Friday, February 6, 2026

এখনও চুপ মোদি! শুল্ক লাগুর পরেও ভারত নিয়ে কুকথা ট্রাম্পের পারিষদদের

Date:

Share post:

পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময়ে বারবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ তিনি থামিয়েছিলেন। তখন চুপ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। জবাব দেয়নি তাঁর কোনও মন্ত্রকও। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক (tariff) লাগু করার পরেও ভারতকে নিয়ে কুকথা বলতে ছাড়ছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) মন্ত্রী থেকে পারিষদ। কেউ বলছেন ভারত উদ্ধত। কেউ বলছেন রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে আমেরিকাকে ফাঁদে ফেলেছে ভারত! কার্যত তাঁদের দাবি, আমেরিকা উঠতে বললে ভারতের ওঠা ও বসতে বললে বসার সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত ছিল। গোটা দেশকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার পরেও মার্কিন ঔদ্ধত্যকে এবারেও কোনও জবাব দিতে ব্যর্থ ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার।

সমস্ত সহ্যের মাত্রা অতিক্রম করে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা পিটার নাভারো (Peter Navarro) দাবি করলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আদতে ‘মোদির যুদ্ধ’ (Modi’s War)! এমনকি রাশিয়ার সবাই ভারতের বন্ধু নয়, এটাও শিখিয়ে দিতে শুরু করলেন নাভারো। ট্রাম্পের কথা না মানলে গোটা বিশ্বের কাছে ভারতকে বদনাম করার যেন নতুন খেলায় নেমেছেন মার্কিন আধিকারিকরা।

নাভারো দাবি করেন, যেভাবে রাশিয়ার থেকে তেল কিনে রাশিয়াকে যুদ্ধের রসদ যোগাচ্ছে ভারত, তাতে এটা পুতিনের নয়, মোদির যুদ্ধ। ভারত দাবি করে তারা সার্বভৌম (sovereignty) দেশ। তারা যে কোনও দেশ থেকে তেল কিনতে পারে। বাস্তবে ভারতের এই যুক্তির পরে কোনও যুক্তি না পেয়ে কুকথার রাজনীতি শুরু নাভারোর। তিনি বলেন, ভারত দাবি করে তারা বিশ্বের সবথেকে বড় গণতন্ত্র। তবে সেই গণতন্ত্রের মতো পদক্ষেপ নাও। গণতন্ত্রকে পাশে সরিয়ে রেখে স্বৈরাচারীদের সঙ্গে শুতে যাচ্ছে কেন?

তবে শুধুমাত্র নাভারো নয়। এবার ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলে মাঠে নেমেছেন মার্কিন কোষাগার পারিষদ স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)। তাঁর মুখে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের দরাদরির দাবি। বেসেন্ট দাবি করেন, রাশিয়ার তেলই শুধু নয়। সমস্যাটা আরও আগে থেকে শুরু। লিবারেশন ডে-র সময় থেকে ভারত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দরাদরি শুরু করেছিল। সেই সময় থেকেই ভারতের সঙ্গে আমেরিকার শুল্ক (US tariff) চুক্তি আটকে রয়েছে। আমরা কোনও চুক্তিতে যাইনি।

অর্থাৎ মার্কিন পারিষদ স্পষ্ট করে দিলেন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানো নিয়ে ভারত থেকে যতটুকু মার্কিন বিরোধিতা করা হয়েছিল, সেটা ভালোভাবে নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে বেসেন্ট স্পষ্ট করে দেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক জটিল। রাশিয়ার থেকে তেল (crude oil) কেনার ব্যাপারে ভারতই আমেরিকাকে ফাঁদে ফেলেছিল। হুমকির সুরে এটাও বলে রাখেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। দিনের শেষে আমরা আবার একসঙ্গে পথ চলতে পারি।

আরও পড়ুন: ভারতের অন্তত ৬ লক্ষ কোটির বাজারে ধাক্কা মার্কিন শুল্ক নীতির

আশ্চর্যের বিষয়, দুই মার্কিন রাজনীতিকের এত বড় কথার ২৪ ঘণ্টা পরেও ভারতের দিক থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হল না। আমেরিকার উপর পাল্টা শুল্ক বা আমদানি বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা। একটি বিবৃতিও জারি করলেন না নরেন্দ্র মোদি।

spot_img

Related articles

‘আরও বেশি আসন, আরও বেশি ভোট’, বিধানসভায় বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর

জনসভার মঞ্চ থেকে এতদিন যে দাবি করে আসছিলেন, এবার বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়েই বিরোধীদের চোখে চোখ রেখে সেই চ্যালেঞ্জ...

ফাইনালে দিল্লির স্বপ্নভঙ্গ, স্মৃতির ব্যাটেই WPL খেতাব জয় আরসিবির

আইপিএলের পর WPL, ফের খেতাব জয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর(RCB)। দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে WPL ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন স্মৃতি মান্ধানার আরসিবির(RCB)।...

এবার ‘কৃষক বন্ধু’-র তালিকায় ক্ষেতমজুরও! সেচের জল নিখরচায় দিতে বাজেটে বড় ঘোষণা রাজ্যের

রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর পর এবার ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্যও আর্থিক সুরক্ষার দরজা খুলে দিল নবান্ন।...

অন্তর্বর্তী বাজেট: ডুমুরজলায় স্পোর্টস সিটি, বারুইপুরে কালচারাল সিটি! উন্নয়নে বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের

খেলার মাঠ থেকে অভিনয়ের মঞ্চ— রাজ্যের পরিকাঠামোয় আমূল বদল আনতে বড়সড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। হাওড়ার ডুমুরজলায় প্রস্তাবিত...