Wednesday, February 25, 2026

দাম থাকলে জল্পনা হয়, যাঁদের দাম নেই তাঁরা রাস্তায় গড়াগড়ি খায়: কাদের নিশানা দিলীপের

Date:

Share post:

বেশি কিছুদিন হল বিজেপিতে কোণঠাসা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণের মঞ্চেও ডাকা হয়নি দিলীপকে। রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূলে (TMC) যোগ দেবেন দিলীপ। মঙ্গলবার বিকেল চারটেয় নিউটাউনে বিজেপি (BJP) পার্টি অফিসে নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সঙ্গে দেখা করেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। আর তার পরেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কারও নাম করে দিলীপ বলেন, “দিলীপ ঘোষের দাম আছে, দাম থাকবে। যাদের দাম থাকে তাঁদের নিয়েই জল্পনা হয়। যাঁদের দাম নেই তাঁরা রাস্তায় গড়াগড়ি খায়।”

এদিন, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক করেন দিলীপ। তার পরে বেরিয়ে ফের বিজেপির আদি-নব্যর জল্পনা উস্কে দেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। বলেন, ”শুধু আমি না, বিজেপির প্রত্যেক পুরনো কর্মী শমীকবাবুর পাশে আছি।”

একুশে জুলাইয়ে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন-এই জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে। কী বলবেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কারও নাম না করেই দিলীপ সহাস্য উত্তর, “বাজারে যার দাম থাকে তাঁর সেলের কথা ওঠে। যাদের দাম নেই তাঁদের কিনবে কে? তাঁরা রাস্তায় পড়ে থাকে। দিলীপ ঘোষের দাম আছে, দাম থাকবে। দিলীপ ঘোষ সেলেবেল নয়।” কদিন আগে শমীকও জানিয়েছিলেন, দিলীপ ঘোষ সেলেবেল নন।

এতই যদি শমীকের সঙ্গে সখ্যতা, তাহলে দায়িত্বভারের মঞ্চে কেন দেখা যায়নি দিলীপকে! উত্তরে প্রাক্তন বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি বলেন, ”যে কর্মসূচিতে আমার থাকার কথা সেখানে আমাকে ডাকা হয়। আমি রাজ্যের কোনও পদাধিকারী নই। ফলে আমাকে রাজ্যের সমস্ত বৈঠকে থাকতে হবে এমন কথা নেই। আমাকে দল গাড়ি দিয়েছে। সেই গাড়িতেই আমি দলের কাজ করছি। আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে, পদ দিয়েছে। এর কোনওটাই আমি চাইনি। আমি নিজের জেলা মেদিনীপুরে কাজ করছি। আমাদের জেলাই এগিয়ে আছেন। মাননীয় রাজ্য সভাপতি রাজ্য সফরে বেরোবেন। জেলায় জেলায় তাঁকে ধূমধাম করে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আমি বলেছি সেই কর্মসূচি মেদিনীপুর থেকে শুরু করতে।”

পুরনো বিজেপি নেতা শমীক। দিলীপ নিজেই বলেছেন, শমীকদা আমার আগে থেকে বিজেপি করছেন। দলবদলু নেতাদের দাপটে বঙ্গ বিজেপিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দিলীপের মতো গেরুয়া শিবিরের আদি নেতৃত্ব। এবার শমীককে পেয়ে তাঁরা আবার পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছেন। অনেক মতেই দিলীপের সঙ্গে শমীকের যোগাযোগে কখনও ভাঁটা পড়েনি। কিন্তু যেখানে বিরোধী দলনেতা দলবদলু, উগ্র হিন্দুত্ববাদী, ধর্মীয় তাস খেলা ব্যক্তি, সেখানে আদি শমীকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব অনিবার্য বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

spot_img

Related articles

হাই কোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে মামলা শীর্ষ আদালতে! ফের আইনি জটিলতায় ৩২ হাজার চাকরি

নতুন করে আইনি জটে বিদ্ধ হতে চলেছে প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে...

বিয়ের মঞ্চে কনেকে গুলি! অভিযুক্তর পরিচয় জেনে স্তম্ভিত সকলে

বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল ভয়াবহ ঘটনায়। বিহারের (Bihar) বক্সার (Buxar) জেলার চৌসা এলাকায় বিয়ের মঞ্চে মালাবদলের সময়...

ভোটে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই নয়া ফন্দি! BJP-র হয়ে রিল বানালেই ২০ হাজার

ভোটের লড়াইয়ে মাঠে ময়দানের জোর না পেয়ে ডিজিটাল মিডিয়ায় সমর্থন টানতে টাকা হাতে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। ছাব্বিশের...

ফের বাংলার মুকুটের সেরার তকমা, ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে দেশে প্রথম

স্বল্প সঞ্চয়ে ফের দেশের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আওতাধীন বিভিন্ন ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে জমার অঙ্কের নিরিখে প্রথম স্থান...