Tuesday, June 23, 2026

মহিলাদের জন্য নিরাপদ নয় বিজেপি-সিপিএম শাসিত রাজ্য, তথ্য প্রকাশ NCRB-র

Date:

Share post:

বাংলাকে নিয়ে কুৎসা রটানো রাম-বাম শাসিত রাজ্যে ধর্ষণ সবচেয়ে বেশি, তথ্য দিয়ে জানালো ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (National Crime Records Bureau)। বাংলায় মহিলারা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত (Women are safe in West Bengal)। কেন্দ্রীয় সংস্থা NCRB দেশের মহিলাদের জন্য অসুরক্ষিত শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে নাম নেই পশ্চিমবঙ্গের। মহিলা নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে, রাজ্য ও জাতি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ যে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এগিয়ে তা বারবার বলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আর জি কর হাসপাতালে (RG Kar Medical College & Hospital)চিকিৎসক তরুণীর মৃত্যুর পর থেকে যেভাবে তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে, কুৎসা আর অপপ্রচারে বাংলাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে তা যথেষ্ট নিন্দনীয়। ভারতের অন্যতম অঙ্গরাজ্য হিসেবে পশ্চিমবাংলা ভারতের বাকি বড় রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত এবং মহিলাদের জন্য তুলনামূলক ভাবে নিরাপদ- কলকাতায় চিকিৎসকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য তা ফের প্রমাণ করে দিল। সিপিএম শাসিত কেরল বা বিজেপি শাসিত রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম, হরিয়ানা, ওড়িশা বা নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহর সরাসরি অধীনস্থ দিল্লির (Delhi)তুলনায় বাংলায় মহিলারা ভাল আছেন।


ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) তথ্য অনুসারে, দিল্লিতে নির্ভয়ার গণধর্ষণ ও হত্যার পর থেকে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। দেশে রিপোর্ট হওয়া প্রতি পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ৪ জন রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কেরল, অসম, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং দিল্লির। নির্ভয়ার ঘটনার পরের বছরগুলিতে, রাজস্থান, কেরল, হরিয়ানা এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতে রিপোর্ট করা ধর্ষণের ঘটনাগুলি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই হার যথাক্রমে ৮৩ শতাংশ, ৬৬ শতাংশ, ৫২ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ। এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী রাজস্থান মহিলাদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। ২০০৯ সালে সে রাজ্যে ্‌৫১৯টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৫,৯৯৭-এ। নারী অত্যাচারে দ্বিতীয় স্থান কেরলের। গত এক দশকে ২৫৬ শতাংশ ধর্ষণ বেড়েছে বাম শাসিত রাজ্যে (এনারাই আবার বাংলায় জাস্টিস ফর আর জি কর স্লোগানে ঘোলা জলে রাজনীতি করছেন )। ২০০৯ সালে দিল্লিতে ৪৬৯টি ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৫৩-তে। হরিয়ানায় ১৪৫ শতাংশ ধর্ষণ বেড়েছে। ২০০৯ সালে ঝাড়খণ্ডে ৭১৯টি নারী নির্যাতনের রিপোর্ট মিলেছিল যা ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ১,৪১৬-তে। মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং অসমে যথাক্রমে ৫৫, ৩৫ এবং ৯ শতাংশ হারে বেড়েছে ধর্ষণ। রাম রাজ্য মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে এই সংখ্যাটা কার্যত দ্বিগুণ হয়েছে। তাই যাঁরা বাংলার সমালোচনা করছেন, মিথ্যে প্রচারে বাজার গরম করার আগে তাঁদের এই পরিসংখ্যানটাও জেনে নেওয়া উচিত নয় কি? উঠছে প্রশ্ন।

 

Related articles

ইতিহাস না জেনেই নাম বদলের হিড়িক? কলকাতায় মুঘল-ব্রিটিশ নাম মুছতে কমিটি গঠন শুভেন্দুর

কলকাতা শহর থেকে এবার সম্পূর্ণ মুছে যাবে মুঘল এবং ব্রিটিশদের নাম। রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধানসভার...

আর জি কর-কাণ্ডে বিচারের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, বিধানসভায় কেঁদে ফেললেন অভয়ার মা

বিধানসভায় প্রথম জবাবি ভাষণ দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। সেখানেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের...

আর কোনও দিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না, ওই ‘চ্যাপ্টারই ক্লোজ’! কাকে তীব্র নিশানা শুভেন্দুর

”আর কোনও দিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না। ওই 'চ্যাপ্টারই ক্লোজ' হয়ে গিয়েছে”। মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের (Budget Session) শুরুতে...

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিচার চাইলেন তামান্নার মা-মীণাক্ষিরা, দোষীদের দ্রুত শাস্তির আশ্বাস শুভেন্দুর

নদিয়ার কালীগঞ্জে বোমায় নিহত তামান্না শেখের মৃত্যুর এক বছর পূর্তির দিনে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে কলকাতায় গেলেন তার মা সাবিনা...