Wednesday, February 25, 2026

রাজ্যপালের অযাচিত হস্তক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় বিঘ্ন: বিধানসভায় উষ্মা প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর

Date:

Share post:

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের (C V Ananda Bose) ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। বুধবার বিধানসভায় ভবানীপুর গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বিলের উপর আলোচনা শেষে জবাবি ভাষণে শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যপালের অযাচিত হস্তক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিচালনা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাদের শিক্ষার মানের অবনতি হচ্ছে। ৩৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় (University) স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও রাজ্যপাল এই নিয়ে অযথা বিলম্ব করছেন বলে অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর।

বুধবার বিধানসভায় (Assembly) ভবানীপুর গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বিল ২০২৪ পেশ করেন ব্রাত্য বসু ৷ সেই সময় শঙ্কর ঘোষ-সহ বিরোধী বিধায়কদের একাংশ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গুণমান কমে যাওয়ার অভিযোগ করেন ৷ যার জবাবে পাল্টা রাজ্যপাল তথা রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য রাজ্যপাল বোসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী ৷

শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, “রাজ্যপাল (C V Ananda Bose)যেদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে খেলনা বলে মনে করতে শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির এই অবস্থা হতে শুরু করেছে ৷ সুপ্রিম কোর্ট তার নির্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের নেতৃত্বে তৈরি এক্সপার্ট কমিটি নাম দেবে ৷”

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এক্সপার্ট কমিটির পাঠানো তালিকা থেকে মুখ্যমন্ত্রী উপাচার্যদের নাম গিয়েছে, তা রাজভবনে পাঠাবেন ৷ এখানে উপাচার্য নিয়োগে রাজ্যপালের কোনও ভূমিকা নেই৷ রাজ্যপাল শুধু ডাকবাক্স৷ মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো নামে তিনি শুধু অনুমোদন দেবেন ৷ তা সত্ত্বেও তিনি অযথা বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রেখেছেন। একইসঙ্গে করা নামগুলি অনুমোদন না করে দফায় দফায় অনুমোদন দিচ্ছেন। এই অযথা বিলম্বের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিচালন ব্যাহত হচ্ছে।

রাজ্যে ভাষাসংখ্যালঘু পড়ুয়াদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রথম। ভবানীপুরের গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি তৈরি করবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এর আগে বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীরা শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের অভিযোগ করেন। রাজ্যে সাম্প্রতিক একাধিক শিক্ষা দুর্নীতির সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাড়বাড়ন্তের কোনও সম্পর্ক আছে কি না তা নিয়ে বিরোধী পক্ষের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন তোলেন। যদিও শিক্ষামন্ত্রী যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। আলোচনা শেষে ধ্বনি ভোটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি বিধানসভায় গৃহীত হয়।

spot_img

Related articles

ভোটে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই নয়া ফন্দি! BJP-র হয়ে রিল বানালেই ২০ হাজার

ভোটের লড়াইয়ে মাঠে ময়দানের জোর না পেয়ে ডিজিটাল মিডিয়ায় সমর্থন টানতে টাকা হাতে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। ছাব্বিশের...

ফের বাংলার মুকুটের সেরার তকমা, ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে দেশে প্রথম

স্বল্প সঞ্চয়ে ফের দেশের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আওতাধীন বিভিন্ন ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে জমার অঙ্কের নিরিখে প্রথম স্থান...

পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ রাজ্যের! চালু হচ্ছে সৌরচালিত ডিপ টিউবওয়েল

কৃষি ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যে প্রথম সৌরবিদ্যুত (West Bengal Solar Irrigation) চালিত মিডিয়াম ডিপ টিউবওয়েল...

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের বসছে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Benerjee) নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার ফের বসছে রাজ্য মন্ত্রিসভার (State Cabinet) বৈঠক। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট...