সামশেরগঞ্জের অশান্তি ঘিরে রাজ্য বিজেপি যে নিজেদের ভিত শক্ত করার চেষ্টা করেছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয়দের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছে প্রশাসন। ফিরেছে শান্তি। এরপরেও নতুন করে কিভাবে উস্কানি দেওয়া যায়, তার চেষ্টা লাগাতার জারি রেখেছে রাজ্য বিজেপি। এবার সেই রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় জুড়ল বিজেপি। জাফরাবাদের নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অপহরণে (kidnapping) অভিযুক্ত বিজেপি।
জাফরাবাদের নিহত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবারের খোঁজ আচমকাই পাওয়া যায়নি রবিবার থেকে। পরে দেখা যায় সল্টলেকে বিজেপির পার্টি অফিসে (BJP party office) রয়েছেন তাঁরা। কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ সফরের আগে যাতে কাদের উস্কানিতে অশান্তি, তা নিহত পরিবারের মুখ থেকে বেরিয়ে না পড়ে তা ঢাকতেই অপহরণের খেলা বিজেপির।

পরে পুলিশ গিয়ে সল্টলেকের বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। সেখানে নিহত পরিবারের দুই স্ত্রী রাজ্যপালের (Governor) দারস্থ হওয়ার দাবী জানান। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আবেদন রাজ্যপাল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেই নাটক বন্ধ হয়নি বিজেপির।

পুলিশ গিয়ে সল্টলেকের বাড়ি থেকে দুই মহিলাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিজেপি কর্মীরা পুলিশের উপরই চড়াও হয়। জোর করে দুই মহিলাকে দিয়ে লেখানো হয়, পুলিশ তাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে তাঁরা একটি চিঠি লেখেন। তবে মঙ্গলবার সুতির জাফরাবাদ মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য গ্রহণ করতে আদৌ তারা পৌঁছাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ।

মুর্শিদাবাদের অশান্তিতে আক্রান্তদের লুকিয়ে রাখার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, যারা হামলার প্রত্যক্ষদর্শী তারা কেন লুকিয়ে থাকবেন, কেন বিজেপি তাঁদের লুকিয়ে রাখবে। তাঁরা তো সবথেকে বেশি সহযোগিতা করবেন এই তদন্তে। বিজেপি কী ভয় পাচ্ছে, পুলিশ যদি তাঁদের জিজ্ঞাসা করে কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাহলে কী বিজেপির নেতাদের নাম উঠে আসবে? মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়াই কী উদ্দেশ্য, প্রশ্ন জয়প্রকাশের।

–

–

–

–

–
–
–
–
–


