Friday, March 13, 2026

দলের নির্দেশের পরেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, ক্ষমা চাইতে নারাজ অখিল গিরি!

Date:

Share post:

দলের নির্দেশের পরেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন কারামন্ত্রী অখিল গিরি (Akhil Giri)। কিন্তু সরকারি আধিকারিকের কাছে ক্ষমা চাইবেন না। ঔদ্ধত্য বজায় রাখলেন অখিল। বন দফতরের আধিকারিক মনীষা সাউকে হুমকি-কুকথার জেরে রবিবারই কারামন্ত্রীকে ফোন করেন তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি (Subrata Bakshi)। অখিলকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ওই মহিলা রেঞ্জ অফিসারের কাছে ক্ষমাও চাইতে বলা হয়। পদত্যাগ করলেও ক্ষমা চাইতে রাজি নন রামনগরের বিধায়ক (Akhil Giri)।ইস্তফার নির্দেশ দিয়েছে দল। তা মেনে নিয়ে তিনি জানান, রবিবারই তিনি ইস্তফাপত্র ইমেল করে দেবেন। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দেবেন। তাঁর কথায়, “আমার কাজে হয়তো দলের ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারণেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি মেনে নিলাম। মন্ত্রিত্ব ছাড়া আমার কাছে বড় ব্যাপার নয়।”

শনিবার, সেই জবরদখল তুলতে গেলে বনদফতরের আধিকারিক মনীষা সাউকে বাধা দেন রামনগরে বিধায়ক তথা মন্ত্রী অখিল গিরি। শুধু তাই নয়, রীতিমতো মহিলা আধিকারিককে হুমকি দিতে শোনা যায় কারামন্ত্রীকে। এই ঘটনার পরেই তীব্র নিন্দা করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন কুণাল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীও ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগেও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূকে নিয়ে অসম্মানজনক কথা বলেছিলেন অখিল গিরি। এই নিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চান খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের মহিলা সরকারি আধিকারিককে হুমকি দেন কারামন্ত্রী। ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশেই অখিলকে ফোন করেন তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সভাপতি। তাঁকে পদত্যাগের পাশাপাশি ক্ষমা চাইতেও বলা হয়।

তবে, নিজের বক্তব্যে অনড় অখিল মন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি হলেও ক্ষমা চাইবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। বলেন, “ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।” তাঁর কথায়, “আমার কাজে হয়তো দলের ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারণেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি মেনে নিলাম। মন্ত্রিত্ব ছাড়া আমার কাছে বড় ব্যাপার নয়।”

তৃণমূলের মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, “আমাদের মন্ত্রী মহিলা আধিকারিকের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, দলের তরফে আমরা তা সমর্থন করি না। এর প্রতিবাদ করেছি। বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা মহিলা আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী টেলিফোনে অখিল গিরির সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধর্ম পালন এ ভাবে একমাত্র তৃণমূলই করতে পারে।” জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, তৃণমূলের দৃঢ়তা আছে বলেই এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ করতে পারে। তবে এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী তথা আদিবাসী তৃণমূল নেত্রী বীরবাহা হাঁসদার সম্পর্কে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে জানান জয়প্রকাশ। সুতরাং, এই প্রসঙ্গে বিজেপির মন্তব্য করার উচিত নয় বলে মত তৃণমূল মুখপাত্র।






spot_img

Related articles

হরমুজে ভারতকে ছাড় দিচ্ছে ইরান: প্রতিশ্রুতি ইরানি রাষ্ট্রদূতের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তিন দেশকে ছাড় দেওয়ার পর চতুর্থ দেশ হতে পারে ভারত। শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা...

মাঝপথে থমকাল সুনিধির সুরের সফর: আপাতত পিছল কলকাতার অনুষ্ঠান

লাগাতার সঙ্গীত সফরে ক্লান্ত গায়িকা। লখনউয়ের (Lucknow) মঞ্চে গাইতে গিয়েই গলায় সমস্যা হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন সুনিধি চৌহান...

ইরাকে ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধ বিমান, বিবৃতি ট্রাম্প সেনাবাহিনীর

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যেই পশ্চিম ইরাকে ভেঙে পড়ল আমেরিকার (US Military Aircraft Crash) সামরিক বিমান কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান...

সাত অভিযোগ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে: ২০০ স্বাক্ষরে ইমপিচমেন্ট পাশ সময়ের অপেক্ষা!

সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট পাশ হওয়া কী সময়ের অপেক্ষা? শুক্রবার তৃণমূলের নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা...