Monday, March 23, 2026

কী হয়েছিল অভিশপ্ত রাতে? সংবাদ মাধ্যমে জানালেন আর জি করের চেস্ট বিভাগের প্রধান

Date:

Share post:

গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতে আরজি কর হাসপাতালে (R G Kar Madical College And Hospital) নৃশংসভাবে তরুণী পড়ুয়া চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুন করা হয়। সেই চূড়ান্ত নিন্দনীয়-মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে রাজ্য তথা দেশজুড়ে প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে। সব আলোচনায় উঠেছে নানা প্রশ্ন। তার মধ্যে প্রধান হল, কেন কেউ কোনও শব্দ পেলেন না? কেন প্রথমে বাড়িতে বলা হল মেয়ে আত্মহত্যা করেছে? কে এই খবর দিয়েছেন? কেন বাবা-মাকে বসিয়ে রাখা হল? এই সবের উত্তর দিয়েছেন আর জি করের ফুসফুস এবং চেস্ট বিভাগের প্রধান ডা. অরুণাভ দত্ত চৌধুরী (Anurabha Dutta Chowdhury) । মৃতা তাঁরই বিভাগের মহিলা চিকিৎসক। অরুণাভ দত্ত চৌধুরী (Anurabha Dutta Chowdhury) জানান, তিনি দেহ দেখেননি। কারণ, ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বলেন, “আমি সে ভাবে দেখিনি। যে বর্ণনা আমি শুনেছিলাম, তা শোনার পরে কাছেও যাইনি। আমি দূর থেকে দেখেছিলাম মেয়েটি পড়ে রয়েছে। তার পোশাক-আশাক অবিন্যস্ত। সে রক্তাক্ত ছিল কি না, তা-ও বুঝতে পারিনি।“ তাঁর কথায়, বলেন, “আমি ওই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। মেয়েটির বাড়ির ফোন নম্বর জোগাড় করার পর সহকারী সুপার বাড়িতে ফোন করে মৃত্যুর খবর দিয়েছিলেন। তবে ময়নাতদন্তের আগে এভাবে না জেনে কেউ আত্মহত্যার কথা বলে থাকে তাহলে সেটা অন্যায় হয়েছিল।”

এভাবে নারকীয় অত্যাচার চলল, তাও বাইরে কেউ কিছু টের পেলেন না কেন? চেস্ট মেডিসিনের এইচওডি-র জানান, “ওই ঘরে এসি চলে। এসি চললে ভিতরের আওয়াজ বাইরে আসে না। তবে আমি জানি না, সেই সময় সেখানে এসি চালানো ছিল কি না।“

সেমিনার হল কি সব সময় খোলা থাকে? উত্তরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন প্রধান ডা. অরুণাভ দত্ত চৌধুরী। জানান, “সেমিনার রুমে ক্লাস হয়। পড়াশোনা করে পড়ুয়ারা। ঘটনার দিনও বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ক্লাস হয়েছে। তারপর সাড়ে আটটায় দরজায় তালা দিয়ে দেওয়া হয়। চাবি থাকে নার্সদের কাছে। ওই দিন কখন আবার কে সেমিনার রুম খুলল বুঝতে পারছি না।” তাহলে, কে খুলল ঘর! উত্তরে তিনি বলেন, আমি সিবিআই নই।

এদিন আর জি কর চত্বরে অরুণাভকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান পড়ুয়ারা। তবে, চেস্ট মেডিসিনের এইচওডি জানান, তিনি ঘটনার মাত্র ৮দিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ঘটনাটি তাঁকে ফোন করে জানান ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মী। ডা. দত্ত চৌধুরী বিষয়টি আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং তৎকালীন সুপার সঞ্জয় বশিষ্ঠকে ফোনে বলেন।

কিন্তু ময়নাতদন্তের’আগেই কীভাবে ‘আত্মহত্যা’ বলে মন্তব্য করা হল! সংবাদমাধ্যমের কাছে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের চেস্ট মেডিসিনের এইচওডি জানান, এটা একেবারেই উচিৎ হয়নি। খবর পেয়ে মৃতা চিকিৎসকের বাবা-মা পৌঁছন। অভিযোগ, অরুণাভের ঘরেই তাঁদের দীর্ঘ ক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়েছিল। চেস্ট মেডিসিনের এইচওডি-এর কথায়, “মেয়েটির মা-বাবা যখন আসেন, তখন পুলিশ চলে এসেছিল। তারা তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছিল বলেই তাঁদের আমার ঘরে বসতে দেওয়া হয়েছিল। ইচ্ছা করে বসিয়ে রাখা হয়নি।”






Related articles

ভোটে নজরদারিতে, স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর ভাবনা কমিশনের

বিধানসভার (2026 election) ভোট ঘোষণার পরেই শীর্ষস্তর থেকে জেলাস্তরের প্রশাসনিক স্তরে ঢালাও রদবদল করেছে কমিশন(Election Commission)। শান্তিপূর্ণ ভোট...

নির্বাচনের মুখে বড় ভাঙন কংগ্রেসে! ভোটের মুখে পদ্ম-শিবিরে নাম লেখালেন সন্তোষ পাঠক

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর যখন সব দলই ময়দানে নেমে পড়েছে, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা খেল জাতীয় কংগ্রেস।...

বাংলাজুড়ে জনসংযোগ-পাড়া বৈঠকে ঝড় তুলছেন তৃণমূল প্রার্থীরা, মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারে মমতা-অভিষেক

ক্যালেন্ডারের পাতায় ঠিক একমাস বাকি। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। আর তার ঠিক ত্রিশ দিন আগে থেকে...

আরজি কর লিফট-মৃত্যু কাণ্ডে এবার জনস্বার্থ মামলা হাই কোর্টে

আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকে মৃত্যুর ঘটনায় এবার কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল। হাসপাতালের...