২০২৩ সালে তদন্তভার নিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। একমাত্র কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলেই বিচার মিলবে বলে যে আশা ছিল দাড়িভিটের (Darivit) দুই ছাত্রের পরিবারের তা যে নিরাশায় পরিণত হয়েছে তা এই মামলাতেই প্রমাণিত। ১৪ মাসের তদন্তেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তায় এবার প্রশ্ন তুললে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। একেবারে সময় বেধে দিয়ে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এনআইএ আধিকারিকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।

২০১৮ সালের উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিটে স্কুলে গুলি চলার ঘটনায় মৃত্যু হয় তাপস বর্মন এবং রাজেশ সরকার নামে দুই পড়ুয়ায়। প্রথম থেকেই সেই মামলায় দাবি ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে তদন্তের। মামলাকারী দুই পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে তৎকালীন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার (former CJ Rajshekhar Mantha) ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৩ সালে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় আগেও হাই কোর্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এনআইএ-কে।

প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের তরফে ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল এই মামলায় এনআইএ-কে সময় বেধে দিয়েছিল এই মামলার রিপোর্ট পেশের জন্য। তা সত্ত্বেও নিরুত্তর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কার্যত আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ১৪ মাস ধরে নীরবতা অবলম্বণ করে চলেছেন এনআইএ আধিকারিকরা।

সেই পরিস্থিতিতেই নিহত দুই পড়ুয়ার পরিবার ফের আদালতের দ্বারস্থ। তাঁদের আইনজীবীদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত এনআইএ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কোনও সদর্থক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী তীব্র ভর্ৎসনা করেন এনআইএ আধিকারিকদের। পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, কোনও সংস্থা নিজেকে আদালতের (Calcutta High Court) উপরে যদি মনে করে তাহলে তার ফল তাঁদের ভুগতে হবে। সেই সঙ্গে এনআইএ (NIA) আধিকারিকদের ৯ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশের সময় বেঁধে দেন বিচারপতি চক্রবর্তী। সেই সঙ্গে জানান, তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ না করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এনআইএ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে।

–

–

–

–

–

–
–
–
–
–


