Thursday, June 4, 2026

জন্মহার নিয়ে বিপাকে বিশ্ব! কী ভাবছে ভারত- পাকিস্তান – বাংলাদেশ

Date:

Share post:

কোথাও জন্মহার বেশি, কোথাও কম। জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় কতটা বিপাকে বিশ্ব? শিশু জন্মহার এখন আরও কমে ০.৭২ শতাংশে নেমে এসেছে। গত ২০২২ সালে ছিল ওই হার ছিল ০.৭৮ শতাংশ। সরকারি তথ্য বলছে দক্ষিণ কোরিয়ায় শিশুদের জন্মহার আগে থেকেই বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর। আগামী বছর এই সংখ্যা আরও কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জন্মহার বাড়ানোর জন্য এবার টাকা দিয়ে সাহায্য করার কথাও বলা হয়েছে। পৃথিবীর কয়েকটি দেশে যেমন ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে চিত্রটা অন্যরকম। তিনটি দেশেই ঘন জনবসতিপূর্ণ। এই দেশগুলোতে আবার বাড়তে থাকা জনসংখ্যায় রাশ টানতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন জনসংখ্যা এবং যুব প্রজন্মের জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে জন্মের হার অন্তত ২.১ শতাংশ হওয়া উচিত। এর থেকে কম হলে যে কোনও দেশে সমস্যা বাড়তে শুরু করে। চিন এই ঘটনার জলজ্যান্ত উদাহরণ। অতীতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কয়েক দশক ধরে এক সন্তান নীতি গ্রহণ করেছিল দেশটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের জনসংখ্যা শুধু কমতে শুরু করেছে তাই নয়, আগামী ৩০-৪০ বছরে সেখানে কাজ করা তরুণদের সংখ্যাও কমতে শুরু করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাপানে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সাল থেকে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে জনসংখ্যা প্রায় আট লক্ষ কমেছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। কোরিয়ার মতো জাপানের নারী-পুরুষরাও অবিবাহিত থাকতে পছন্দ করে। সেই কারণে সেখানকার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে যেখানে যুবসমাজকে বিয়ের জন্য রাজি করাতে নানা পদক্ষেপ করা হয়। কিন্তু তাতেও খুব একটা ইতিবাচক ফল মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এই প্রবণতাকে ‘জাপানের সবচেয়ে গুরুতর সংকট’ বলে অভিহিত করেছেন। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও একই ছবি। দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা অন্যরকম। ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের তিনটি বৃহত্তম দেশে জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ভারতে ১৯৭০-এর দশকে ‘হাম দো, হাম দো, হাম দো’র মতো পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে এটি প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। কেরালা, গোয়া, জম্মু ও কাশ্মীর, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং অন্যান্য অনেক রাজ্যে জন্মহার রিপ্লেসমেন্ট রেটের নীচে নেমে গেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়লেও সেখানকার সরকার দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আবার পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ যার জন্মহার প্রতিস্থাপনের হারের চেয়ে অনেক বেশি। এবার যদি ইউরোপের দিকে তাকানো যায় তাহলে বোঝা যাবে যে বিয়ে বা সন্তান ধারণের প্রবণতা আগের থেকে কমছে। অদূর ভবিষ্যতে জীববৈচিত্রে এর গভীর প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


Related articles

তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ! গ্রেফতার স্বরূপ বিশ্বাস 

স্টুডিও পাড়ায় কলাকুশলীদের থেকে তোলাবাজি, মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ...

বিজেপির উচ্ছেদ অভিযান! ধ্বংস হকারদের জীবন-জীবিকা! রাস্তায় সর্বহারারা 

কলকাতায় মঙ্গলাহাট বা হাতিবাগান, জেলা স্তরে কোচবিহার বা কাকদ্বীপ— ছবিটা মোটের ওপর একই। নয়া বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার...

পাহাড়ে ‘স্থায়ী সমাধান’ খুঁজতে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি রাজু বিস্তারা 

দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে...

হাইকোর্টের নির্দেশে ১৯ জুনেই পুর-অধিবেশন, ঘোষণা মালা রায়ের 

কলকাতা হাইকোর্টের সবুজ সংকেত মিলতেই আগামী ১৯ জুন কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডাকলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। বৃহস্পতিবার এক...