Saturday, January 17, 2026

সব সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দিলাম: সরাসরি আন্দোলন মঞ্চে পৌঁছে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

মুখ্যমন্ত্রীর মাস্টার স্ট্রোক। শনিবার বেলা ১টা নাগাদ সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নামঞ্চে হাজির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর সেখানে গিয়ে তিনি ঘোষণা করলেন সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ এবং সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালগুলির (Super Specialty Hospital) রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়া হল। নতুন করে কমিটি গড়ার কথাও জানান মমতা।আর জি কর-কাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। বারবার আলোচনার প্রস্তাব গিয়েছে নবান্নের তরফে। ৩ দিন দুঘণ্টা করে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষা করার পরেও আলোচনার টেবিলে আসেননি আন্দোলনকারীরা। এদিন সটান জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নাস্থলে পৌঁছে যান মমতা। সেখানে গিয়েই তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ এবং সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালগুলির রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়া হল। শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ স্বাস্থ্যভবনের সামনে জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে দেখে “We Want Justice” স্লোগান ওঠে। স্লোগানে কোনও আপত্তি জানাননি মমতা। বরং জানান আন্দোলনে সমর্থন রয়েছে তাঁর। তিনি চাই তিলোত্তমার বিচার। আন্দোলনকারীদের দাবি বিবেচনা করার পাশাপাশি রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, “আর জি কর মেডিক্যালের রোগী কল্যাণ সমিতিও ভেঙে দিলাম। বাকি সব মেডিক্যাল কলেজেরও ভেঙে দিলাম। নতুন করে তৈরি করব। আমার উপর ভরসা থাকলে, দোষীরা শাস্তি পাবেন।”

মুখ্যমন্ত্রী কথায়, “আপনারা আমাদেরই ঘরের ভাইবোন। আপনারা কাজে যোগ দিন। আপনাদের প্রতি আমি কোনও অবিচার করব না। হাসপাতালের উন্নতি, পরিকাঠামো, সব কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি এবং করব। সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি, রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ, মাল্টি সুপার হাসপাতালে যত রোগী কল্যাণ সমিতি আছে, তাতে অধ্যক্ষদের চেয়ারম্যান করব। জুনিয়র ডাক্তাররাও সদস্য হবেন, সিনিয়র ডাক্তারও থাকবেন, নার্সও থাকবেন, একজন জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

মমতা স্পষ্ট জানান, “দোষীরা কেউ আমার শত্রু বা বন্ধু নন। আপনারা যাদের বন্ধু ভাবছেন আমার, আমি তাদের চিনি না। আমাদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে আসেন তাঁরা। চূড়ান্ত হয়ে আসে আমার কাছে। মাত্র একমাস যারা এসেছে, তাদের কেউ যদি খুন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, সাধ্যমতো ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”

জুনিয়র ডাক্তারদের কাজের প্রতি আস্থা রেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা অনেক কাজ করেন। আপনাদের আমাদের প্রয়োজন। ভরসা রাখলে, আস্তে আস্তে আমি সব করে দেব। একদিনে সব হয় না, আমাকে একটু সময় দিন। দুর্নীতির কোনও কিছু, কোনও টেন্ডার আজ পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি। রোগী কল্যাণ সমিতি কী কাজ করে, আমি জানি না। আমার আওতায় পড়ে না। আপনাদের অভিযোগ থাকলে অবশ্যই পদক্ষেপ করব। বিনা কারণে কাউকে সাজা দেওয়া যায় না। তদন্তে প্রমাণিত হলে অবশ্যই সাজা দেব। মনে রাখবেন সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। ১৭ তারিখেও শুনানি আছে। আমি চাই না, কোনও ক্ষতি হোক আপনাদের। আমি মুখ্যমন্ত্রী নই, আপনাদের দিদি হিসেবে বলতে এসেছি।”









spot_img

Related articles

বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার ৩০! সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার বার্তা পুলিশ সুপারের 

বেলডাঙায় তাণ্ডবের ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই...

ভিড়ের মাঝেই অসুস্থ কর্মী! অভিভাবকের মতো আগলালেন অভিষেক

সভায় ঝাঁঝাঁলো ভাষণের মাঝে এক অনুগামীর অসুস্থতা চোখ এড়ায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিভাবকের মতোই তাঁকে আগলালেন। বহরমপুরের মঞ্চে তখন...

ভুল না পরিকল্পিত! কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরালেন না মুখ্যমন্ত্রী

মণীশ কীর্তনীয়া বাংলার প্রতি এতটুকু অপমান তিনি কোনোদিন মেনে নেননি আর কখনও নেবেনও না। শনিবার ফের বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী...

এসআইআর-এর চাপ! নন্দীগ্রাম-ইলামবাজারে গণইস্তফা বিএলওদের 

এসআইআর পর্বে দুর্ভোগ শুধু ভোটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বাড়ছে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মধ্যেও। নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রতিনিয়ত...