ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্বার্থে নিজের বসতবাড়িও ভাঙতে রাজি তৃণমূল পুরপ্রধান!

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের (Ghatal) বন্যাবিধ্বস্ত মানুষদের জন্য রাজ্যের টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা সত্ত্বেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Govt of WB) এই বড় প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়েছে। তত্ত্বাবধান করছেন স্বয়ং সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব (Dev)। এবার ঘাটালবাসীর স্বার্থে নিজের তিল তিল করে অর্জন করা টাকা দিয়ে তৈরি বসতবাড়ি ভেঙে দিতে দুবার ভাবলেন না ঘাটাল পুরসভার প্রধান তুহিনকান্তি বেরা(Tuhinkanti Bera)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগে মানুষের জন্য কাজ করা দরকার, সেখানে ব্যক্তিগত ভালো থাকা কখনই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) রূপায়ণের জন্য যে মনিটারিং কমিটি তৈরি করা হয়েছে তুহিনকান্তি তার সদস্যও বটে। ঘাটালের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই প্ল্যান। তৃণমূলের তারকা সাংসদ অভিনেতা দেব (Dev ) গত লোকসভা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেন, তৃতীয় বার তিনি জয়লাভ করতে পারলে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু করবেনই। কথা দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কথা রেখেছেন তিনি। ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পরই প্রতিশ্রুতি পালনে কাজ শুরু করে দেয় রাজ্য সরকার। প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বোঝানোর কাজ শুরু হয়েছে। ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের বন্যার যন্ত্রণার মুক্তি দিতে জমির মাপজোকের মধ্যে ঘাটাল পুরসভার (Ghatal Municipal Corporation) চেয়ারম্যান তুহিন জানতে পারেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য তাঁর দোতলা পাকা বাড়িটি ভাঙা পড়তে পারে। এরপর সিদ্ধান্ত নিতে এতটুকু সময় নষ্ট করেননি। তিনি জানিয়েছেন যেভাবে কেন্দ্র সরকার দিনের পর দিন বাংলার মানুষকে নানা প্রকল্পের বঞ্চনা করে আসছে তার অন্যতম সাক্ষী এই ঘাটাল। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে বাস্তবায়িত করতে সব ধরনের সহযোগিতা তিনি করবেন। তার জন্য নিজের স্বপ্নের বাড়িকে বিসর্জন দিতেও দুবার ভাববেন না তৃণমূল পুরপ্রধান। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের নকশা অনুযায়ী বাজারে দুদিকে প্রায় ৬০ ফুট করে জমি প্রয়োজন। ঘাটালকে বন্যা থেকে বাঁচাতে ১২টি ওয়ার্ডকে নিয়ে সার্কিট বাঁধ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। সে জন্য শহরের পশ্চিম দিকের নদীঘেঁষা জমি কিনে নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে পড়ছে পুরপ্রধানের বসতবাড়িও। দশ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা বাড়ি এবার ঘাটালের মানুষের স্বার্থে নির্দ্বিধায় ভেঙে ফেলতে রাজি তুহিনকান্তি।