Thursday, February 12, 2026

গণহত্যার নির্দেশ দিইনি: মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক, বিবৃতি হাসিনার

Date:

Share post:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে হত্যা হয়েছিল তার নির্দেশ তিনি দেননি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়ের পরে বিবৃতি পেশ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina)। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আওয়ামী লিগের (Awami League) অস্তিত্ব মুছে ফেলতে এই রায় শোনানো হয়েছে। এই মামলায় তাঁর পক্ষে কোনও বক্তব্যই শোনা হয়নি দাবি করে আইসিটি-কেই (ICT) পক্ষপাতদুষ্ট অভিযোগ করেন হাসিনা। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, হেগে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান হাসিনা।

সোমবার বাংলাদেশের আইসিটি মৃত্যুদণ্ডের (death penalty) সাজা ঘোষণা করার পরে যে বিবৃতি প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা, তাতে কার্যত স্পষ্ট এই রায়ের অপেক্ষা তিনি করেছিলেন। এমন রায় হবে সেটাও তাঁর কাছে প্রত্যাশিত ছিল। রায়ের তিনি স্পষ্ট বিবৃতিতে দাবি করেন, জুলাই অগাস্ট আন্দোলনের সময় তাঁর প্রশাসন সর্বোতভাবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা রাখার। জীবনহানি যত সম্ভব কম করা সম্ভব হয়, তার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তাঁর প্রশাসনের কোনও গণহত্যার (massacre) নির্দেশ দেয়নি।

তা সত্ত্বেও আইসিটি (ICT) রায়ের সময়ে কোনও তথ্য পেশ করতে পারেনি, যাতে প্রমাণিত হয় তিনিই গুলি (firing) চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তথ্য হিসাবে যে অডিও ক্লিপ (audio clip) ও বক্তব্যের অংশ তুলে ধরা হয়েছে তা খণ্ডিত ও সেই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এমন প্রমাণ দেওয়া হয়নি। মামলায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের যে তদন্তের কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে বক্তব্য পেশ করা সরকারি কর্মীরা চাপের মুখে নিজেদের বয়ান দিয়েছিলেন। ফলে তা স্পষ্টতই আওয়ামী লিগের বিরোধী।

সেই সঙ্গে হাসিনা দাবি করেন, আন্দোলন চলাকালীন বাইরের শক্তির দ্বারা যেভাবে প্রভাব খাটানো হয়েছিল, তা নিয়ে কোনও তদন্ত হয়নি। উস্কানি সংক্রান্ত বিষয়গুলি এখনও তদন্তের বাইরেই রয়ে গিয়েছে। এই সব যুক্তি তুলে ধরেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (ICT) পক্ষপাতদুষ্ট (biased) দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই আদালত থেকে পূর্ববর্তী প্রশাসনের প্রতি নরম মনোভাব পোষণকারী বা তাঁদের সমর্থক সব বিচারপতিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে শুধুমাত্র আওয়ামী লিগের সদস্যদেরই বিচার হয়। ধর্মের কারণে অত্যাচারিত বা সংখ্যালঘু উৎপীড়িত, জনজাতি, সাংবাদিক – কারো বিচার এই আদালতে হয় না।

আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ আদালতের: ‘একপক্ষের শুনানি’তে একই সাজা আসাদুজ্জামানের

আদালতের রায়ের পরে ফের একবার হেগে (Hague) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (International Criminal Court) মহম্মদ ইউনূসকে (Mohammed Yunus) চ্যালেঞ্জ জানানোর বার্তা শেখ হাসিনার। যেখানে দেশের কোটি কোটি মানুষ নানাধরনের উৎপীড়নের শিকার, তার বিচার আইসিটি-তে করেন না ইউনূস। উপরন্তু সেই আদালত থেকে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মৃত্যুদণ্ডের মতো নক্কারজনক ঘোষণা করে তাঁরা প্রমাণ করেছেন নিজেদের নির্লজ্জ ও খুনে চরমমনোভাবের অভিসন্ধি যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের মধ্যে পোষণ করে এসেছে পূর্ববর্তী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লিগকে একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে মুছে ফেলতে।

spot_img

Related articles

উত্তর দেওয়ার আগে একবার যাচাই করলেন না! লোকসভায় অর্থমন্ত্রীর ভাষণে স্তম্ভিত অভিষেক

বাজেট বক্তৃতার জবাবী যে সব বক্তৃতা বিরোধী সাংসদরা দিয়েছেন, তার মধ্যে সব থেকে বেশি বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারকে যে...

বন্দেমাতরমে বঙ্কিম-রবীন্দ্র রাজনীতি বিজেপির: শ্রদ্ধা নেই, দাবি তৃণমূলের

বিজেপি বাঙালিদের প্রতি অতি শ্রদ্ধাশীল, আচমকাই দেশজুড়ে তা প্রমাণে মরিয়া মোদি সরকার। তা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাঙালির...

হিংসাত্মক আচরণ করলেই পরীক্ষা বাতিল, অ্যাডমিট কাড়বে সংসদ: কড়া নজরদারি উচ্চ মাধ্যমিকে 

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। শিক্ষাক্ষেত্রে বড় বদল ঘটিয়ে এই প্রথম সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা...

কোথায় বিচার: প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ আরজিকর নির্যাতিতার বাবা-মা

শিয়ালদহ কোর্ট থেকে হাই কোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টের সফরও সেরে ফেলেছেন। আরজিকরের নির্যাতিতার বাবা-মা। এখনও বিচারের আশায় হাই...