Thursday, May 7, 2026

রাহুল-অভিষেক কাছাকাছি আসতেই হতাশ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব

Date:

Share post:

ঐক্যবদ্ধ I.N.D.I.A। রাহুল গান্ধির ডাকে নৈশভোজে উপস্থিত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien)। ছিলেন ২৪ দলের সদস্যরাও। সেখানে অভিষেকের সঙ্গে আলাপচারিতা হয়েছে রাহুলের৷ বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের প্রতিবাদে সরব হয়েছে কংগ্রেস। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কংগ্রেস-তৃণমূল (TMC) কাছাকাছি আসতেই হতাশ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী থেকে বর্তমান সভাপতি শুভঙ্কর সরকার পর্যন্ত সবাই এই বিষয় নিয়ে নিজেদের হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সন্ধেয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনের লনে এক নৈশভোজে অংশ নেন বিরোধী জোটের নেতারা। খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বেশ কিছুক্ষণ চলে প্রথম পর্বের আলোচনা। ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), ডেরেক ও’ব্রায়েন, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, শিবসেনা সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরে, ডিএমকের কানি মোঝি, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, আরজেডির তেজস্বী যাদব, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সিপিএমের এম এ বেবি। নৈশভোজে বিশেষভাবে নজর কাড়ে রাহুল গান্ধির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাদা করে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার ছবি।

আর এই ছবি দেখে স্বস্তি নেই প্রদেশ কংগ্রেসের। এটিকে একেবারেই জাতীয় নেতৃত্বের বিষয় বলে ঠেলে দিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর কথায়, “এটা কেন্দ্রের রাজনীতির বিষয় ৷ এর সঙ্গে রাজ্যের প্রসঙ্গ গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না । আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টা আসনেই জাতীয় কংগ্রেস হাত প্রতীকে লড়াই করবে । এটাই আমাদের স্ট্যান্ড । আমাদের কর্মীরাও এটাই চান । সেজন্য ইতিমধ্যেই আমরা একদম অঞ্চল থেকে শুরু করে বিধানসভা পর্যন্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি । এখনও পর্যন্ত দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে যে বার্তা আমি পেয়েছি, তাতে ২৯৪টি আসনেই একক ভাবে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।” অর্থাৎ যতই রাহুল গান্ধীরা একজোট হয়ে লড়ার বার্তা দিন না কেন, গোঁ ধরে বসে আছেন প্রদেশ নেতৃত্ব।

এদিকে এই বিষয় নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, সারা ভারতে বিজেপিকে রোখার জন্য একমাত্র মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাতে এসেই আটকে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেটা বুঝতে পারছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও। কিন্তু এখানে প্রদেশ কংগ্রেস সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপির বি টিমের মতো কাজ করছে। এইখানে এই বাংলায় তৃণমূলের জেতার জন্য কংগ্রেসকে প্রয়োজন নেই। মহারাষ্ট্রে, দিল্লিতে বিজেপিকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন বিজেপিকে রোখা যায়।

 

Related articles

আদালতের নজরদারিতে CBI তদন্ত হোক: মধ্যমগ্রামের খুনে দাবি তৃণমূলের

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উন্মত্ত অশান্তি রাজ্যের প্রত্যেক প্রান্তে। একদিকে যেমন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা খুন হয়েছেন রাজ্যে। তেমনই...

জনবহুল রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে গুলি: খুন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ

দুষ্কৃতী তাণ্ডবে গুলি করে খুন করা হল বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। উত্তর চব্বিশ পরগণার...

ফলাফলের ৪৮ ঘণ্টা: রাজ্যজুড়ে অব্যাহত বিজেপির দুষ্কৃতী তাণ্ডব

কোথাও পার্টি অফিস দখল, কোথাও মূর্তি ভাঙা থেকে বিরোধী দলের কর্মীদের রাস্তায় ফেলে পেটানো। বিজেপির শীর্ষ নেতারা বারবার...

৮০ থেকে ২৩০ হতে বেশি সময় লাগবে না, কর্মীদের পাশে থাকুন: কালীঘাটের বৈঠকে বার্তা অভিষেকের

ফল প্রকাশের পর বুধবার কালীঘাটে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে প্রথম বৈঠকে বসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান...