Friday, June 26, 2026

ভারত-বাংলাদেশ ‘গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি’-র ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠকে যৌথ নদী কমিশন

Date:

Share post:

কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ নদী কমিশনের ৮৬তম বৈঠক বসেছে। রাজ্য-কেন্দ্রের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ১১ প্রতিনিধি। সেচ দফতরের সচিব মণীশ জৈনের উপস্থিতিতেই গঙ্গা-পদ্মা জল বণ্টন, তিস্তা চুক্তি সহ ১১টি ইস্যুতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে ভারতের (India) গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি (Ganga Water Sharing Agreement) পুনর্নবীকরণ (Renewal)নিয়েও আলোচনা হবে।এই প্রতিনিধিরা যাবেন ফরাক্কায় ব্যারেজ (Barrage at Farakka) এলাকাতেও।

জানা গিয়েছে, মূলত গঙ্গা-পদ্মার জলবণ্টন চুক্তি বিষয়ে আলোচনার জন্যই এই প্রতিনিধিদল এসেছেন।এই জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালে। এই অবস্থায় নতুন করে চুক্তি না হলে দেখা দিতে পারে বড় সমস্যা। ফরাক্কা ব্যারেজ সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল-বণ্টন ব্যবস্থায় তা ছাপ ফেলতে পারে।বাংলাদেশ থেকে আসা প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব আছেন যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি)-এর সদস্য মুহাম্মদ আবুল হোসেন।এর আগে গতকাল বুধবার ফরাক্কায় গঙ্গা নদীর যৌথ পর্যবেক্ষণর জায়গাটি পরিদর্শন করেন তারা।কলকাতায় ৬ ও ৭ মার্চ দুদিন ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হবে। জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জয়েন্ট কমিশনার (এফএম) আর আর সম্ভরিয়ার একথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি গঙ্গা নদীর জল বন্টন বিষয়ে একটি কাঠামো তৈরি করে। যা ফারাক্কা বাঁধ থেকে শুষ্ক আবহাওয়ায় (জানুয়ারি থেকে মে) জলের প্রবাহ নিশ্চিত করে। চুক্তিটি ৩০ বছরের জন্য কার্যকর ছিল। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এর মেয়াদ শেষ হবে। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় শেখ হাসিনা ভারত সফরে আসেন, সেই সময় ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশ ১৯৯৬ সালের চুক্তি পুনর্নবীকরণের জন্য আলোচনা শুরুর কথা জানিয়েছিল।

পুনর্নবীকরণ নিয়ে আলোচনা দুই দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তি তাদের জলের চাহিদা মেটানো এবং ভারতের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ। যাতে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজনও পূরণ হয়।তাই ফারাক্কায় পর্যবেক্ষণ স্থল যৌথ পরিদর্শন এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ওই জায়গায় থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা গঙ্গার প্রবাহ পরিমাপ করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর এই বিষয়টি নিয়ে ছয় সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে । সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা থাকবেন ৷ সেই টেকনিক্যাল কমিটি মূলত আগামী তিনমাসের মধ্যে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে । যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে এই কমিটির বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা৷

 

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...