Wednesday, January 14, 2026

নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা, দোষীর মৃত্যুদণ্ড জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতের

Date:

Share post:

ধূপগুড়ি (Dhupguri) থানার পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দোষী হরিপদ রায়কে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করল জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) বিশেষ পকসো আদালত (Court)।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে পুলিশের নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং মানবিক সংবেদনশীলতা নজর কাড়ার মতো। ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধেয় ধূপগুড়ি থানার ভান্দানির টুকলিমারিতে এক নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার খবর পায় পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার পরই থানায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। নিখোঁজ নাবালিকার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর মাত্র দু’দিনের মাথায়, ১ অক্টোবর সন্ধে ৭টা নাগাদ গাদং ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজি পাড়ার ডুডুয়া নদীতে বস্তা দেখে স্থানীয়রা খবর দেন থানায়। সঙ্গে সঙ্গে ধূপগুড়ি থানার আইসি সুজয় তুংগা এবং একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটি উদ্ধার করেন। তার ভিতরে থাকা মৃতদেহটি জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) হাসপাতালে পাঠানো হয় শনাক্তকরণের জন্য। পরে মৃতদেহটিকে নিখোঁজ মেয়েটির বলেই শনাক্ত করেন তার বাবা। প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পাওয়া গিয়েছিল নাবালিকার নিথর দেহ।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তের ভার দেওয়া হয় ধূপগুড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর সুমিত মুক্তানকে। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পরই তিনি প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর হন। ২ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় টুকলিমারির বাসিন্দা হরিপদ রায় (৩১)-কে। ধৃত অভিযুক্ত নাবালিকার প্রতিবেশী ছিলেন। সে মাঝেমধ্যেই টেলিভিশন দেখতে অভিযুক্তের বাড়িতে যেত। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়। ২৯ সেপ্টেম্বর সে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়, সেখানে তাকে ধর্ষণ করে ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে সে মৃতদেহটি নদীতে ফেলে দেয়। এই ঘৃণ্য অপরাধের তদন্তে পুলিশ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬AB (নাবালিকাকে ধর্ষণ), ৩০২ (খুন), ২০১ (প্রমাণ লোপাট) এবং পকসো আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করে। তদন্তকারী অফিসার সুমিত প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল রিপোর্ট, ফরেনসিক নমুনা, সাক্ষী ও ঘটনার পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ১৮ নভেম্বর ২০২৩-এর মধ্যেই চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার শুনানি চলে জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতে।
আরও খবরঅবশেষে রাজাকে খুনের কথা স্বীকার সোনমের, তৈরি ছিল প্ল্যান বি!

আদালতে দীর্ঘ বিচারপর্ব শেষে, বুধবার বিচারক রিন্টু সুর অভিযুক্ত হরিপদ রায়কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন, পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার চেষ্টার জন্য ৭বছরের জেল ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

spot_img

Related articles

হাই কোর্টে নিয়ন্ত্রণ শুনানি পর্ব: বুধে ইডি-আইপ্যাক মামলার আগে জারি নির্দেশিকা

একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দুপক্ষের দায়ের করা মামলা কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta...

চন্দ্রকোণায় প্রতিবাদ মিছিল শুভেন্দুর: কাল্পনিক, ভিত্তিহীন অভিযোগ, দাবি তৃণমূলের

আরও একবার বিরোধী দলনেতা নিজের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করার চেষ্টায়। নির্বাচনের আগে কোনও ইস্যু...

আক্রান্ত উত্তর ২৪ পরগনায় দুই নার্স! নিপা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের...

রাজনীতির রঙ ভুলে শেষ শ্রদ্ধা সমীর পুততুণ্ডকে: দেহ দান এসএসকেএমে

বাংলার রাজনীতি যে সবসময় সৌজন্য শেখায় তা আবার এক মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল। মঙ্গলবার প্রয়াত পিডিএস...