মৃত্যু ছাড়াতে পারে ১০ হাজার! ব্যাংককে খোলা আকাশের নীচেই প্রসব অন্তঃসত্ত্বার

মাটির তরলিকরণ (soil liquefaction) প্রক্রিয়া বাড়িয়েছে বিপদ। অনেক জায়গায় তরল মাটি (liquefaction) ভূগর্ভ থেকে ওঠা শুরু হয়েছে

মায়ানমার-থাইল্যান্ডের ভূমিকম্পে প্রাণহানির পরিমাপই এখনও পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি দুই দেশের প্রশাসনের পক্ষে। মার্কিন জিওলজিকাল সংস্থার গবেষণা অনুসারে মৃতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১০ হাজার। তারই মধ্যে আশার আলো জ্বালছেন দুই দেশের চিকিৎসকরা। যেমন ব্যাংককে (Bangkok) খোলা আকাশের নিচে এক অন্তঃসত্ত্বার প্রসব সম্পূর্ণ করে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়া নিশ্চিত করলেন সেখানকার চিকিৎসকরা। নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা বিশ্ববাংলা সংবাদ যাচাই করেনি)।

শুক্রবার যখন প্রবল ভূমিকম্পে (earthquake) কেঁপে ওঠে মায়ানমার (Mayanmar) ও থাইল্যান্ড (Thailand), সেই সময় ব্যাংককের একটি হাসপাতালে সন্তান প্রসব করছিলেন এক মহিলা। চিকিৎসকরা তাঁর অস্ত্রোপচার চালানোর সময়ই শুরু হয় কম্পন। সেই সময় গোটা হাসপাতালের সব রোগীদের হাসপাতালের ছাদের বাইরে খোলা আকাশের নিচে নামিয়ে আনা হয়। চিন্তা ছিল অস্ত্রোপচার চলা মহিলাকে নিয়ে। প্রবল কম্পন অনুভূত হওয়ায় ছাদের নিচে থাকা নিরাপদ বিবেচিত হয়নি। চিকিৎসকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, অন্তঃসত্ত্বাকে স্থিতিশীল করে নামিয়ে আনা হবে নিচে। তারপর বাকি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হবে। সেই মতো মহিলা ও তাঁর সদ্যোজাতকে নামিয়ে এনে অস্ত্রোপচারের সেলাই সম্পন্ন করেন চিকিৎসকরা।

ব্যাংককে একের পর এক অট্টালিকা ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত্যুর শোকের মধ্যে যদিও এই সদ্যোজাতর জন্ম সুসংবাদ বয়ে এনেছে ব্যাংককে। তবে থাইল্যান্ডের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির থেকে অনেক বেশি প্রভাব পড়েছে মায়ানমারে। কার্যত মৃত্যুর পুরো পরিসংখ্যান তৈরি করতেই সামরিক প্রশাসনের দীর্ঘ সময় লাগবে। এরই মধ্যে মাটির তরলিকরণ (soil liquefaction) প্রক্রিয়া বাড়িয়েছে বিপদ। অনেক জায়গায় তরল মাটি (liquefaction) ভূগর্ভ থেকে ওঠা শুরু হয়েছে। আর সব জায়গায় প্রবল ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু বসতি।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের খোঁজ পাওয়াই সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে রাজধানী নেইপিদয়ে (Naypyedaw) বিমান বন্দরের টাওয়ারই ভেঙে পড়ায় বন্ধ বিমান পরিষেবা। ভারতের তরফে থেকে বিপুল মানবিক সাহায্য শনিবার ভোরেই পৌঁছে গিয়েছে মন্দালয়ে (Mandalay)। সাহায্য় পাঠিয়েছে চিন, রাশিয়া, আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি। তবে ত্রাণ ও সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই সেখানে চ্যালেঞ্জ। আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজও বাধাপ্রাপ্ত। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে মায়ানমারের জুংটার নেতৃত্বও।