Sunday, June 14, 2026

প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্রাত্য, শাহ-সাক্ষাতেও ডাক নেই: না ডাকলে যাই না, ব্যাখ্য়া দিলীপের

Date:

Share post:

যখন রাজ্য সভাপতি ছিলেন তখন তিনিই সামনে থেকে স্বাগত জানাতেন। পদও নেই, দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) সম্মানও নেই – কার্যত বঙ্গ বিজেপি সেই ছবিই তুলে ধরতে চেয়েছেন মোদি-শাহ সফরে। যেখানে বঙ্গ বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর সফর দিয়ে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরুর পরিকল্পনা নিচ্ছে, সেখানে বাদ থাকছেন এই রাজ্যে বিজেপির সবথেকে সফল নেতাই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঢাকতে যদিও অভিমানী দিলীপের দাবি, প্রয়োজন হয় না তাই বড় নেতাদের কাছে যান না, সংগঠনের কাজ করেন।

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বঙ্গ বিজেপিতে সাজো সাজো রব নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও অমিত শাহর (Amit Shah) সফর ঘিরে। আর এসব থেকে শত যোজন দূরে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্যের সবথেকে সফল রাজ্য সভাপতি মানলেও তাঁর নামে কুৎসা বা অপপ্রচারের জন্যই হোক, বা অন্য কোনও কারণে, দিলীপকে আর গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তা প্রমাণিত হল মোদি ও শাহর সফরে দিলীপকে আমন্ত্রণ না জানানোয়। তাতে অভিমান হলেও প্রকাশ করতে নারাজ দিলীপের (Dilip Ghosh) বক্তব্য, বড় নেতারা না ডাকলে আমি যাই না, তাঁদের মান সম্মানের ব্যাপার থাকে। তাঁরা যাদের ডাকেন তাঁরা যান। আমার প্রয়োজন হয় না। আমি সংগঠনের কাজ করি নিজে। যখন প্রয়োজন হয় তাঁরাই ডাকেন। কী করতে হবে তাঁরা বলেন। সেটা আমরা পালন করি মাত্র।

এই সব সফরে যে পুরোনো দিনের কথাও মনে পড়ে দিলীপ ঘোষের, তাও তাঁর বার্তায় স্পষ্ট। তিনি বলেন, যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন যেতাম, স্বাগত করতাম ওনার সঙ্গে থাকতাম। এখন অন্যরা সেই দায়িত্বটা সামলাচ্ছেন। আমরা কার্যকর্তাদের বৈঠকে থাকব।

তবে বিজেপির যে অংশ দিলীপ ঘোষের ব্রাত্য হয়ে থাকা নিয়ে গোপণে মজা লুটছেন, তাঁদের জন্যও বার্তা দেন দিলীপ। তিনি বলেন, রাজনীতিতে একটা লোকেদের মধ্যে ট্রেন্ড আছে নেতার পিছনে পিছনে ঘোরা। কারণে অকারণে ১০০ ২০০ লোক দাঁড়িয়ে থাকে সারাদিন, দেখাও করে না কিছু না। এটা একটা কালচার হয়ে গিয়েছে। যে বৈঠকে, যে অনুষ্ঠানে যেতে বলা হয়, কর্মীরা সেখানেই যায়। কোন নেতারা কোথায় থাকবে সেটা পার্টিই ঠিক করে। এটাকে আমরা শৃঙ্খলা বলি।

শনিবার রাতে কলকাতা পৌঁছাবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার রাত ৯.২৫-এ কলকাতা বিমান বন্দরে তাঁর বিমান অবতরণ করবে। রবিবার কলকাতার বিলাসবহুল হোটেল থেকেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ও নেতাজী ইন্ডোরে কর্মী সম্মেলনে যোগ দেবেন। রবিবার রাতেই তিনি ফিরে যাবেন দিল্লি। তাঁর এবারের সফর মূলত কলকাতা নির্ভর হলেও তা নিয়ে ব্যস্ত গোটা রাজ্যের নেতারা। ব্যস্ততা থেকে অনেক দূরেই রয়ে গেলেন এবার দিলীপ ঘোষ।

Related articles

বুদ্ধিজীবীরা নীরব কেন? বাংলায় ফের গণধর্ষণে সরব বিরোধীরা

নারী সুরক্ষার একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। কিন্তু খোদ শাসকের সেই আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির পরেও...

দৃষ্টিহীনের সুরের লড়াই! রূপোলি পর্দায় দৃষ্টিহীনদের যাপনচিত্র নিয়ে এল ‘আঁখি’

চোখের আলো নেই, কিন্তু মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা সুরের জোরেই সমাজের মূল স্রোতে জায়গা করে নেওয়ার অদম্য লড়াই।...

তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া: মমতাকে চিঠি

কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল হয়ে এবার কি বিজেপির পথে মানস ভুঁইয়া? তৃণমূলের দুঃসময়ে যখন বিধায়ক থেকে সাংসদরা দল ছেড়ে...

নীরব-মামলায় পিএনবি কর্তাদের ক্লিনচিট দিল সিবিআই, বিশেষ আদালত থেকে মামলা সরল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) জালিয়াতি মামলায় বড়সড় মোড়। পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার...