Tuesday, June 16, 2026

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী: বুদ্ধ-পথেই রবীন্দ্র স্মরণ বামযুবদের!

Date:

Share post:

নির্বাচনের আগে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে অত্যাচারে সরব বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। যে বামেরা শ্রমিকস্বার্থ রক্ষার কথা বলে বাংলায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেছিল, কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের রাজ্যের মানুষের জন্য প্রতিবাদের জোরালো স্বরে চাপা পড়ে গিয়েছে বামেদের প্রতিবাদ। শুধুমাত্র বাংলাভাষা বলার জন্য অত্যাচারিত পরিযায়ী শ্রমিকদের ভুলতে বসা বামেরা রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদের জেরে জেগে উঠে বিক্ষোভ ও অন্যান্য কর্মসূচির পথে এসেছে। সেই সময়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharya) প্রথম প্রয়াণ বার্ষিকীকে ভাষা আন্দোলনের পথ হিসাবে কাজে লাগালো বামেরা।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজের সৃজনশীল মানসিকতার জন্য অন্যান্য বাম নেতাদের থেকে অন্য স্থান অর্জন করেছিলেন আমৃত্যু। রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়াঁ কবি বলা বাম চিন্তাভাবনায় নতুন ধারণার মিশ্রণ ঘটাতে পেরেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেই বামনেতার সাহিত্যকেই তাঁর স্মরণে কাজে লাগালো বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই (DYFI)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা হল, যেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) গান – শেষ নাহি যে-র কয়েকটি পংক্তি আবৃত্তি করেছিলেন। কার্যত বিধ্বস্ত বামেদের উজ্জ্বীবিত করতে বুদ্ধদেবের সেই আবৃত্তি বামেরা নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ হিসাবে তুলে ধরেছে।

যেভাবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের ইস্য়ুকে আঁকড়ে ধরে ফের সোজা হতে চাইছে নুইয়ে পড়া সিপিআইএম (CPIM), সেভাবেই কোণঠাসা যুবকর্মীদেরও শক্তি যোগানোর চেষ্টায় ফুটে উঠেছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharya)। ডিওয়াইএফআই এই বক্তব্য তুলে ধরে কী প্রমাণ করতে চেয়েছে – তারা চোখের সামনে ফুরিয়ে গেলেও বাস্তবে ফোরায়নি, প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। সেই সঙ্গে বাংলা ভাষা, বাঙালির অস্মিতা রক্ষার লড়াইয়ে ডিওয়াইএফআই-ও যে রয়েছে তা বুদ্ধদেবের রবীন্দ্র অনুরাগ দেখানোর মধ্যে দিয়েই ফের একবার প্রমাণ করার মরিয়া লড়াই বামযুবদের।

আরও পড়ুন: ‘বন্ধু’কে চিনতে ভুল! বিরাট আর্থিক খেসারত দিতে হবে ভারতকে

শুক্রবার রাজ্য সিপিআইএম-এর তরফ থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মরণ বক্তব্য-সভার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র। পাশাপাশি ডিওয়াইএফআই-এর তরফ থেকে প্রতিনিধিদল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

Related articles

ত্রাণের আড়ালে আপত্তিকর সামগ্রী? অনন্যার কার্যালয় ভাঙচুর করে চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপির

১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি আদৌ সাধারণ মানুষের কাজের জন্য নাকি অন্য কোনও...

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে স্কুলগুলোকে ছবি পাঠানোর ফতোয়া, নজরদারির অভিযোগে সরব শিক্ষক মহল

শিক্ষাঙ্গনে এবার নয়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হলো জোর বিতর্ক। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে...

নিয়োগ মামলা: ইডি দফতরে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্তে সহযোগিতার বার্তা অভিষেকের

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেকের সিজিও...

নারী-বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ! কল্যাণের বরখাস্ত চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলির

লোকসভার অন্দরেই এবার সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন দুই বর্ষীয়ান সাংসদ। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারী-বিরোধী মন্তব্য ও...