অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা থেকেই স্বচ্ছতার সওয়াল করে এসেছে নতুন বিজেপি সরকার। ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া এবং বিদায়ী সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অনিয়ম ধরার কথা বারবার শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবায়নের টানাপড়েনে প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই উঠতে শুরু করেছে একগুচ্ছ অস্বস্তিকর প্রশ্ন।

বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। অথচ ঘটনা হল, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মাত্র সোমবার থেকে। তার আগে গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছিল ১২ পাতার এক বিশদ আবেদনপত্র। রাজনৈতিক মহলের বড় প্রশ্ন, আবেদন জমা দেওয়া, নথি যাচাই, তথ্য খতিয়ে দেখা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা— এতসব জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কীভাবে উপভোক্তা চিহ্নিত করা সম্ভব হল?

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুধবার রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও পুরসভায় ১০০ জন করে উপভোক্তার হাতে প্রকল্পের অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু এই তালিকা তৈরি হল কবে? কারা এই উপভোক্তা এবং কোন ভিত্তিতে তড়িঘড়ি তাঁদের নির্বাচন করা হল, সেই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর এখনও দফতর থেকে মেলেনি।

বিতর্কের পারদ আরও চড়ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ঘিরে। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আশ্বাস দিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে থাকবেন। কিন্তু বাস্তব ছবিটা অন্য। মে মাস থেকেই বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা বুধবার টাকা পাবেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা কি আদতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী ছিলেন? তাঁদের ক্ষেত্রে কি পুরনো প্রকল্প বন্ধ করে নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে, নাকি অন্নপূর্ণা যোজনা এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সমান্তরালভাবে চলবে? নবান্ন এখনও এ বিষয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যে প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়াই এখনও চলমান, সেখানে প্রথম দিনেই অর্থ বিতরণের এই আকস্মিক তাড়াহুড়ো কেন? প্রকৃত উপভোক্তা যাচাইয়ের দাবি যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সেই বিপুল কাজ সম্পূর্ণ হল কীভাবে? সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনার উদ্বোধনের দিনেই মূল প্রশ্ন একটাই— এটি কি সত্যিই সুপরিকল্পিত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, নাকি লোকদেখানো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের তাড়ায় তৈরি হওয়া নতুন এক ‘জুমলা’? আগামিকাল সেই উত্তরই খুঁজবে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা।

আরও পড়ুন- এবিভিপির চক্রান্তে মিথ্যা মামলায় ধৃত ছাত্রনেতা! শোকে হৃদরোগে মৃত্যু বাবার

_
_
_
_
