Sunday, June 14, 2026

আজ অনুমতিহীন নবান্ন অভিযান নিয়ে সতর্ক কলকাতা পুলিশ

Date:

Share post:

আর  জি কাণ্ডের প্রতিবাদী আন্দোলনের নাম করে ‘ছাত্র সমাজ’-এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নবান্ন (Nabanna) অভিযানে গন্ডগোলের আশঙ্কায় ৬ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হল। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) তরফে জানানো হয়েছে হাওড়া যাওয়ার পথে কমবেশি ১৯টি জায়গায় ব্যারিকেড করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বদল করা হবে। সকাল ৮টা থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে বলে খবর মিলেছে। আজ পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে পথে থাকছেন ২৬ জন ডেপুটি কমিশনার (DC) পদমর্যাদার আধিকারিকও।

রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার (Supratim Sarkar) এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ বর্মা সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’ নামে যে সংগঠন এই মিছিলের ডাক দিয়েছে তারা কলকাতা পুলিশের কাছে কোনরকম অনুমতি চাইনি। পুলিশের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে নবান্নের কাছে কোন রকমের মিছিল করা সম্ভব নয় তার কারণ নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা আইনের ১৬৩ ধারা (পুরনো ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা) জারি থাকে। অর্থাৎ সেখানে পাঁচ বা তাঁর বেশি জনের জমায়েত বেআইনি। সোমবার সকালের সেই সাংবাদিক বৈঠকের পরেই তাঁদের কাছে দু’টি ইমেল এসে পৌঁছয় বলে জানা সুপ্রতিম। এর মধ্যে একটি ইমেল পাঠিয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’। কিন্তু তারা শুধুমাত্র কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেছেন, কোনও অনুমতি চায়নি। দ্বিতীয় ইমেলটি এসেছিল সংগ্রামী যৌথমঞ্চের তরফে। সেই ইমেলে নিয়ম মেনে অনুমতি চাওয়া হলেও সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। কলকাতা হাই কোর্টের নিয়ম মেনে কর্মসূচি সংক্রান্ত যে সমস্ত জরুরি তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয়, যেমন তাঁরা কোন পথে এগোবেন, কী কর্মসূচি , কোথায় অবস্থান করবেন, সেই সব তথ্য ছাত্র সমাজের তরফে জানানো হয়নি। পুলিশ এই মিছিলেকেও অনুমতি দেয়নি। ফলে আজকের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বেআইনি। পাশাপাশি নবান্ন অভিযানের নেপথ্যে অশান্তির ছক কষা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক পুলিশ।

সোমবার সকালেই নবান্ন অভিযান নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল তৃণমূল। দু’টি গোপন ভিডিয়ো প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, নবান্ন অভিযানে গুলি চালানো হতে পারে।তথাকথিত ‘ছাত্র সমাজ’ ওই কর্মসূচির ডাক দিলেও এর নেপথ্যে অন্য চক্রান্তের ইঙ্গিত পাচ্ছে পুলিশ।মিছিলের সামনে মহিলা এবং ছাত্রদের রেখে আড়াল থেকে অশান্তি সৃষ্টি এবং অভিযান থেকে পুলিশকে বলপ্রয়োগ করতে উস্কানি দেওয়া হতে পারে বলেই মনে করছেন মনোজ বর্মা ও সুপ্রতিম সরকার। ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে কোথায় কোথায় মিছিল আটকানো হবে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। ১৯ জায়গায় তৈরি ব্যারিকেডের মধ্যে পাঁচ জায়গায় অ্যালুমিনিয়ামের দেওয়াল থাকছে। সকাল আটটা থেকে ৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ৬ জন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ২৬ জন ডিসির তত্ত্বাবধানে রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। কলেজ স্কোয়ার থেকে আসা মিছিল স্ট্র্যান্ড রোড এবং মহাত্মা গান্ধী রোডের সংযোগস্থলে আটকে দেওয়া হবে। এই এলাকায় ১ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ২ যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ৮ অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট কমিশনার, ২০ জন ইন্সপেক্টর, ৯০ জন আধিকারিক এবং ৬০০ পুলিশকর্মী রয়েছেন।


Related articles

দেশটা গণতান্ত্রিক না একনায়কতান্ত্রিক, স্পষ্ট করুন: ককরোচদের মঞ্চে দাবি সোনমের

দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থার বে-হাল দশা ও NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির ডাক দিয়ে সরব 'ককরোচ...

বাংলার নতুন গোয়েন্দা পরমব্রত! ওয়েব সিরিজে চমক দিতে তৈরি অভিনেতা 

বাঙালির অন্যতম প্রিয় গোয়েন্দা আইকন 'ফেলুদা'র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee)। বাদ পড়েনি...

FIFA World Cup: বিশ্বকাপে ভারত যোগ, ২০ বছর নতুন ইতিহাস লিখলেন অস্ট্রেলিয়ার নিশান

ফিফা বিশ্বকাপে ভারত যোগ। চলতি বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি দলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার আছে। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে মাঠে নেমে ইতিহাস...

ছেলে টিকিট না পাওয়ায় ‘বিদ্রোহী’ কাকলি! সাফাই দিতে আসরে সাংসদ-পুত্র

বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পর লোকসভাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেসের আলাদা ব্লক তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন কাকলি ঘোষ...