রাজ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখেই রাজ্যে শুরু ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী। রাজ্য প্রশাসনকে সেই খবর জানতে হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম থেকে। সেই সব রিপোর্ট তুলে কমিশনকে এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন করল রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব (Home secretary) নন্দিনী চক্রবর্তী শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে কমিশনের (Election Commission) অবস্থান স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র সচিব চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ৮ আগস্টের বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ও ৭ আগস্ট বাংলা সংবাদ চ্যানেলগুলির খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে—সিইও (CEO) দফতর নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) জানিয়েছে যে রাজ্য বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু রাজ্যের দাবি, এই বিষয়ে সিইও দফতর থেকে সরকারের সঙ্গে কোনও রকম পরামর্শ করা হয়নি। আগে থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানোও হয়নি। স্বরাস্ট্র সচিব অনুরোধ করেছেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে যেন ভুল তথ্যের অবসান ঘটানো হয় । চিঠির সঙ্গে সংবাদপত্রের কাটিংও সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিইও দফতর বাংলায় এসআইআর নিয়ে সরাসরি ঘোষণা না করলেও জানিয়েছিল, তারা যে কোনও কিছুর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু রাজ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এখনই তা সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, নবান্নের চিঠির পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে সিইও অফিসও। সেখানে জানানো হয়েছে, বিহারের এসআইআর-এর সময় প্যারা ১০-এ সব রাজ্যে এসআইআর হবে উল্লেখ করে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল, তাই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চরমে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, “এ সব বিজেপির নাটক। রাহুল গান্ধী ভোট চুরির তথ্য দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের আগে তার জবাব দেওয়া উচিত।” লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য সাংসদরা শুক্রবার সংসদের বাইরে এই ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী: বুদ্ধ-পথেই রবীন্দ্র স্মরণ বামযুবদের!

পাল্টা বাংলার প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করতে দুই ডব্লুবিসিএস আধিকারিকসহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল। শুক্রবার সেই নিয়ে রাজ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয় রাজ্যের কাছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন কোনও আধিকারিকের গায়ে হাত দিতে দেবেন না তিনি। অতয়েব কমিশনের এই চিঠির পরে রাজ্য-কমিশন সংঘাত কোন দিকে বাঁক নেবে, তা সময়ের সঙ্গেই প্রকাশিত হবে।

–

–
–
–
–
–
–
–
