Friday, April 24, 2026

আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী: বৈঠক বিফল হলেও সরকারের সদিচ্ছার বার্তা চন্দ্রিমার

Date:

Share post:

মুখ্যমন্ত্রী নিজে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। চিকিৎসকদের দাবি মেনে একাধিক পদক্ষেপও নিয়েছেন। তারপরেও অপমানিত হয়েছেন। কিন্তু তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী নয়, একজন দিদির মত পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের। শনিবার বৈঠক বিফল হওয়ার পরেও রাজ্য সরকার যে সমস্যা সমাধানে এখনও প্রস্তুত সেই বার্তাই দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকে ডাকা হলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। আন্দোলনের প্রথম ধাপ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সদিচ্ছা দেখিয়েছেন তার বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তিনি নিজে বলেছেন যা কিছু আছে খতিয়ে দেখবেন। এমনকি তারা সাতজনকে সরিয়ে দিতে বলেছিলেন, সেই সাতজন ডাক্তারকে সরানো পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী সব সময় সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। জুনিয়র ডাক্তারদের যাতে অসুবিধা না হয় দেখেছেন।”

কিন্তু শনিবার কী হল? ধর্নামঞ্চে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তাঁর সদিচ্ছা নিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে ধর্না মঞ্চে সকালে গিয়েছিলেন। ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি সকলকে আবেদন করেছিলেন তাঁরা যেন বৃষ্টিতে না ভেজেন। তাঁদের সব দাবি তিনি খতিয়ে দেখবেন। সেখানে দাঁড়িয়ে কয়েকটি দাবি সেখানেই তিনি মেনে নিয়েছিলেন। রোগী কল্যাণ সমিতি তিনি ভেঙে দেন। বলেছেন পড়ুয়ারা রোগী কল্যাণ সমিতির মধ্যে থাকবে, একথাও তিনি জানান।”

ধর্নামঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে না, দিদি হিসাবে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যাতেও যখন জুনিয়র চিকিৎসকরা তাঁর বাসভবনে যান, তখন সেখানেও একইভাবে দায়িত্বের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের পরিচয় পাওয়া যায়। চন্দ্রিমা বলেন, “আটটার সময় বাসভবনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে বলেছেন তোমরা ছোট, আমার কষ্ট হচ্ছে তোমরা ভিজছ। ভিজে শরীর খারাপ হবে। তাঁদের মাথায় ছাতা যেন থাকে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।”

সেই সঙ্গে শনিবার রাতে তাঁদের বের করে দেওয়ার যে অভিযোগ জুনিয়র চিকিৎসকরা তুলেছেন, তা নিয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা জানান, “মুখ্যমন্ত্রী নটা অবধি অপেক্ষা করলেন। তারপর যখন আধিকারিকরা ও আমরা বেরোতে যাচ্ছি ওদেরকে বলে যে আমরা বেরিয়ে যাচ্ছি, তখন ওরা বললেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে। যা যা তাঁদের শর্ত ছিল তাঁরা আর সেগুলোর উপর জোর দিচ্ছেন না।” পাশাপাশি ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “ঘাড় ধাক্কা কিসের জন্য দেব! মুখ্যমন্ত্রীকে অনেকে অনেক কিছু বলেছে, তিনিও ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর পথ অনুসরণ করি এবং আমিও মা। মুখ্যমন্ত্রী কিছু মনে করেননি। আমিও কিছু মনে করছি না।”

Related articles

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আজ জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে সিইও

নির্বিঘ্নে বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি ভোট দানের হার রীতিমতো রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয়...

সিরিয়াল ছেড়ে নজরে ভোটের খবর, নির্বাচনী আবহে টলিপাড়ার টিআরপিতে মন্দা !

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই জমে উঠেছে (Election Time)। প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট দান এখন খবরের শিরোনামে। তবে শুধু...

দ্বিতীয় দফার প্রচারে আজ কলকাতা-সহ শহরতলিতে নির্বাচনী কর্মসূচি মমতা-অভিষেকের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদান শেষে, এবার নজর দ্বিতীয় দফায় (second phase of West Bengal assembly...

দেড় বছর ধরে নাবালিকাকে লাগাতার যৌন নির্যাতন! গ্রেফতার অভিযুক্ত 

শহর কলকাতার বুকে ফের যৌন নিগ্রহের শিকার নাবালিকা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড় বছর ধরে লাগাতার শারীরিক সম্পর্কের নামে...