Wednesday, March 25, 2026

চন্দননগর নয়! কোথা থেকে সূচনা বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর? জানুন ইতিহাস 

Date:

Share post:

জগদ্ধাত্রী পুজোর নাম উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গঙ্গাপাড়ের শহর চন্দননগরের ছবি—চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা, সুবিশাল প্রতিমা আর অসংখ্য দর্শনার্থীর ঢল। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই পুজোর গোড়াপত্তন আসলে হয়েছিল নদিয়ার কৃষ্ণনগরে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে। জগদ্ধাত্রী পুজোর বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরলেন কৃষ্ণনগর বউবাজার বারোয়ারী কমিটির সম্পাদক অনুপম পাল। সঙ্গে তুলে ধরলেন মা মহেশ্বরী জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাসও।

ইংরেজ শাসনের সময়ে নবাব মিরকাশিম যখন বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে ব্রিটিশপন্থী রাজাদের বন্দি করেছিলেন, সেই তালিকায় ছিলেন কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও তাঁর পুত্রও। বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে কৃষ্ণচন্দ্র জানতে পারেন, দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই শেষ। মন খারাপ হয়ে যায় তাঁর। সেই সময়ই কথিত আছে, দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাঁকে জগদ্ধাত্রী রূপে পুজোর নির্দেশ দেন। দেবীর আদেশ অনুযায়ী রাজা শুরু করেন এই নতুন পুজো, যা পরবর্তীকালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির চার দেওয়াল পেরিয়ে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭৬৩-৬৪ সালের দিকেই জলঙ্গী পাড়ে প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয়।

অন্যদিকে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয় কিছু বছর পর। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ফরাসি দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ রায় তাঁর নিজের বাড়িতে দেবীর পুজো শুরু করেন। আরেকটি মত অনুযায়ী, কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান দাতারামের বিধবা কন্যা ভদ্রেশ্বরের তেঁতুলতলায় রাজার অনুমতি নিয়ে প্রথম পুজোর সূচনা করেন। সেই পারিবারিক পুজোই পরে সর্বজনীন হয়ে ওঠে। আজ সেই চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোই রাজ্যজোড়া খ্যাতি পেয়েছে। কারণ শুধু দেবী আরাধনা নয়, এখানে পুজো মানে আলোর উৎসব। আলোকসজ্জার জগৎখ্যাত নৈপুণ্য, রঙিন ঝলক আর শিল্পসম্মত প্রতিমা—সব মিলিয়ে চন্দননগরের পুজো এখন আন্তর্জাতিক আকর্ষণের কেন্দ্র। তবুও ইতিহাস বলছে, জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রথম আলোর শিখা জ্বেলেছিল কৃষ্ণনগরের রাজবাড়িতেই। সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরি আজও গর্বের সঙ্গে বলে—জগদ্ধাত্রী পুজো জন্মেছিল নদিয়ার মাটিতেই।

অন্যদিকে কৃষ্ণনগর বউবাজার এলাকার মা মহেশ্বরী জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন যেহেতু মা জগদ্ধাত্রী মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী সেইখান থেকেই নাম এসেছে মা মহেশ্বরী। রাজবাড়ীর প্রথা আজও অপরিবর্তিত রেখেই পুজো হয়। রথের দিন হয় কাঠামোপুজো। জলঙ্গী নদীর মাটি এনে শুরু হয় প্রতিমা নির্মাণের কাজ। প্রথামতই পুজো এখানে একদিনই। অঞ্জলি দেওয়া থেকে বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ চলে সেদিন। দশমীতে বেয়ারাদের কাঁধে চেপে মায়ের বিসর্জন হয়।

আরও পড়ুন – নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সহজ জয়, কোন অঙ্কে বিশ্বকাপের সেমিতে ভারত?

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

কেমন আছেন সোনিয়া গান্ধী: রাতে হাসপাতালে প্রিয়াঙ্কা

রাজ্যসভার সাংসদ তথা কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) মঙ্গলবার রাতে আচমকা অসুস্থ হয় পড়ায় তাঁকে...

ভোটের আগে ২৩টি কমিটি-পর্ষদের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা মুখ্যমন্ত্রীর

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিয়ম মেনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, কমিটি ও পর্ষদের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা...

‘গোটা রাজ্য’ অ্যাডজুডিকেশনে! রাজ্যের মানুষের রক্তচাপ বাড়িয়ে নতুন ‘খেলা’ কমিশনের

নির্বাচন কমিশন চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া যেভাবে এআই এবং কমিশনের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ক্ষমতার দ্বারা পরিচালিত করছে তাতে গোটা...

বিরোধীদের তীব্র আপত্তি উড়িয়ে লোকসভায় পাশ রূপান্তরকামী সংশোধনী বিল

প্রবল বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ হয়ে গেল রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬। সংশোধিত এই বিল...