Thursday, January 15, 2026

দরিদ্র-স্বল্পবিত্তদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী: নিউটাউনে আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন, কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভ

Date:

Share post:

‘নিজন্ন’ ও ‘সুজন্ন’- আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বড় উপহার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিউটাউনে উদ্বোধন হল দুটি বহুতল আবাসনের। বৃহস্পতিবার এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই কেন্দ্রকে একহাত নিলেন মমতা। ফের একবার বঞ্চনার অভিযোগে মুখ খুললেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিউটাউনে ‘নিজন্ন’ ও ‘সুজন্ন’ তৈরিতে বিনামূল্যে ৭ একর জমি দিয়েছে রাজ্য। আবাসন দুটো তৈরিতে মোট ব্যয় হয়েছে ২৯০ কোটি টাকা। দু’টি বহুতল আবাসন মিলিয়ে ১২১০ ফ্ল্যাট আছে। ৭ একর জায়গা জুড়ে তৈরি বহুতল ওই আবাসনে ৬২০ স্কোয়্যার ফিটের ৭২০টি 2BHK ফ্ল্যাট রয়েছে। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজারদরের তুলনায় অনেক সস্তায় পাওয়া যাবে এই ফ্ল্যাট এবং বিক্রি হবে লটারির মাধ্যমে। জমি সরকার দিয়েছে। জমির দাম নেওয়া হয়নি। ভর্তুকি দিয়ে বাজারে যা দাম তার থেকে অনেক কম দামে এই ফ্ল্যাটগুলি পাওয়া যাবে। লটারি করে স্বচ্ছতার মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে ফ্ল্যাটগুলি। জমিগুলি বিনামূল্যে রাজ্য সরকার দিয়েছে। আমি চাই প্রতিটি মানুষের নিজস্ব আশ্রয় থাকুক। নিউটাউনে যারা গরিব মানুষ তাদের জন্য এই দু’টো বড় বহুতল আবাসন প্রকল্প তৈরি হয়েছে। যারা কম ইনকাম গ্রুপ আছেন তাদের জন্যও ফ্ল্যাট হয়েছে। EWS এবং LIG গ্রুপের জন্য এই আবাসনগুলি তৈরি করা হয়েছে। অনেক মানুষকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে পারবে এই প্রকল্প। ১৫ তলার বিল্ডিং এটি। নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীদের জন্য ১৬ তলার ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে। যাতে ৭২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া রাজারহাটে বহুতল পার্কিং লট তৈরি হয়েছে। সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুসম্পন্ন’। ৮ তলা গাড়ি রাখার ব্যবস্থাতে ১৫০০র বেশি গাড়ি থাকতে পারবে। ১৪১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। আবাসনের ছোটদের পার্কের নাম দেওয়া হয়েছে তরন্ন। এছাড়া সেখানে রয়েছে ২০০ আসনবিশিষ্ট মুক্তমঞ্চ, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া ও মর্নিং ওয়াকের জায়গা।“

এরপরেই কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্য সরকার নিজের টাকা দিয়ে বাংলার বাড়ি করে দিয়েছে। বাড়ি তৈরী করার জন্য টাকা দেয় না কেন্দ্র। আমরা অন্তত চেষ্টা করেছি। কয়েক বছরের মধ্যে ৪৫ লক্ষ বাড়ি করেছি গ্রামীণ আবাস যোজনায়। পাঁচ বছর পর পর এক নম্বরে ছিলাম আমরা। গ্রামে রাস্তাতেও তাই ছিলাম। কিন্তু গত চার-পাঁচ বছরে এক পয়সাও দেয়নি কেন্দ্র। এখন সব বন্ধ। পাওনা টাকা পাচ্ছি না। তার পরও ১২ লক্ষ বাংলার বাড়ির টাকা রাজ্যের কোষাগার থেকে দেওয়া হয়েছে। ১৬ লক্ষ মানুষ আরও যাঁরা তালিকায় আছেন ডিসেম্বরে এক কিস্তি পেয়ে যাবেন, দ্বিতীয় কিস্তি পাবেন মে মাসে। বাকি যা থাকবে, ধাপে ধাপে করে দেব। কেন্দ্র আমাদের ২৪,০০০ কোটি টাকার তহবিল বকেয়া রেখেছে। আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা আমাদের অধিকার চাই।বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ১৪,৭৭৩ কোটি টাকা ব্যয় করছে, যা সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষের জন্য কাজ করছি। কেন্দ্র যদি তহবিল না দেয়, আমরা নিজেদের অর্থে ২০২৬ সালের মধ্যে ২৮ লক্ষ পরিবারকে ঘর দেব।”

আরও পড়ুন – মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করি না: বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ নিয়ে বিজেপিকে নিশানা মমতার

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

আড়াই মাসে প্রায় ৩০ লক্ষ টন, খরিফে ধান সংগ্রহে গতি রাজ্যের

রাজ্য খাদ্য দফতরের ধান সংগ্রহ অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। চলতি খরিফ মরসুমে সরকারি সহায়ক মূল্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের...

এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে মৃত ২! আত্মঘাতী বিএলও 

এসআইআর শুনানি ও অতিরিক্ত কাজের চাপকে কেন্দ্র করে রাজ্যে মৃত্যুর ঘটনা থামছেই না। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও লালগোলায়...

ইতিহাস গড়ল গঙ্গাসাগর! পুণ্যস্নানে ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী 

‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’-এর টানেই আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও বিপুল জনসমাগমের এক অনন্য মহামিলনে পরিণত হল গঙ্গাসাগর মেলা...

সুখবর! বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে এসএসকে-এমএসকে শিক্ষকদের, বিজ্ঞপ্তি জারি স্কুল শিক্ষা দফতরের

নতুন বছরে সুখবর এসএসকে ও এমএসকে শিক্ষকদের জন্য। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই...