Friday, June 12, 2026

মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত সিমলা-মানালি, বন্ধ জাতীয় সড়ক-সহ ১৭১টি রাস্তা

Date:

Share post:

বর্ষার (Monsoon) শুরুতেই বিপর্যয় হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh)। মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে নিমেষের মধ্যেই তছনছ হয়ে গিয়েছে প্রায় গোটা রাজ্য। একাধিক জেলাতেই নেমেছে হড়পা বান, ধস (Landslide)। কাঙ্গরা জেলায় এদিনের হড়পা বানের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন ২০ জন শ্রমিক। উদ্ধার হয়েছে মাত্র দুজন শ্রমিকের মৃতদেহ। বুধবার সারাদিন ধরেই ভারী বৃষ্টি (Heavy Rain) হয় হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) জুড়ে। কাঙ্গরা জেলার মানুনি খাদের কাছে ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী হাইড্রোইলেট্রিক প্রজেক্টের কাজ করছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ ছিল তাই শ্রমিকরা পাশেই একটি অস্থায়ী ছাউনিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই খানিয়ারা মানুনি খাদের জলস্তর বেড়ে যায় আর জলের তোড়ে নিমেষে ভেসে যান শ্রমিকরা।

খবর দেওয়া হয় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় প্রশাসন, গ্রাম পঞ্চায়েত ও রাজস্ব বিভাগ। তারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তবে মাত্র ২ জন শ্রমিকেরই দেহ উদ্ধার হয়েছে। সূত্রের খবর, কুলুতেও হড়পা বান নেমেছে এবং সেখানে তিনজনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি, দোকানপাট, রাস্তা ও ছোট ব্রিজ। মানালি ও বাঞ্জার জেলাতেও হড়পা বান এসেছে। একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে মানালি-চণ্ডীগঢ় জাতীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুতলেজ নদীর জলস্তরও ক্রমশ বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হিমাচলের বেশ কয়েকটি জেলায় অবস্থা বেশ জটিল। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া আশঙ্কা রয়েছে কারণ মৌসম ভবন বেশ কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। চম্বা, কাংড়া, মন্ডী, শিমলা এবং সিরমৌর জেলায় হড়পা বানের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ধস এবং বৃষ্টির ফলে ৩০৫ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রাজ্যের ১৭১টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দুর্যোগের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন পর্যটকেরা। বিমান পরিষেবাও ব্যাহত। কুলুর সৈঞ্জ উপত্যকার শানশার, শানগড় এবং সুচাইহানে প্রায় ২০০০ পর্যটক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। লাহুলেও বেশ কিছু পর্যটক আটকে আছেন বলে খবর।

উল্লেখ্য, হড়পা বানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৈঞ্জের জীবানালা, মানালির স্নো গ্যালারি, গাডসার শিলাগড়, মানালির হরনাগড়, ধর্মশালার খনিয়ারা। উদ্ধারকাজে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন।

Related articles

মৃত্যুঞ্জয়ের পরে সায়নীর অবস্থান জানতে চেয়ে পোস্ট যুবনেতা শুভ্রজিতের

যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় পালের (Mrityunjay Paul) পরে এবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল সভাপতি শুভ্রজিৎ...

ইতিহাসের গৈরিকীকরণের অভিযোগ! প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিতর্কিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদ্‌যাপনের তোড়জোড় বিজেপির 

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আগামী ২০ জুন রাজ্যজুড়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি সরকার। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘোষণার পর...

আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল! ফলতায় ফের অভিযুক্তকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই কারও সম্মানহানি করতে...

কৃষকবন্ধুর বিদায়! কেন্দ্রের প্রকল্পে কপালে চিন্তার ভাঁজ বাংলার কৃষকদের

বন্ধ হয়ে গেল রাজ্যের কৃষকদের বড় ভরসা ‘কৃষকবন্ধু’ ও ‘বাংলা শস্য বীমা’ প্রকল্প। বর্তমান রাজ্য সরকার এই দুটি...