যেভাবে দলের বিরুদ্ধে লোকসভায় জোট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন তৃণমূলের এক শ্রেণির ‘বিদ্রোহী’ বলে দাবি করা সাংসদ, তা আদতে দেশের সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধী। এতদিন প্রকাশ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব এই দাবি করেছিলেন। এবার লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের চিঠি নিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও সাংসদ কীর্তি আজাদ। দল ভাঙা সাংসদরা নিজেদের আলাদা জোট তৈরির চিঠি স্পিকার ওম বিড়লার হাতে তুলে দেওয়ার আগেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের ‘অন্যায়’ দাবিকে স্পিকারের কাছে তুলে ধরা হল রবিবার।

স্পিকারকে যে চিঠি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তৃণমূল একটি এবং অভিন্ন দল। সেক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের রায়। যেখানে উল্লেখ করা হয়, সংসদীয় ক্ষেত্রে সংসদীয় দলের থেকে রাজনৈতিক দলের বক্তব্যই চূড়ান্ত। সংংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী সংসদীয় দলে কোনওরকম ভাগ গ্রাহ্য নয়। যদি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কোনও একটি থেকে দল ভাঙার পরিস্থিতি হয় সেক্ষেত্রে ভেঙে বেরোলে তাঁদের বাতিল করে দেওয়ার পথ খোলা সংবিধানে। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্লেখ করে জানানো হয়, লোকসভার স্পিকার রাজনৈতিক দলকেই সমর্থন করবেন, ভেঙে বেরোনো অংশকে নয়।

সংবিধান ও আইনের উল্লেখ করে তৃণমূলের দলনেতার চিঠিতে স্পিকারকে মূলত তিনটি অনুরোধ করা হয়। প্রথমত, স্পিকারের বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসা এই চিঠিকে যেন রেকর্ড হিসাবেই গণ্য করা হয়। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলকে একটি ও অভিন্ন দল হিসাবেই যেন গণ্য করা হয়। সেই সঙ্গে নতুন করে গজিয়ে ওঠা কোনও অংশকে যেন স্বীকৃতি না দেন স্পিকার। তৃতীয়ত, যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে তাঁদের বক্তব্য পেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : বিদ্রোহীদের বিজেপি নেবে না: শান্তুনুর দাবি, ‘মডেল’ নিয়ে প্রশ্ন কুণালের

রবিবার বিকালে সেই চিঠি নিয়ে লোকসভার তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ও রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ স্পিকার ওম বিড়লার বাড়ি যান। সেখানে চিঠি জমা দিয়ে তাঁরা দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে এভাবে কোনও দল ভাঙা যায় না। মহারাষ্ট্রে যা হয়েছে তা-ও ঠিক হয়নি। সেই আবেদনই দেওয়া হয়েছে স্পিকারকে। আমাদের প্রত্যাশা আইনকে মাথায় রেখে যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সেভাবেই পদক্ষেপ নেবেন স্পিকার।

