রাজ্যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি লড়াই এবার পৌঁছাল ডিভিশন বেঞ্চে। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তকে বহাল রেখে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যদিকে, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেন যে, ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক তথা বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। এই দাবির ওপর ভিত্তি করেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক এবং নিয়মবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আবেদন ছিল, বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। গত দু’দিন ধরে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার ম্যারাথন শুনানি চলে। তবে বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিরোধী ব্লকের বিধায়কদের নির্বাচনে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ না পাওয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর পদে বহাল থাকেন। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিঙ্গল বেঞ্চ। সিঙ্গল বেঞ্চে সুরাহা না মেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চের কড়া নাড়ল তৃণমূল শিবির। শুক্রবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন- তারকেশ্বর থেকে রেড রোড, দুদিনের সফরে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে বাংলায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

_

_

_

_
_
_
_
