প্রতিপক্ষ কোচের নাক টিপে ধরে ফের বিতর্কে জড়ালেন জোসে মরিনিও

বুরুক মুখে হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে যা

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না জোসে মরিনিওর।পর্তুগিজ তারকা কোচ ফের বিতর্কে জড়ালেন বুধবার রাতে টার্কিশ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে। ঘরের মাঠে ইস্তাম্বুল ডার্বিতে গালাতাসারাইয়ের কাছে ২–১ গোলে ফেনেরবাচের হেরে যাওয়ার পর মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি মরিনিও। দৌড়ে গিয়ে গালাতাসারাই কোচের নাক দুই আঙুল দিয়ে চেপে ধরেন চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এই কোচ।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গালাতাসারাই কোচ ওকান বুরুকের পেছনে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নাক ধরছেন মরিনিও। এরপর বুরুক মুখে হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এ সময়ে মরিনিওকে সরিয়ে নিয়ে যান অন্যরা।

ম্যাচেও ছিল উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ফেনেরবাচে স্টেডিয়ামের এই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছেন তিনজন খেলোয়াড়। তাদের দুজন গালাতাসারাইয়ের, একজন ফেনেরবাচের। তিনজনই লাল কার্ড দেখেছেন ৯০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে।

নাকে খোঁচা খাওয়া গালাতাসারাই কোচ পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বর্ণনা করেন ঘটনার। বলেন, আমি যখন যাচ্ছিলাম সে পেছন দিক থেকে আমার নাক চিপে দেয়। একটু দাগ পড়ে গিয়েছে। অবশ্যই এটা ভালো কিছু নয়। আমি ফুলিয়ে–ফাঁপিয়ে কিছু বলব না, তবে এটা বুক ফুলিয়ে বলার মতো কিছু নয়।গালাতাসারাইয়ের সহ সভাপতি মেতিন ওজতুর্ক অবশ্য অত রাখঢাক রাখেননি কোচের মতো। মরিনিওর সর্বশেষ কাণ্ডকে তুর্কি ফুটবলের ওপর আঘাত হিসেবেই দেখছেন ওজতুর্ক।তিনি বলেন, সর্বশেষ ঘটনাটি শুধু গালাতাসারাইয়ের কোচের ওপর আঘাতই নয়, এটা তুর্কি ফুটবলের ওপরই আঘাত। এটাই তো মরিনিও, আমি জানি না সে এত সাহস পায় কোথা থেকে। পৃথিবীর আর কোথাও সে এমনটা করতে পারবে? সে তুরস্ককে কী মনে করে?

মরিনিও তুর্কি ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক ঝামেলায় জড়াচ্ছেন ৬২ বছর বয়সী কোচ। এই ফেব্রুয়ারিতেই ফেনেরবাচে–গালাতাসারাই ম্যাচের পর মরিনিওর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ করেছিল গালাতাসারাই। তারা দাবি করে, মরিনিও বলেছিলেন গালাতাসারাইয়ে ডাগআউটে থাকা খেলোয়াড় ও স্টাফরা ‘বানরের মতো লাফালাফি করছে।’ ফেনেরবাচে অবশ্য ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মরিনিওকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করায় উল্টো মামলা করে দেয় গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে।

গত রাতের ঘটনার পর গালাতাসারাই নিজেদের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে বুরুকের হাস্যোজ্জ্বল এক ছবি দিয়ে লিখেছে, ‘আপনি কাউকে আঘাত করবেন না, সব হজম করে যাবেন।’ মরিনিওর জন্য কারও শরীরের আঘাত করাটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১১ সালে বার্সার সহকারী কোচ টিটো ভিলানোভার চোখে খোঁচা মেরেছিলেন সে সময়ের রিয়াল মাদ্রিদ কোচ মরিনিও।