Thursday, June 25, 2026

মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে ফের নজির গড়ল এসএসকেএম

Date:

Share post:

ফের মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে অনন্য নজির গড়ল রাজ্যের সেরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পিজি বা এসএসকেএম। প্রায় ৫ ফুট লম্বা বাঁশ। গলার বাঁদিক দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর। ট্রলিতে শুয়ে কাতরাচ্ছে যুবক। নাম শুভদীপ রায়। বাড়ি হুগলির সন্তোষপুরে। রবিবার সন্ধ্যায় এমনই দৃশ্যের সাক্ষী হল এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টার। ট্রমা কেয়ারে যুবকের শরীর থেকে কীভাবে প্রায় পাঁচ ফুটের বাঁশ বের করা হবে তা নিয়ে সংশয়ে পড়ে যান খোদ চিকিৎসকরাই। শেষ পর্যন্ত আলোচনার পর ঠিক হল সিটিভিএস বা কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরাই শরীর থেকে ওই বাঁশ বের করবেন। সঙ্গে সঙ্গে ট্রমা কেয়ার সেন্টার থেকে সিটিভিএস বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় রোগীকে। তৈরি রাখা হয় ২ ইউনিট রক্ত। রোগীকে আনা হল অপারেশন টেবিলে। সিটিভিএস সার্জেন অধ্যাপক ডাঃ শুভেন্দু মহাপাত্র বলছেন, রোগীকে অজ্ঞান করে তাঁর শরীর থেকে ওই বাঁশ বের করাটা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। একটু উঁচু করতেই দেখা যায় স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালি ও মহাধমনির গা ঘেঁষে শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছে ওই বাঁশ। সৌভাগ্যক্রমে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে সমস্ত ধমনি। অপারেশনের দায়িত্বে থাকা আর এক চিকিৎসক ডাঃ সুরজিৎ সরকার বলছেন, গলা ও পিঠের দিকের চামড়া কিছুটা অংশ কেটে ফেলে আস্তে আস্তে ওই বাঁশ বের করা হয়। তারপরই স্বস্তি পেলেন রোগী। স্বস্তিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সফল অপারেশনের পর সোমবার সকালেই ওই যুবককে ট্রমা কেয়ারে রেড জোন সেভেনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ডাঃ শুভেন্দু মহাপাত্র জানিয়েছেন, কপালের জোরে বেঁচে ফিরেছেন ওই যুবক। ওই ভাবে বাঁশ ঢোকার পরও গলা ও বুকের সমস্ত ধমনি কীভাবে অক্ষত রইল তা ভাবতেই পারছি না। সোমবার দুপুরে রাইলস টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হয়েছে রোগীকে। দুর্ঘটনায় ওই যুবকের নিচের ঠোঁটও কেটে গিয়েছে। পরে সেখানে প্লাস্টিক সার্জারি করা হবে বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক কালে এমন মুমূর্ষু রোগীর সফল অপারেশন হয়নি এসএসকেএমে। হাসপাতালে আসার পর ওই যুবক চিকিৎসকদের জানান, সন্ধেবেলা তিনি বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আচমকাই তাঁর বাইকের সামনে কোনও একটি প্রাণী এসে পড়ে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাইক নিয়ে রাস্তার পাশের খড়ের গাদায় তিনি পড়ে যান। খড়ের গাদায় থাকা বাঁশ তাঁর গলা ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। সেই অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সোজা পিজিতে নিয়ে আসেন। সফল অপারেশনের পর আপাতত স্বস্তিতে তাঁর পরিবার।

আরও পড়ুন- স্ত্রীকে রেখে ‘আধি ঘরওয়ালিকে’ নিয়ে পালালেন শিক্ষক

 

Related articles

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ‘সর্বজনীন’ নয়! বিধানসভায় স্পষ্ট স্বীকারোক্তি অর্থমন্ত্রীর

রাজ্য বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নতুন অন্নপূর্ণা...

মূল ষড়যন্ত্রকারী কে? কেতন খুনে ধন্দে পুলিশ

পুণের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগারওয়াল (Ketan Agarwal Murder Case) খুনে মূল চক্রী কে, তাই নিয়ে ধন্ধে পুলিশ।...

ঋণমুক্তির কোনো রোডম্যাপ নেই বাজেটে! তোপ শোভনদেবের

রাজ্যের ঋণের বোঝা কমানোর কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বাজেটে। উল্টে বিরোধী আসনে থাকার সময় যে সব সামাজিক প্রকল্পের...

তারাতলার বিপর্যয়ে দোষী হলে প্রাক্তন মেয়রও গ্রেফতার হোন: দাবি তৃণমূল বিধায়কের

তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) দোষীদের গ্রেফতারের প্রস্তাবকে সমর্থন করলেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক...