ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্ক লাগু করার চাপ কীভাবে সামলানো হবে, হিসাব কষতে ব্যস্ত মোদি সরকারের অর্থ মন্ত্রক। আর সেই সুযোগেই ভারতের চাপ বাড়িয়ে বারবার নিজেদের শুল্কের (tariff) জন্য আমদানি কত বাড়ছে, ঘটা করে পোস্ট করে চলেছে আমেরিকা। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) ছাতি চওড়া করে দাবি করছে, দেশের অর্থনীতিকে সামলে নেওয়ার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। কিন্তু কীভাবে? সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর তারা দিতে পারছেন না। তারই মধ্যে ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। নতুন করে রাশিয়ার সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে ভারত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ইতিমধ্য়েই প্রশ্ন তুলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে এত বন্ধুত্বের পরেও কেন এত বড় আঘাত পেতে হল ভারতকে? এই সব কিছুর মধ্য়ে ভারতের আয়ে বড়সড় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

শেষ কয়েক বছরে ভারত ও আমেরিকার সুসম্পর্কের জেরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য বেড়েছে ভারতের। ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস থেকে ধাতু, কাঁচের জিনিস এমনকি বিমানও আমেরিকাকে বিক্রি করে ভারত। ২০২৪ সালের হিসাব অনুসারে ভারত বার্ষিক প্রায় ৯ হাজার ১৪০ কোটি ডলারের ব্যবসা আমেরিকার (USA) সঙ্গে করেছে। এবার এই বিপুল পরিমাণ সামগ্রীর উপর বসল ৫০ শতাংশ শুল্ক (tariff)। বুধবার এই ঘোষণা হওয়ার পরে শুক্রবার থেকে ক্রমশ নিম্নমুখি শেয়ার বাজার।
পরিস্থিতি মেরামতিতে ব্রিকস (BRICS) দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ভারত। চিন যেমন মার্কিন শুল্ক নীতির সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে বাণিজ্য বাড়াতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) রাশিয়া গিয়েছেন পুতিনের সঙ্গে নতুন করে নিরাপত্তা খাতে বাণিজ্য বাড়াতে। তবে তাতে আমেরিকার সঙ্গে ৯ হাজার ১৪০ কোটির ব্যবসা ফেরানোর কী পরিকল্পনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, আমেরিকার প্রভাবেই তিন বছর আগে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়েছিল ভারত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার থেকে মাত্র ১ শতাংশ জ্বালানি তেল কিনত ভারত। সেই তেলের পরিমাণ বর্তমানে বেড়ে ২০ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন রাষ্ট্রপতি দ্বিতীয় বারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরই আবার রাশিয়ার সঙ্গে অন্যান্য বাণিজ্যও বাড়িয়েছে ভারত। সেই তালিকায় ইলেক্ট্রনিক্স দ্রব্য থেকে ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্যও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সিলেক্ট কমিটির চাপ: ঘটা করে পেশ করা আয়কর বিল প্রত্যাহার কেন্দ্রের

তবে সাকুল্যে ভারত থেকে রাশিয়ায় (Russia) যে বাণিজ্য হয় ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী তা ৪৮৪ কোটি ডলারের। যার সঙ্গে ৯ হাজার ১৪০ কোটি ডলারের ব্যবসার কোনও তুলনাই হয় না। এই ৮ হাজার ৭০০ কোটির ব্যবসা অনিশ্চয়তার মুখে পড়লে তা কীভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কে সামলানো যাবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। পহেলগাম হামলার পরবর্তীতেও যে দেশগুলিতে ভারতের প্রতিনিধিরা পাকিস্তান বিরোধী প্রচারে গিয়েছিলেন, তাদের থেকে সমর্থনের প্রশ্নে বড়সড় শূন্য পেয়েছেন মোদি। সেখানেই আমেরিকার সঙ্গে উপর থেকে যে সুসম্পর্ক দেখানো হয়েছে, তাও যে কত বড় বিগ জিরো ছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে।

–

–
–
–
–
–
–
–
