Saturday, February 21, 2026

ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে ৭৮ শতাংশ ভুয়ো রেশন কার্ড! বাংলায় নির্ভেজাল কার্ড ৯৬ শতাংশ

Date:

Share post:

বিজেপির মিথ্যের ফুলঝুরি ফের প্রকট হয়ে গেল। ফের ধরা পড়ে গেল ভাঁওতাবাজি। এতদিন ভুয়ো রেশনকার্ড (ration card) ইস্য়ুতে শুধু পশ্চিমবঙ্গকে দুষছিল কেন্দ্র। কিন্তু মোদি সরকারের রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে ভুয়ো রেশন কার্ডে ভর্তি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিই। বাংলাই সবথেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে বড় রাজ্যগুলির মধ্যে। বিজেপি-রাজ্যগুলিতে যেখানে ভুয়ো রেশন কার্ড (fake ration card) ৭৮ শতাংশ, সেখানে বাংলার মাত্র ৪ শতাংশ। ৯৬ শতাংশই আসল রেশন কার্ড। আর বিজেপি কি না বাংলার ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজেদের অকর্মণ্যতা ঢাকতে ব্যস্ত।

শুধু কি তাই, বিজেপি রাজ্যগুলি ই-কেওয়াইসিতেও (KYC) ফেল। একমাত্র রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গই ভুয়ো রেশন কার্ড ধরতে ১০০ শতাংশ ই-কেওয়াইসি করেছে। আর কোনও রাজ্য বাংলার ধারে-কাছে নেই। আর এই সব ছবি উঠে এসেছে মোদি সরকারের রিপোর্টে। রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গিয়েছে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে ভুয়ো (fake) রেশন কার্ডের (ration card) ‘পাহাড়’! বিজেপি শাসিত অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, অসম, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, ত্রিপুরা থেকে শুরু করে এনডিএ-শাসিত সিকিম, মহারাষ্ট্র, বিহার— কোথাও ৭৮ শতাংশ ‘ডুপ্লিকেট’ (duplicate) রেশন কার্ড, তো কোথাও ৫৮ শতাংশ। আর বিজেপি শুধু বাংলাকে দুষে চলেছে।

রিপোর্ট দেখার পর ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের দিল্লিতে ডেকে অবিলম্বে ভুল শোধরানোর পরামর্শ দেয় কেন্দ্র। কিন্তু আদতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। ভুয়ো রেশন কার্ড ধরতে ‘ই-কেওয়াইসি’ ব্যবস্থাও সে অর্থে চালু করেনি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলি। বিজেপির পোস্টার বয় যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ মাত্র ২৮ শতাংশ ই-কেওয়াইসি (KYC) করেছে। আর ত্রিপুরা ২ শতাংশ, অসম, মহারাষ্ট্র ১ শতাংশ করে। হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, গোয়া তাও করেনি। আর মোদিরাজ্য? মোদিরাজ্য গুজরাতে ১৭ হাজার ৮৬১টি ভুয়ো কার্ড থাকা সত্ত্বেও সার্ভে হয়েছে মাত্র ১৫.৫৬ শতাংশ। অসম, বিহার, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের অবস্থা তথৈবচ। অরুণাচলে ৭৮.২৮ শতাংশ ডুপ্লিকেট কার্ড। সিকিম ৬৮.৪, মহারাষ্ট্রে ৫৮.১৬, হরিয়ানায় ৫৩.১৮, গোয়ায় ৪৪.৩৮, রাজস্থানে ৪১.৫৩, উত্তরাখণ্ডে ৩৮.৫৬, অসমে ৩৫.৮৭, ওড়িশায় ৩৯.৪৬, ত্রিপুরায় ২৩.৮৮ ও বিহারে ২১.৭০ শতাংশ ভুয়ো রেশন কার্ড ধরা পড়েছে।

একমাত্র বাংলায় মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের উদ্যোগে আধার সংযুক্তিকরণ (link) সম্পূর্ণ। সার্ভেতে ৯৬ শতাংশ কার্ডই আসল বলে প্রমাণ হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ জানিয়েছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। অথচ তাঁদের নিজেদের রাজ্যেই পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি। কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি কেন্দ্র।

spot_img

Related articles

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, মার্চের শুরুতেই মোতায়েন আধাসেনা! 

বাংলায় ভোটের (West Bengal assembly election) বাদ্যি বেজে ওঠার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ( Central force) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে...

দিল্লিতে বড় হামলার ছক লস্করের ! রাজধানীতে জারি হাইঅ্যালার্ট

জঙ্গিদের টার্গেট ভারতের রাজধানী (Delhi)। দিল্লির লালকেল্লার কাছে মন্দির এবং দেশের বড় শহরগুলির ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে হামলার...

জুতো পরে গ্রুপ সি-গ্রুপ ডি পরীক্ষায় প্রবেশ নয়, কড়া নির্দেশ এসএসসির

জুতো পরে গ্রুপ সি-গ্রুপ ডি পরীক্ষায় প্রবেশ নয়, কড়া নির্দেশ এসএসসির পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে টুকলি রুখতে এবার জুতো পরে...

ভাষার উপর আক্রমণ বরদাস্ত নয়, অমর একুশের পোস্টে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর 

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের (International mother language day) বিশ্বের সব ভাষার প্রতি সম্মান জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা...