গতবারের ব্রিকস সম্মেলন থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিকস দেশগুলির সম্পর্ক ভালো নয়। মার্কিন ডলারের বিরোধিতা থেকে মার্কিন শুল্ক নীতি (tariff policy) নিয়ে এবারের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনেও যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে তাতে কী পায়ের তলার মাটি সরতে শুরু করেছে মার্কিন রাষ্ট্রপতির? এবার মার্কিন অর্থনীতির বিরোধিতা ব্রিকস-এর অন্তর্ভুক্ত যে দেশ করবে তাদের উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর (additional tariff) চাপানোর ঘোষণা করে ফেললেন ট্রাম্প।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো-তে চলতি ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে মার্কিন শুল্ক নীতির স্পষ্ট বিরোধিতা করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয় সদস্য দেশগুলির তরফে। সেই সঙ্গে ইরানের (Iran) উপর হামলারও বিরোধিতা করা হয়। সেখানেও মার্কিন বিরোধিতা স্পষ্ট। ইজরায়েল যে মার্কিন মদতেই ইরানের উপর হামলা চালিয়েছিল, তাকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি লঙ্ঘনকারী হিসাবে দেখানো হয় ব্রিকস সম্মেলনে।
ব্রিকসের বিগত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে মার্কিন ডলারকে প্রতিস্থাপনের প্রসঙ্গ উঠেছিল। তাতে বেশিরভাগ সদস্য দেশ সহমত পোষণ করলেও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে ফল ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক চাপানো শুরু করেন। অথচ ব্রিকস-এর সদস্য দেশগুলির জনসংখ্যা গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি। সেই পরিস্থিতিতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন থেকে মার্কিন শুল্ক নীতির (tariff policy) বিরোধিতা করা হলে তা আখেরে যে আমেরিকার জন্য ভালো হবে না, তা স্পষ্ট ট্রাম্পের কাছে।

এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বড় সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেছে চিন। ব্রিকস-এর সঙ্গে চিন (China) যৌথভাবে নিউ কোয়ালিটি প্রোডাকটিভ ফোর্স তৈরির কাজ শুরু করবে। তার জন্য ব্রিকস দেশগুলির জন্য চালু হবে বিশেষ স্কলারশিপ। যার মাধ্যমে তৈরি করা হবে উৎপাদনে সক্ষম যোগ্য শ্রমিক ও কারিগর। ফলে কার্যত স্পষ্ট, ব্রিকস দেশগুলি নতুন উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। যার বাজার পেতেও সমস্যায় পড়তে হবে না, এই দেশগুলির বিপুল জনসংখ্যার জন্য। সেক্ষেত্রে ধাক্কা খেতে পারে মার্কিন উৎপাদন শিল্পও।

আরও পড়ুন : গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের নিম্নচাপ, সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টি

এই সব দেখে সাত তাড়াতাড়ি হুমকির পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নিজের ট্রুথ হ্য়ান্ডেলে তিনি হুমকি দেন, ব্রিকস-এর আমেরিকা বিরোধী নীতির সঙ্গে যদি কোনও দেশ সঙ্গ দেয়, তবে তাদের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। এই নীতির ক্ষেত্রে কোনও ব্যতিক্রম হবে না।

–

–
–
–
–
–
–
–
