রেশন সামগ্রীর গুণমান, ওজন ও সরবরাহ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার আরও কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে রাজ্যের খাদ্য দফতর। চলতি জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের প্রতিটি পুরসভা ও ব্লকে মাসিক বৈঠক করার নির্দেশ জারি করেছে দফতর। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রেশন ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, গ্রাহক প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা।

খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, চাল, আটা ও অন্যান্য রেশন সামগ্রীর গুণমান, ওজন ও সময়মতো সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগগুলি এই বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হবে। এছাড়া, বৈঠকের আলোচ্য সূচি, গৃহীত পদক্ষেপ, ও উপস্থিতির তালিকা নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে আপলোড করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ামকদের। মহকুমা স্তরে খাদ্য নিয়ামকদের এই বৈঠকগুলি নিয়মিত ও কার্যকর করতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আটার নিম্নমান নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানিয়েছে দফতর । তাই এর গুণগত মান নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষার নির্দেশ জারি হয়েছে। সেই রিপোর্টও অনলাইনে আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠছে। রেশন ডিলারদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, “এ ধরনের অভিযোগগুলি আমরা নিজে থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে মাসিক বৈঠকে তুলব, যাতে সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।”

রেশন দোকানে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও যথাযথ পরিষেবা নিশ্চিত করতে শনিবার-রবিবার সহ ছুটির দিনেও খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘জন সম্পর্ক অভিযান’ও চালু রয়েছে, যেখানে দফতরের কর্মীরা সরাসরি রেশন দোকানে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ শুনে রিপোর্ট তৈরি করেন। খাদ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য একটাই— রেশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানো।” রেশন পরিষেবায় কোনও সমস্যা বা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ বার প্রশাসনকে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন – সুপ্রিম নির্দেশে এক দেশ এক ফুটপাথ! রাজ্যগুলির থেকে রিপোর্ট তলব কেন্দ্রের

_

_

_
_
_
_
_
_
_
_
