Tuesday, March 17, 2026

‘বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা’ বলিয়ে নিতে নির্মম অত্যাচার: হরিয়ানায় নাথুরাম বিশ্বাসের ভয়ানক অভিজ্ঞতা

Date:

Share post:

শুধু মুসলিম নয়, হিন্দুরা বাংলা বললেও বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তুলে নিয়ে গিয়ে করা হচ্ছে নির্মম অত্যাচার। হরিয়ানা (Haryana) পালিয়ে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলার ব্যবসায়ী নাথুরাম বিশ্বাস। তিনি স্পষ্ট জানালেন, শুধু মুসলিম নয়, হিন্দুদেরও তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে। নির্যাতন এমন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যে অনেকে ভয়ে মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। নিজেরা ‘বাংলাদেশী’ বললেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে তুলে নিয়ে গিয়ে পুশব্যাক করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে একের পর এক ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নাথুরাম।

অশোকনগরের দক্ষিণপল্লির বাসিন্দা নাথুরাম বিশ্বাস (Nathuram Biswas)। ২৭ বছর ধরে হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের সেক্টর ফাইভ এলাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। থাকেন গুরগাঁওয়ের শীতলা কলোনিতে। তাঁর কাছে কাজ করা শ্রমিকদের অধিকাংশই মুসলিম। তাঁরা নয় পশ্চিমবঙ্গ, নয় অসমের বাসিন্দা। তবে ভাষা সবারই বাংলা। নাথুরামের অভিযোগ, এই বাংলা বলার ‘অপরাধে’ তাঁদের সবাইকে বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে খবর তাঁর কানে এলেও তিনি ভেবেছিলেন ধর্ম দেখে বোধ হয় এই নির্যাতন চলছে। পরে তুমি জানতে পারেন বিষয়টা ধর্মের নয়, বিষয়টা ভাষার। প্রচুর বাঙালি হিন্দুকে তুলে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা তকমা দিয়ে চূড়ান্ত মারধর করা হচ্ছে। অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যে অনেকে সারা জীবন আর কাজই করতে পারবেন না- এমন ভয় পাচ্ছেন।

নাথুরামের জানান, রাত ১১-১২টা বা ভোর তিনটে থেকে চারটের মধ্যে হরিয়ানা পুলিশ বাঙালি শ্রমিকদের তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে অকথ্য অত্যাচার চালাত। পুরনো বাড়ির দলিল, ভোটার আইকার্ড, আধার কার্ড- কোন কিছু দেখালেই রেহাই মিলত না। ভারতীয় প্রমাণ করতে পুলিশ স্বাধীনতার আগের নথি চাইত বলে অভিযোগ। অত্যাচারের ভয় কেউ কেউ নিজেদের বাংলাদেশী বা রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করতে বাধ্য হন। তখন তাঁদের ছেড়ে দিয়ে পরে বাংলাদেশ বুঝব্যাক করা হতো। কর্মীদের লুকিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন নাথুরাম। তারপর নিজেও লুকিয়ে চলে এসেছেন অশোকনগরে।

নিজের বাড়িতে বসে নাথুরামের প্রশ্ন, হিন্দুদের কাছে ভোট ভিক্ষা করে বিজেপি। অথচ যে হিন্দুদের ভোটে বিজেপির প্রার্থীরা বিধায়ক, সাংসদ হবেন, সেই ভোটারদেরই আজ দেশের নাগরিক বলতে চাইছে না বিজেপি সরকার। তাহলে তাঁদের ভোটে জেতা প্রার্থীরা বিধানসভায়, সংসদে গেলেন কী করে? বাংলা ভাষার উপর এই আক্রমণে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একজোট হয়ে প্রতিবাদের আর্জি জানিয়েছেন নাথুরাম।

spot_img

Related articles

‘বিনা কারণে’ শীর্ষ আধিকারিক বদল: স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক বদল জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের।...

বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকারি নির্দেশ, দু’দফায় মিলবে প্রাপ্য অর্থ

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মেটানো সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। সেখানে জানানো...

নির্বাচনী আচরণবিধির জের, থমকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জারি হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। তার জেরেই আপাতত থমকে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে...

জরুরি কারণ ছাড়া ছুটি নয়! ভোটের আগে পুলিশে ছুটিতে কড়াকড়ি 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ছুটি মঞ্জুরির উপর জারি হল কড়া বিধিনিষেধ। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ...