Friday, April 24, 2026

বিশ্ব এসেছে বাংলার ঘরে: সোমে শালবনির তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

সোমবার শালবনিতে শালবনিতে জিন্দল গোষ্ঠীর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানালেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। জানান, রাজ্যজুড়েই বিদ্যুৎকেন্দ্রে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২১ এপ্রিল শালবনিতে জিন্দল গোষ্ঠীর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মমতা। ২২ তারিখ গড়বেতার গোয়ালতোড়ে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেটিও শিলান্যাস করবেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২১শে এপ্রিল আমি যাব শালবনিতে। শালবনিতে ৮০০ মেগাওয়াট দুটো প্ল্যান্ট হবে। ওখানে জিন্দলরা থাকবেন। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ যাবেন। জিন্দল সাহেবও থাকবেন, ওঁর ছেলেও থাকবেন। আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শিলান্যাস করব। আর তারপরেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই অনেকগুলো পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ চলছে। এর মধ্যে শালবনিতে ১৬০০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ারপ্ল্যান্ট তৈরি হবে। জিন্দলরা খরচ করছেন ১৬ হাজার কোটি টাকার উপরে। কমপিটিটিভ বিডিংয়ের মাধ্যমে ওঁরা এই প্রোজেক্টের বরাত পেয়েছেন। পূর্বভারতে এমন প্রোজেক্ট আর নেই। এছাড়া ঝাড়গ্রাম -পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হবে।“

মমতা জানান, “আমরা ৬টি ইকোনোমিক করিডোর করেছি। শিল্পের নতুন গন্তব্য এখন বাংলা। সাগরদিঘি থেকে শুরু করে দুর্গাপুর, বক্রেশ্বর থেকে শুরু করে সান্তালডি প্রচুর মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ হচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে অর্থনীতি অনেক মজবুত হবে, অনেক কর্ম সংস্থান হবে।“ ২২ তারিখে গড়বেতার গোয়ালতোড়ে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একটি জার্মান কোম্পানির সহায়তায়, ৭৫৭ কোটি টাকার এই গ্রিন প্রোজেক্ট হচ্ছে।

বিগত বাম জামানকে কটাক্ষ করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সরকারের আমলে বাংলার মানুষ ‘লোডশেডিং’ শব্দটা ভুলেই গেছে। নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার সাপ্লাই করতে সরকারেরও অনেক খরচ হয়। আগামী প্রজন্ম যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে যেন কোনও সমস্যায় না পড়ে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।“

ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। দেওচা পাঁচামি নিয়েও স্থানীয় মানুষদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বলেন, “জমিহারাদের প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে, চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও জমি পেলে, ক্ষতিপূরণ দিয়ে, আরও বাড়ানো হবে কাজ। গোটা এলাকা জুড়েই বাজার, হাসপাতাল, স্কুল তৈরি হবে তবে জোর করে কারও জমি নেওয়া হবে না। এটিই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লাখনি। বিশ্ব এসেছে বাংলার ঘরে।“ তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেই রাজ্য কর্মসংস্থানে বিষেয় জোর দেন মমতা। সেই কারণেই রাজ্য শিল্পস্থাপনে জোর দেওযা হচ্ছে।

Related articles

আমার মা-কে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিল: ফিরহাদের প্রচারে সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরলেন মমতা

বাংলায় ধর্ম-জাত-পাতের ভেদাভেদ যে কোনও দিনও নেই বারেবারে তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ কীভাবে বিপদে একের অন্যের...

শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা! প্রতিবাদে সরব দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ 

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদ এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরোধিতায় সরব হল ‘দেশ বাঁচাও...

কমিশনের ‘নিয়ম’ উড়ে গেল হাই কোর্টে: ১২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ বাইক চালানোয়

বাংলার নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে তুঘলকি শাসন জারি করার পথে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে...

ভোটদানে রেকর্ড কোচবিহারের, ৯৭ শতাংশ পার করে শিরোনামে শীতলকুচি 

দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ল কোচবিহার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এই জেলায় ভোটদানের হার পৌঁছেছে...