ওষুধের দোকানে আর প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না কাশির সিরাপ(cough syrups)। মঙ্গলবার নয়া বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দেশ অনুযায়ী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন থাকলে তবেই মিলবে সিরাপ।

নতুন সিদ্ধান্তে বাজারে সহজলভ্য ও শর্তহীনভাবে বিক্রি হওয়া ওষুধের তালিকা থেকে সিরাপকে একদমই বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া যে কোনও ধরনের সিরাপ(cough syrups) কেনা বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে। ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) নিয়ম, ২০২৬’-এর অধীনে আগে থেকেই এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সরকারি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকেই এটি সারা দেশে কার্যকর হবে। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে নতুন নিয়ম পুরোপুরি চালু হয়েছে।

বলে রাখা ভালো, কাশির সিরাপকে নেশার দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতাও রয়েছে। এই অপব্যবহার রোধ করতে ভারত ও বাংলাদেশে কোডিন যুক্ত কাশির সিরাপ নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে আগেই।

এই সিন্ধান্ত কেন?তামিলনাড়ু ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের একটি পরীক্ষায় ধরা পড়ে, এই কাশির সিরাপে রয়েছে ৪৮.৬ শতাংশ ‘ডাইথিলিন গ্লাইকল’ ও ইথিলিন গ্লাইকল নামের বিশেষ রাসায়নিক, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কয়েক মাস আগে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে কাশির ওষুধ খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই সাধারণভাবে ব্যবহৃত তরল ওষুধের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং কড়া নজরদারির দাবি ওঠে। মধ্যপ্রদেশে কমপক্ষে ২২ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। এরই প্রেক্ষিতে ভারতে দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য সব ধরনের কাশি ও সর্দি-কাশির ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়। এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে সব ধরনের কফ সিরাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।

–

–

–
–
–
