Wednesday, June 3, 2026

চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, ঋণের টাকায় চড়া সুদের ফাঁদে কিডনি বিক্রি!

Date:

Share post:

কিডনি বিক্রির চক্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস। অশোকনগর থানার পুলিশ জানতে পেরেছে, ঋণের টাকায় চড়া সুদের ফাঁদে ফেলে কিডনি বিক্রি করা হত।এই চক্রে শুধু ধৃত গুরুপদ জানা, বিকাশদের টিম নয়, একাধিক টিম সক্রিয় রয়েছে। ধৃতদের জেরা করে এমনই তথ্য এসেছে পুলশের হাতে।তদন্তকারীদের দাবি, কিডনি বিক্রির প্রতিটি চক্রের কাজের ধরন প্রায় এক। সুদখোর এজেন্টদের সঙ্গে কমবেশি সব চক্রেরই যোগাযোগও রয়েছে। ক্যানিং থেকে ব্যারাকপুর–সহ হাওড়াতেও অশোকনগরের কায়দাতেই অসহায় মানুষদের চাপ দিয়ে কিডনি বিক্রি করিয়েছিল বলেই জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে।

পুলিশের দাবি, অমিত, পিয়ালি এবং মৌসুমিরা কিডনি বিক্রির খদ্দের জোগাড় করতে রীতিমতো দালাল রেখেছিল। তারাই কলকাতা–সহ সংলগ্ন এলাকার নেফ্রোলজি সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।কারণ, সেখান থেকেই দালালরা জানতে পারত কোন রোগীর কিডনির প্রয়োজন।তাদের রক্তের গ্রুপ কী, সেটাও জানত দালালরা। দালালদের কাছ থেকে প্রথমে তথ্য জোগাড় করা হত, তারপর গুরুপদ ওরফে অমিত সুদখোর ব্যবসায়ীদের ময়দানে নামিয়ে দিত। বিকাশদের মতো একাধিক চক্রের সুদখোর ব্যবসায়ী চড়া সুদে ঋণের ফাঁদে ফেলে কিডনি বিক্রি করার জন্য চাপ দিত অসহায় মানুষকে। চাপে রাজি হওয়ার পরেই তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো অমিতের কাছে।

জানা গিয়েছে, কিডনি দানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি, আইনি স্বীকারোক্তি দেওয়ার পাশাপাশি কিডনি দাতাদের প্রয়োজনীয় নথি, কোর্টের এফিডেভিট ও একজন চিকিৎসকের ফিট সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। বারাসত মহকুমা এলাকার প্রায় সব কিডনিদাতাকে একজন নেফ্রোলজি চিকিৎসকই এই ফিট সার্টিফিকেট দিতেন বলে জানা গিয়েছে। তাই সেই চিকিৎসককেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে অশোকনগর থানার পুলিশ।

পুলিশ জানতে পেরেছে, গত দু’বছরে অশোকনগর এলাকা থেকে ১০ জন কিডনি দানের আবেদন করেছেন। এ ছাড়াও মধ্যমগ্রামের ৬ জন, হাবরার ৫ জন, নিউটাউন থেকে ২ জন আবেদন করেছিলেন। বারাসত, দেগঙ্গা, দত্তপুকুর, বাগুইআটি এলাকায় একজন করে কিডনি দানের আবেদন করেছিলেন।নিয়ম অনুযায়ী কিডনি দানের ক্ষেত্রে প্রথমে হয় পুলিশ ভেরিফিকেশন। তার পর হয় মহকুমা স্তরে হেয়ারিং। স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় চাপ দিয়ে কিডনি বিক্রির বিষয়টি কেন ধরা পড়ল না, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একজন চিকিৎসকই বা কেন বারবার ফিট সার্টিফিকেট দিচ্ছেন? এই বিষয়টিও কী ভাবে জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদের নজর এড়িয়ে গেল, এই প্রশ্নও উঠেছে। পুলিশের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত।

 

 

 

Related articles

‘কালা হিরণ’ ছবির নির্মাতাদের নোটিশ সলমন খানের

ফের বিতর্কে জড়ালেন সলমন খান। ‘কালা হিরণ’ ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, এমনটাই গুঞ্জন...

১৮ বছর পর হাতে এল অফার লেটার! অবসরের বয়স পেরিয়ে মজিদ পেলেন ‘হতাশার’ চিঠি

সরকারি চাকরির স্বপ্ন বুনেছিলেন দুই দশক আগে। পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় জায়গাও করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের চিঠি...

ফর্ম জমার আগেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! কারা পেলেন সুবিধা? তালিকা নিয়ে কাঠগড়ায় বিজেপি

অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা থেকেই স্বচ্ছতার সওয়াল করে এসেছে নতুন বিজেপি সরকার। ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে...

এবিভিপির চক্রান্তে মিথ্যা মামলায় ধৃত ছাত্রনেতা! শোকে হৃদরোগে মৃত্যু বাবার

ছেলের গ্রেফতারির ধাক্কা সহ্য করতে পারলেন না বাবা। মিথ্যা মামলায় পুলিশের হাতে ছেলের বন্দি হওয়ার খবর শুনেই হৃদরোগে...