পরিষদীয় দলের রাশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Bnaerjee) হাতে যাওয়ার পরেই তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশে দাঁড়ালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Maitra)। শুধু তাই নয়, ঋতব্রতর ‘নতুন তৃণমূল’কে বিজেমূল বলে নিশানা করে তিনি বুজিয়ে দিলেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন। সাফ জানালেন ৫৮ জন বিধায়ক যা করলেন সেটা মানুষের সঙ্গে অন্যায়।

নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে প্রথমেই বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, ”প্রথমেই বলি বাংলার এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সমস্ত রাষ্ট্র শক্তি, রাষ্ট্রীয় বল প্রয়োগ করে এই ভোট পরিচালনা করেছে। সবাই দেখেছে নির্বাচন কমিশন কীভাবে বিজেপির কাঠপুতুল হয়ে খেলেছে। দেখেছে কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিআরপিএফ দিয়ে ভোট হয়েছে। কীভাবে ২৭ লক্ষ বৈধ ভোটার বাদ চলে গিয়েছে, তাদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। এদিকে বিজেপি বলছে স্বচ্ছ, নির্ভুল ভোট হয়েছে। সত্যি কী তাই?” আরও পড়ুন: আদি-নব্য দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত টলিপাড়া! টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও চত্বরে ইট-ডিমবৃষ্টি

এদিকে ভোটের ফলাফলের পরেই দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন সিংহভাগ দাপুটে নেতা। এই অবস্থায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়কের সমর্থন পেয়ে বিধানসভায় এখন ‘আসল তৃণমূল’ টিম ঋতব্রত। সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে ঋতব্রত-সহ বিদ্রোহী বিধায়কদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন মহুয়া। বলেন, “বিজেপি ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পেয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ। মাত্র ৩০ লক্ষের ব্যবধান। বাংলার যে ৮০ টি আসন তৃণমূল জিতেছিল, সেই সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। সেখানে প্রার্থীদের কোনও ক্যারিশ্মা ছিল না। তারপর এভাবে দল ভেঙে দেওয়া মানে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা।”

বিজেমূল প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ”যাদের যাওয়ার ছিল, তাঁরা বিজেমূল প্রতীকে লড়ে জিতে আসতে পারতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করতে হল কেন? আসলে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে নেতাদের চর্বি জমে গিয়েছে। এখন বিরোধিতা করতে ভাল লাগছে না। কারণ, পুলিশ , বিডিও কেউ কথা শুনবে না। সমস্যায় পড়তে হবে। সেই কারণে শাসকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়ে সমস্যা শেষ। নামে বিরোধী থাকলাম, কিন্তু শাসকের পূর্ণ সমর্থন পাব।”

–

–

–

–
–
–
