পথচারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার সারা দেশে একটিই ফুটপাথ নীতি— এমন উদ্যোগই নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর মন্ত্রক সমস্ত রাজ্যকে রাস্তার প্রস্থ, বিদ্যমান ফুটপাথ, ফুট ওভারব্রিজ ও সাবওয়ের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই স্থির হবে— কত চওড়া রাস্তার কতটা অংশ পথচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক, কোথায় ওভারব্রিজ বা সাবওয়ে আবশ্যক, এবং কী ধরনের নকশা হবে সর্বভারতীয় মানদণ্ডে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গত মাসে বিচারপতি অভয় ওকা ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে— ‘‘পথচারীদের নিরাপদে চলাচল করার অধিকার সংবিধানের ২১‑তম অনুচ্ছেদ অনুসারে মৌলিক অধিকার।’’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেশির ভাগ শহরে ফুটপাথ either নেই বা হকারদের দখলে চলে যায়; ফলে পথচারীকে রাস্তায় নামতে গিয়ে প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটে। তাই আগামী দু’মাসের মধ্যে সব রাজ্যকে নিজস্ব গাইডলাইন পেশ করতে হবে, ১ অগস্টের পরবর্তী শুনানিতে তা খতিয়ে দেখবে শীর্ষ আদালত।
নবান্ন সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন, পূর্ত এবং পঞ্চায়েত দফতরকে দ্রুত যৌথ রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। নগরোন্নয়ন দফতর ইতিমধ্যেই একটি খসড়া নীতি কেন্দ্রে পাঠিয়েছে; বাকি দুই দফতরও শীঘ্রই পরিকাঠামোগত তথ্য দেবে। প্রশাসনের একাংশের মত, নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি জরুরি, কারণ ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পূর্ববর্তী অভিযানগুলি দীর্ঘস্থায়ী ফল দেয়নি।

কী থাকতে পারে অভিন্ন নীতিতে

• ❖ রাস্তার প্রস্থভিত্তিক বাধ্যতামূলক ফুটপাথ-অনুপাত।
• ❖ জনঘনত্ব ও ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে ওভারব্রিজ/সাবওয়ের তালিকা।
• ❖ হকার পুনর্বাসন ও ফুটপাথ‑রক্ষণাবেক্ষণের কড়া নির্দেশিকা।
• ❖ বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য‑কেন্দ্র সমন্বিত তদারকি কমিটি।

সড়ক নিরাপত্তা ও পথচারী স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্র ও সুপ্রিম কোর্টের এই যুগ্ম পদক্ষেপ ঘিরে এখন রাজ্যগুলির চোখ আগামী কয়েক সপ্তাহে— কীভাবে তথ্য সংগ্রহ, গাইডলাইন প্রণয়ন ও জমা দেওয়ার কাজ শেষ করা যায় তার দিকেই।

আরও পড়ুন – ভিডিওতে মিথ্য়াচার বিরোধী দলনেতার! আইনি পথে ডেবরার বিধায়ক

_
_
_
_
_
_
_
_
