অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ-নিকটজনের কৌতুহল: মনোবিদের দ্বারস্থ নাজেহাল চাকরিহারারা

“থাপ্পড় সে ডর নেহি লাগতা সাহাব, প্যায়ার সে লাগতা হ্যায়”- বিখ্যাত হিন্দি সিনেমার এই ডায়লগ এখন নির্মম সত্যি চাকরিহারাদের ক্ষেত্রে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের থেকেও আশপাশের মানুষের আলগা সহানুভূতি আর অযাচিত পরামর্শেই নাজেহাল তাঁরা। সঙ্গে রয়েছে অবিশ্বাসী নজরও। সুপ্রিম (Supreme Court) নির্দেশে চাকরি বাতিল হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর। তাঁদের মধ্যে এমন দম্পতিও রয়েছেন, যাঁরা একই সঙ্গে চাকরিহারা। স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছে তাঁদের। মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ঠিক রাখতে, মনোবিদের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা দম্পতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে খবর পোস্ট করে জানান মনোবিদ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Ranjan Bhattacharjee)।

বীরভূমের দুই স্কুলে ভূগোল পড়াতেন অর্ণব যশ ও তাঁর স্ত্রী চন্দ্রাণী দত্ত। দুজনেই একই দিনে চাকরি হারিয়েছেন। এরপরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়ছে অর্ণবের মা মঞ্জুলা যশের। ফলে পুরো বিষয় নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজনদের কৌতুহল অযাচিত উপদেশ এবং তির্যক মন্তব্য সহ্য করতে হচ্ছে। দম্পতিকে এমন কী মায়ের মৃত্যুর জন্যও এই খবর দায়ী বলে কথা শোনানো হচ্ছে অর্ণবকে। এরকম উদাহরণ আরও রয়েছে।

আর তার প্রমাণ মিলল মনোবিদের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট থেকে। রঞ্জন ভট্টাচার্য (Ranjan Bhattacharjee) লেখেন, তাঁর কাছে পরামর্শের জন্য এসেছিলেন এক চাকরিহারা দম্পতি। তাঁদের ৫ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তারপরেও তাঁরা আত্মঘাতী হতে চান! চাকরি হারানোর কষ্ট বা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কা থেকেও বেশি কাজ করছে সামাজিক সম্মানহানি। অপমানবোধ। আশপাশের মানুষের কৌতুহল বিভিন্ন ধরনের কথা। মনোবিদের পরামর্শ, এভাবে আঘাত নয় প্রকৃত অর্থে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। চাকরিহারাদের অবসাদে না ভুগে ঘুরে দাঁড়ানোর পরামর্শ সকলের।