Friday, April 17, 2026

দেশ জুড়ে বাতিল ১৩৭ ওষুধ: দাম বাড়ানো নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ তৃণমূলের

Date:

Share post:

জাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি রুখতে নয়া নির্দেশিকা জারি করলো রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে ২৫ টি ওষুধ বাতিল করা হয়েছিল। শনিবার ফের ১৩৭টি ওষুধ বাতিল করল সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে অন্য অভিসন্ধি দেখছে বাংলার শাসকদল। সেক্ষেত্রে জীবনদায়ী ওষুধের দাম কেন্দ্রের সরকার বাড়াতে চলেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয় এপ্রিল মাসে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)দেশব্যাপী বিভিন্ন ওষুধের নমুনা পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষিত ১৯৬ টি ওষুধের মধ্যে ১৩৭টি ওষুধ গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে বাজার থেকে ওই ওষুধগুলোকে তুলে নিতে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যার মধ্যে অপারেশনের পর ব্যবহার ইঞ্জেকশন থেকে আইড্রপ। যক্ষ্মার ওষুধ থেকে কেমো, রেডিওথেরাপির পর শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়ের ওষুধ, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন। এছাড়াও রয়েছে খাদ্যনালী ও পেটের আলসার সরানোর মত ওষুধ।

কেন্দ্রের তরফে বিক্রেতাদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে –
১. পাইকারদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যে ওষুধগুলি কিনছেন, তা মূল কোম্পানির চার্টার্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালিস্ট থেকে শুরু করে সঠিক বিতরণ চ্যানেলের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে।
২. ওষুধ ক্রয়ের সময় অবশ্যই বিক্রেতাদের লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করতে হবে। যদি বিক্রেতা রাজ্যের বাইরের হয় তাহলে যাচাইকৃত তথ্য পশ্চিমবঙ্গ ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগে জমা দিতে হবে ।
৩. রাজ্যের বাইরের ওষুধ ক্রেতাদের টাকা দেওয়ার সময়, যাচাই করতে হবে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণে সেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে কি না।
৪. পাইকারীদের অবশ্যই জিএসটি নম্বর যাচাই করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে প্রতিষ্ঠানটি জিএসটি ক্রেডিট নিচ্ছে।
৫. সমস্ত পাইকারদের জন্য ৩০০টি নির্দিষ্ট ওষুধের (যা সিডিউল H2-তে তালিকাভুক্ত) QR কোড অবশ্যই যাচাই করা বাধ্যতামূলক। (নিয়ম অনুযায়ী, সিডিউল H2-তে তালিকাভুক্ত ৩০০টি নির্দিষ্ট ওষুধের ফর্মুলেশনের উৎপাদকদের লেবেলে বারকোড বা QR কোড ছাপাতে বা সংযুক্ত করতে হবে।)
৬. সমস্ত খুচরো বিক্রেতাদের জন্য পাইকারীদের কাছ থেকে ওষুধ ক্রয়ের আগে সিডিউল H2-তে তালিকাভুক্ত ৩০০টি ওষুধের QR কোড যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

তবে কেন্দ্রের এই নির্দেশের পরে সতর্কতার পথ বেছে নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja) প্রশ্ন, সারা ভারতকে অবগত করা দরকার। কেন্দ্র তা করেছে। ক্রেতা সচেতন থাকলে এগুলো নেবে না। তবে এটাও দেখে নিতে হবে এই যে ‘লাইফ সেভিং মেডিসিন’, তার দাম কেন্দ্র সরকার দাম বাড়িয়ে দেয় কি না। তিনি সঙ্গে যুক্ত করেন, কোন রাজনৈতিক লড়াই নয়। ভারত সরকারকে প্রাধান্য দিতে হবে – মানুষ কিন্তু ওষুধ কিনবে। এবার এত ব্যাচ ইত্যাদি দিয়ে কী আবার পথ তৈরি করা হচ্ছে আবার দাম বাড়াবার। তাহলে আবার দাম বাড়ানোর অভিসন্ধি আছে কি?

Related articles

বিরোধী থেকে রাজ্যের মানুষ: নির্বাচনে জিততে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিক্রেট ফাঁস

বাংলায় বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী প্রচার থেকে বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

বিডিও-র অধীনে প্রিসাইডিং অফিসার অধ্যাপকরা! কমিশনের পদক্ষেপে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

একের পর এক নিত্য নতুন, অসামান্য পদক্ষেপ বাংলার বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি কোথাও কোথাও...

কেরালমের ভোট পরিসংখ্যান কোথায়: নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনে তৃণমূল

নির্বাচন হয়ে গিয়েছে ৯ এপ্রিল। অথচ বিরোধী রাজ্য কেরালমের ভোট পরিসংখ্যান এখনও কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হয়নি। চলতি বিধানসভা...

শীর্ষে ওঠার স্বপ্নে জোর ধাক্কা! ব্রিটেনকেও ছুঁতে পারল না, বিশ্ব অর্থনীতিতে কোণঠাসা ভারত

বিশ্ব অর্থনীতির ‘সুপার পাওয়ার’ হওয়ার হাঁকডাক আর তর্জন-গর্জন কি তবে শুধুই প্রচারের ফানুস? আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের (আইএমএফ) সাম্প্রতিকতম...