”

একইসঙ্গে সুস্মিতা দেব বলেন, “রেখা শর্মা হলেন একজন ট্যুরিস্ট। উনি ইচ্ছে হলে বাংলায় আসেন, ইচ্ছে না হলে মধ্যপ্রদেশে যান না। ইচ্ছে না থাকায় ৪০ দিন পরে মণিপুরে যান, উনি বিজেপির যেখানে সুবিধা করা যায় শুধু সেখানেই যান। উনি বিজেপির একটি পুতুল। ওনার অতীত দেখবেন বিজেপির কোন কোন পদে উনি ছিলেন। আমি চ্যালেঞ্জ করছি বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য যা করেছেন তাঁর এক শতাংশ বিজেপি করে দেখাক।”

spot_img

Related articles

উত্তর দেওয়ার আগে একবার যাচাই করলেন না! লোকসভায় অর্থমন্ত্রীর ভাষণে স্তম্ভিত অভিষেক

বাজেট বক্তৃতার জবাবী যে সব বক্তৃতা বিরোধী সাংসদরা দিয়েছেন, তার মধ্যে সব থেকে বেশি বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারকে যে...

বন্দেমাতরমে বঙ্কিম-রবীন্দ্র রাজনীতি বিজেপির: শ্রদ্ধা নেই, দাবি তৃণমূলের

বিজেপি বাঙালিদের প্রতি অতি শ্রদ্ধাশীল, আচমকাই দেশজুড়ে তা প্রমাণে মরিয়া মোদি সরকার। তা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাঙালির...

হিংসাত্মক আচরণ করলেই পরীক্ষা বাতিল, অ্যাডমিট কাড়বে সংসদ: কড়া নজরদারি উচ্চ মাধ্যমিকে 

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। শিক্ষাক্ষেত্রে বড় বদল ঘটিয়ে এই প্রথম সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা...

কোথায় বিচার: প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ আরজিকর নির্যাতিতার বাবা-মা

শিয়ালদহ কোর্ট থেকে হাই কোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টের সফরও সেরে ফেলেছেন। আরজিকরের নির্যাতিতার বাবা-মা। এখনও বিচারের আশায় হাই...