Tuesday, June 16, 2026

দিল্লিতে সময় নষ্ট! বাবা-মায়ের ‘প্রচার বাণিজ্যে’ কোথায় অভয়ার সম্মান, প্রশ্ন তৃণমূলের

Date:

Share post:

বিচার চাই! কলকাতা শহরকে স্তব্ধ করে মাসের পর মাস আন্দোলনের নামে কর্মবিরতি, রাজনীতির খেলা চলেছে। সিবিআই তদন্তে সেই অপরাধীকেই যাবজ্জীবনের সাজা শোনানো হয়েছে যাকে কলকাতা পুলিশ অপরাধী হিসাবে কাঠগড়ায় তুলেছিল। সিবিআই (CBI) তার ফাঁসির সাজা করাতে পারেনি আদালতের বিচারে। তাই দিল্লির (Delhi) দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আর জি করের মৃত চিকিৎসক তরুণীর বাবা-মা। আর সেখানেও ‘মনের মতো’ উত্তর না পেয়ে বলছেন দিল্লিতেও তাঁদের কথা কেউ শুনল না। অথচ মেয়ের মৃত্যুর এক বছর পরে তারা অভিযান চালাচ্ছেন নবান্ন-র (Nabanna) দিকে। তাও আবার রাজনৈতিক দলের হাত ধরে। সেই রাজনৈতিক দল যাদের নেতারা দিল্লিতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আবার তাঁদের রাজনীতির মুখোশ দেখে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তাঁদের সঙ্গে একসময়ে হাত মিলিয়ে চলা চিকিৎসক সমাজ। আদতে যে বর্ষপূর্তি ও নবান্ন অভিযান মৃত চিকিৎসকের নাম নিয়ে প্রচার বাণিজ্য, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হল শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

মেয়ের মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন অভয়ার বাবা-মা। কিন্তু শাহ দেখা করেননি। সিবিআই প্রধানের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলেন। দাবি করতে চেয়েছিলেন শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় দোষী নয়। কিন্তু সিবিআই (CBI) তা মানেনি। তাতে তাঁদের প্রতিক্রিয়া, সময় নষ্ট হয়েছে। দিল্লির বিজেপি সরকার অভয়ার বাবা-মাকে রাজনৈতিকভাবে পকেটে ভরার যে রাজনীতি করার চেষ্টা চালিয়েছিল তাতে জল ঢেলে ‘নারী শক্তি সম্মান’ ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তবে এরপরেও নবান্ন অভিযানের পথ থেকে সরে আসার কোনও বার্তা তাঁরা দেননি।

তাতেই কার্যত স্পষ্ট তাঁদের উদ্দেশ্য। তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, রাম-বাম-শ্যামকে পাশে নিয়ে বর্ষপূর্তিতে প্রচার বাণিজ্যে অভয়ার পরিবার। তাতে আদৌ সম্মানিত হচ্ছেন অভয়া? সেখানে বাস্তবের ছয় চিত্র তুলে ধরে প্রচার বাণিজ্য প্রমাণ করে দেন তিনি। প্রথমত, ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীকে ধরেছে কলকাতা পুলিশ। দ্বিতীয়ত, বাবা মা ও সমালোচকরা কোর্ট থেকে সিবিআই এনেছে। তাদের তদন্তেও ওই লোকটা দোষী। দুর্নীতির তদন্ত আলাদা চলছে।

বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভয়ার বাবা-মা। সেই বিচারের গতি উল্লেখ করে তৃতীয় দাবি, বিচার হয়েছে পুরোদমে। অপরাধীর যাবজ্জীবন। অ্যাপিল হবে। কিন্তু বিচার হয়নি বলা যাবে না। সর্বোচ্চ শাস্তি কোনটা দেবেন, তা বিচারকের সিদ্ধান্ত। চতুর্থত, যাবজ্জীবন আনিয়েছে সিবিআই। কেন ফাঁসি আদায় হল না, দায় সিবিআই-র। এই সময়ে একাধিক কেসে রাজ্য পুলিশ ফাঁসির রায় আদায় করেছে।

আদালতের বিচারকে কার্যত উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পরিবার। সেখানেই কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, তিনটি কোর্ট সব দেখেছে। ট্রায়াল কোর্ট, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট। বাবা মায়ের হয়ে সেরা আইনজীবীরা ছিলেন। রামবাম ছিল। ক্ষমতা থাকলে ওই আইনজীবীদের দিয়ে বলান যে কোর্ট আপনাদের কথা না শুনে ভুল করেছে। উল্টে আপনারা উকিল বদলেছেন বারবার।

আরও পড়ুন: ভাষা সন্ত্রাসমুক্ত দেশ: কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে প্রার্থনা মুখ্যমন্ত্রীর

সবশেষে দিল্লি থেকেও খালি হাতে ফিরছেন তাঁরা। অথচ কলকাতায় এসে অভিযান করছেন নবান্ন-র বিরুদ্ধে। সেখানেই বাস্তবে অভয়ার সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, দিল্লির বড় নেতারা বাবা মার সঙ্গে দেখা করেননি। কারণ সারা দেশে এই কুকাজ হয়েছে। বাবা মার অভিযোগ এখন সিবিআইর বিরুদ্ধে। অথচ তাঁরা বিজেপির সঙ্গে নবান্ন অভিযান করবেন। আজব! তদন্ত সিজিওতে (CGO)। কেন্দ্রের হাতে। অভিযান নবান্নতে (Nabanna)। এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটকে কি মৃত অভয়া সম্মানিত হচ্ছে? নাকি অভয়ার দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দার নাটকে যেভাবে বাবা মা জড়াচ্ছেন, তাতে তাঁদের সম্মান, আবেগও আহত হচ্ছে?

Related articles

যোগ দিবসের প্রস্তুতির জের, আজ থেকে বন্ধ সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্র-জঙ্গল সাফারিও!

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day) উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Natendra Modi)। রেড রোডে সাত...

গ্রেফতার তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা মইদুল

আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের (TMC) শিক্ষক সংগঠনের নেতা মইদুল ইসলামকে (Maidul Islam)। ঘটনা ২০২২ সালের।...

ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ডরমিশন ক্যাথেড্রাল!

থামছে না রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ (Russia - Ukraine Conflict), সোমবার রাতভর হামলায় এবার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ল ইউক্রেনের রাজধানী...

স্পেনকে রুখে দিয়ে চোখে জল, ৪০ বছরের কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের জীবন অনুপ্রাণিত করবে আপনাকেও

স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করে ফেলা একটা দেশ আজ হইচই ফেলে দিয়েছে। হেভিওয়েট স্পেনকে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। বলা...