বাটলারদের দাপটে চিন্নাস্বামীতে ৮ উইকেটে জয় গুজরাট টাইটান্সের

এবারের আইপিএলে(IPL 2025) বুধবারের দিনটা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru) ছিল না। ঘরের মাঠে জয় পেলেন না বিরাট কোহলিরা (Virat Kohli)।

ঘরের মাঠে ব্যাটিং বিপর্যয়। চলতি আইপিএলে (IPL 2025) প্রথম দুই ম্যাচ জিতেছিল তারা।‌বুধবার তৃতীয় ম্যাচে গুজরাট টাইটানসের (Gujarat Titans) কাছে পরাজিত হল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru)। সহজেই ৮ উইকেটে জয় পেল গুজরাট।

আরসিবি-র শুভমন গিলের নেতৃত্বে গুজরাট টাইটান্স টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাদের প্রাক্তন তারকা পেসার মহম্মদ সিরাজের (Mohammed Siraj) দুর্দান্ত বোলিংয়ের সৌজন্যে আরসিবিকে ২০ ওভারে ১৬৯/৮-এ বেধে রাখে। সিরাজ তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে পুরোনো দলের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠেন।বিরাট কোহলি মাত্র ৭ রানে আউট হন। তবে, লিয়াম লিভিংস্টোনের ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস আরসিবিকে একটি সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই গুজরাট টাইটান্স বোলিংয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। মোহাম্মদ সিরাজ এদিন তার পুরোনো দলের বিরুদ্ধে আগুন ঝরান। প্রথম ওভারেই তিনি ফিল সল্টকে (১৩) আউট করেন। এরপর দ্বিতীয় ওভারে আরশাদ খান বিরাট কোহলিকে (৭) ফিরিয়ে দেন। সিরাজ আবার আঘাত হানেন দেবদত্ত পড়িক্কলকে (০) বোল্ড করে। পাওয়ার প্লেতে আরসিবি ৪২/৪-এ ধসে পড়ে, যা সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ছড়ায়। তিনি মোট ৩/১৯-এর দুর্দান্ত স্পেল দিয়ে ম্যাচে গুজরাটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

এরপর আরসিবির ইনিংসের দায়িত্ব নেন লিয়াম লিভিংস্টোন। ৪০ বলে ৫৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে তিনি দলকে লড়াইয়ে ফেরান। তার ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা এবং ১টি চার, যা রশিদ খানের মতো স্পিনারের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়। জিতেশ শর্মাও ২১ বলে ৩৩ রান করে মিডল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ দিকে টিম ডেভিড ১৮ বলে ৩২ রানের একটি দ্রুতগতির ইনিংস খেলে আরসিবিকে ১৬৯-এ পৌঁছে দেন।

গুজরাটের বোলিং আক্রমণ এদিন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। সিরাজের পাশাপাশি প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (১/২৬) এবং ইশান্ত শর্মা (১ উইকেট) নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে আরসিবিকে চাপে রাখেন। রশিদ খান এদিন উইকেট না পেলেও, লিভিংস্টোনের আক্রমণে তিনি ২০ রানে একটি ওভারে খরচ করেন। তবে, সাই কিশোরের স্পিন এবং সিরাজের গতি মিলে আরসিবির ব্যাটিং লাইন আপকে ভেঙে দেয়।

এখন গুজরাট টাইটান্সের সামনে ১৭০ রানের লক্ষ্য ছিল। ১৮তম ওভারে জোস বাটলার পরপর দুটি ছয় মারেন জোশ হেজেলউডকে। তাতেই ম্যাচ একদম হাতের মুঠোয় চলে আসে গুজরাটের। সেই ওভারেই হেজেলউডকে শেরফান রাদার্ফোর্ড আরও একটি ছয় মেরে ম্য়াচ শেষ করে দেন। ১৩ বলে বাকি থাকলেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল গুজরাট টাইটান্স দল। ১৮ বলে ৩০ রান করেন রাদার্ফোর্ড, আর বাটলার অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে ৭৩ রান করে।