হাসিখুশি আর আনন্দে জীবন কাটানোর ইচ্ছে মানুষের আয়ু অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ব্যস্ত রুটিনে এসবের মাঝে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ‘অবসাদ’ শব্দটা। যার আগমনের কোনও বয়স বা সময় নেই, সাধারণ মানুষ বা সেলিব্রিটির মধ্যে কোন ভাগাভাগি নেই। ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে (World Mental Health Day) তাই নিজের অবসাদগ্রস্ত অতীত আর আত্মহত্যা প্রবণতার কথা মনে করালেন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone)। গত দশ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যের সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলিউড নায়িকা। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশে পৌঁছে নিজের ফাউন্ডেশন Live Love Laugh-এর এক দশক পূর্তির মুহূর্তে অভিনেত্রী আরও একবার নিজের জীবনের কঠিন সময়ের লড়াইকে তুলে ধরলেন সকলকে অনুপ্রাণিত করার জন্য।

বিনোদন জগতের (Entertainment industry) অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়াটা নতুন কিছু নয়। দীপিকাও সেই চরম পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। একদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙ্গা গড়া অন্যদিকে ক্যারিয়ারে বিপর্যয় তাঁকে একাকীত্ব আর অবসাদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু জীবনের সেই লড়াই জয় করতে পেরেছেন ‘পাঠান’ গার্ল। নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করে Live Love Laugh ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গেছেন এক মুঠো আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। দীপিকার এই সফর তাঁর আত্ম উপলব্ধির কথাও বলে। তাইতো দশ বছর আগের ফেলে আসা সময়কে তিনি আজও ভোলেননি। বরং সেই মুহূর্ত থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতাকে রসদ করে আজ হাজার হাজার মানুষের ভালো থাকার ব্লুপ্রিন্ট করে তুলেছেন। দীপিকা জানেন, লড়াই করা মানে শুধুমাত্র অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, কখনও কখনও একাকিত্বের নীরবতাও যুদ্ধ জয়ের সোপান তৈরি করে।


বলিউড বিনোদন জগতের অন্যতম সুপারস্টার অভিনেত্রীর কথায়, “আমি বহু স্তরে এই লড়াই করেছি। এটা আমার কাছে নতুন কিছু নয়। পারিশ্রমিক নিয়েও আমাকে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যার নামও আমি জানি না কী দেব। কিন্তু আমি এমন মানুষ, যিনি নিজের লড়াই, নিজের মতো করে লড়ে গিয়েছি, নিঃশব্দে। কোনওভাবে যদি কখনও সেটা প্রকাশ্যে আসে, সেটা কখনও আমার উদ্দেশ্য থাকে না। আমি যেমন বড় হয়েছি, তাতে মর্যাদা আর নীরব লড়াইয়ের মধ্যেই শক্তি খুঁজে পাই।” দীপিকা জানেন কাজের মধ্যেই ভালো থাকার সব উপকরণ লুকিয়ে থাকে। একটা সময় যিনি নিজের জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন, আজ তিনি মাতৃত্বের প্রত্যেকটা সুন্দর মুহূর্ত উপলব্ধি করতে করতে জীবনের উজ্জ্বল দিক সকলের সামনে তুলে ধরতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। Live Love Laugh-এর দশম বর্ষপূর্তিতে নীরব, নিস্তব্ধতার মাঝে অন্তর থেকে ভালো থাকার শক্তিশালী গর্জনের মাধুর্য বুঝিয়ে দিলেন বলিউডের ‘পদ্মাবতী’।


–

–

–

–

–
–
–
–

