Friday, June 19, 2026

বাণীমন্দির স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম ঘিরে সাংসদ-বিধায়ক তরজা, পদত্যাগ পরিচালন সমিতির সদস্যের

Date:

Share post:

স্কুলে সাংসদ তহবিলের টাকায় স্মার্ট ক্লাস। আর তা নিয়ে সাংসদ ও বিধায়কের বিবাদ তুঙ্গে চুঁচুড়া বাণীমন্দির স্কুলে (School)। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে শুক্রবার স্কুলের পরিচালন সমিতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিধায়ক ঘনিষ্ঠ গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়।

চুঁচুড়া বাণীমন্দির স্কুলে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rachana Banerjee) সংসদ তহবিল থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হঠাৎই পরিদর্শনে রচনা।সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সাংসদ তহবিলের টাকায় কেন স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি হচ্ছে? কে বরাত পেয়েছে- তা নিয়ে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের (Asit Mujumder) রোষের মুখে পড়েছেন প্রধান শিক্ষিকা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান তৃণমূল সাংসদ। বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আশ্চর্যজনক ঘটনা। স্মার্ট ক্লাসরুম প্রয়োজন ছিল বাণীমন্দির স্কুল চেয়েছিল। আমি দিয়েছি। আরও দেব।” ক্ষোভ উগড়ে রচনা বলেন, “তৃণমূল (TMC) বিধায়ক শিক্ষিকাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন! শিক্ষিকাদের একটা সম্মান আছে। এটা কখনওই মানা যায় না।” সাংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আগামী দিনেও কাজ করব। স্কুলের উন্নতি করব স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করব। কার কত দম আছে দেখব। এই ঘটনা যাঁকে জানাবার তাঁকে জানাব। দল জানে ওনার গতিবিধি। এর আগেও নানা ঘটনা ঘটেছে। উনি বোধহয় চাইছেন না স্মার্ট ক্লাস রুম হোক। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। আমার সাতজন বিধায়কের একজনই হয়তো দলের বদনাম করছেন ৬ জন দলের কথা ভাবেন। ওনার বয়স হয়েছে মাথা কাজ করছে না।”

বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, “উনি আমার দলের সাংসদ। উনি যেটা বলতে পারেন আমি সেটা পারি না। আমি সাংসদের কথার উপর কোনও কথা বলব না। যা বলার দলকে বলব।” ইতিমধ্যেই দলের উচ্চ নেতৃত্বকে চিঠি লিখে জানানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন বিধায়ক।

এসবের মধ্যেই বাণী মন্দির স্কুলে (School) গিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দেন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়। জানান, হুগলি ডি আই, মহকুমা শাসক এবং জেলাশাসককেও পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এলাকায় অসিত মজুমদার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গৌরীকান্তের আবার অভিযোগ, “বিধায়ককে যেভাবে বদনাম করার চেষ্টা করা হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।কারণ ঘটনার দিন আমি বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। বিধায়ক কারও সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করেননি।তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন স্কুল চলাকালীন যে মিস্ত্রিরা কাজ করছে তাঁদের পরিচয় পত্র স্কুলের কাছে রাখা আছে কি না। কারণ এটা মেয়েদের স্কুল কিছু একটা বিপদ হয়ে গেলে তার দায় সরকারের উপর বর্তাবে। স্কুলের এক অভিভাবক বিধায়ককে ফোন করে জানিয়ে ছিলেন, স্কুল চলাকালীন বাইরের লোক এসে কাজ করছে তাই বিধায়ক এসেছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের মন্তব্য করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে সাংসদকে আমি কিছু জানায়নি। বিবেকের তাড়নায় আমি পদত্যাগ করলাম।” এখন এই ঘটনার শেষ কোথায় সেটাই দেখার।

 

Related articles

বিরোধী দলনেতা বিতর্ক: সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে শোভনদেব

রাজ্যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি লড়াই এবার পৌঁছাল ডিভিশন বেঞ্চে। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তকে...

‘Keep Shining’, রাহুলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা অভিষেকের

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এক্স মাধ্যমে...

তারকেশ্বর থেকে রেড রোড, দুদিনের সফরে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে বাংলায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো দুদিনের সফরে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সফরসূচিতে রয়েছে...

প্রশান্তর মৃত্যুতে সিআইডি তদন্ত, আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

হাওড়ার বাগনানে (Bagnan,Howrah) বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র (Prashanta Dey)মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। নিহতের পরিবারকে মোট...